Dhaka ০১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত : বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:৩৬:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • / 13

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সামরিক সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়ে এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচার ২ দশমিক ৬৯ ডলার বা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৭৯ ডলারে দাঁড়ায়, যা ১১ জুনের পর সর্বোচ্চ। গত সপ্তাহেই ব্রেন্টের দাম ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছিল, যা এপ্রিলের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক উল্লম্ফন।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ১৯ ডলার বা ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ৬৮ ডলারে পৌঁছেছে। ১২ জুনের পর এটিও সর্বোচ্চ মূল্য। গত সপ্তাহে ডব্লিউটিআইয়ের দামও ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যা মার্চের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক উত্থান।

সপ্তাহান্তে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে কুয়েত ও বাহরাইনও নতুন করে ইরানি হামলার খবর জানিয়েছে।

উভয় পক্ষই নৌ চলাচলকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়েই সম্পন্ন হয়।

এদিকে সোমবার ভোরে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এজেন্সি জানিয়েছে, ওমানের কুমজারের উত্তর-পশ্চিমে একটি জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

বার্কলেজের বিশ্লেষক অমরপ্রীত সিং বলেন, পুনরায় আরোপিত দ্বিমুখী অবরোধের কারণে অঞ্চলটি থেকে তেল রপ্তানি কতটা স্বাভাবিক থাকবে, সে বিষয়ে আগামী কয়েক দিন ও সপ্তাহে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তাঁর মতে, সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটের ঝুঁকিকে তেলের বাজার এখনো পুরোপুরি মূল্যায়ন করেনি। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় বর্তমানে বৈশ্বিক তেলের মজুত আরও কমে গিয়ে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

এলএসইজির তথ্য অনুযায়ী, রোববার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র চারটি জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের দিনের আটটির তুলনায় অর্ধেক। একই সময়ে শুক্রবার থেকে অন্তত তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং একটি অতিবৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ তেল বোঝাইয়ের উদ্দেশ্যে প্রণালীতে প্রবেশ করেছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত : বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি

প্রকাশের সময় : ১১:৩৬:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সামরিক সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়ে এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচার ২ দশমিক ৬৯ ডলার বা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৭৯ ডলারে দাঁড়ায়, যা ১১ জুনের পর সর্বোচ্চ। গত সপ্তাহেই ব্রেন্টের দাম ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছিল, যা এপ্রিলের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক উল্লম্ফন।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ১৯ ডলার বা ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ৬৮ ডলারে পৌঁছেছে। ১২ জুনের পর এটিও সর্বোচ্চ মূল্য। গত সপ্তাহে ডব্লিউটিআইয়ের দামও ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যা মার্চের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক উত্থান।

সপ্তাহান্তে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে কুয়েত ও বাহরাইনও নতুন করে ইরানি হামলার খবর জানিয়েছে।

উভয় পক্ষই নৌ চলাচলকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়েই সম্পন্ন হয়।

এদিকে সোমবার ভোরে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এজেন্সি জানিয়েছে, ওমানের কুমজারের উত্তর-পশ্চিমে একটি জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

বার্কলেজের বিশ্লেষক অমরপ্রীত সিং বলেন, পুনরায় আরোপিত দ্বিমুখী অবরোধের কারণে অঞ্চলটি থেকে তেল রপ্তানি কতটা স্বাভাবিক থাকবে, সে বিষয়ে আগামী কয়েক দিন ও সপ্তাহে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তাঁর মতে, সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটের ঝুঁকিকে তেলের বাজার এখনো পুরোপুরি মূল্যায়ন করেনি। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় বর্তমানে বৈশ্বিক তেলের মজুত আরও কমে গিয়ে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

এলএসইজির তথ্য অনুযায়ী, রোববার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র চারটি জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের দিনের আটটির তুলনায় অর্ধেক। একই সময়ে শুক্রবার থেকে অন্তত তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং একটি অতিবৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ তেল বোঝাইয়ের উদ্দেশ্যে প্রণালীতে প্রবেশ করেছে।