Dhaka ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
নওগাঁ সদর থানার অভিযানে ৪৭ লিটার চোলাই মদসহ দুই মাদক কারবারি আটক জাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, মৌমিতা পরিবহনের ৬ বাস আটক কালীগঞ্জে বেড়েছে গরু চুরি, আতঙ্কে খামারিরা মাহি ছাড়াও যাদের উত্ত্যক্ত করতেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ মহাখালীতে পুরুষাঙ্গ কর্তনের পর যুবকের মৃত্যু, পরকীয়া প্রেমিকা আটক এইচএসসির প্রশ্ন কমন না পড়ায় কেন্দ্রে হুলুস্থুল, দলবেঁধে হামলা-ভাঙচুর স্বস্তির জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল বাংলাদেশ কোটচাঁদপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের ওপর উঠে গেল বাস, নিহত ৫ বাংলাদেশিদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিতের কারণ জানাল যুক্তরাষ্ট্র

চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলা রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দিতে পারে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৫:০৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • / 24

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন চিকিৎসকদের শুধু রোগ নিরাময় নয়, মানবিকতা, নৈতিকতা ও সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলা একজন রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দিতে পারে। তাই ওষুধের পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে আন্তরিক ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ-এর ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকের পেশা শুধু একটি চাকরি নয়, এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত একটি মহান সেবা। মানুষ যখন সবচেয়ে কঠিন সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন আল্লাহর পর একজন চিকিৎসকের ওপরই সবচেয়ে বেশি ভরসা করে।

তিনি বলেন, জীবনে শুধু গ্রহণ নয়, মানুষের জন্য কিছু করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। নিজের ব্যাংকিং জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, চাকরির শুরুতে প্রতি মাসে বেতনের একটি অংশ সমাজের মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে উৎসাহিত করা হতো। সেই শিক্ষা থেকেই তিনি উপলব্ধি করেছেন, মানুষের জন্য কাজ করার মধ্যেই প্রকৃত তৃপ্তি রয়েছে।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চিকিৎসকদের মধ্যে মেডিকেল ও নৈতিক মূল্যবোধ আরও জোরদার করতে হবে। রোগীদের ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সম্মানের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা প্রদান করলে তা রোগীর সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

তিনি বলেন, করোনা মহামারি, হাম পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক বন্যায় দেশের চিকিৎসকরা দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ছুটি উপেক্ষা করে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। চট্টগ্রামে বন্যার সময় গভীর রাতেও চিকিৎসকদের মাঠপর্যায়ে কাজ করার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটিই একজন চিকিৎসকের প্রকৃত দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার পরিচয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছেন। চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি জানান, একটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের আবেদনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক মাইক্রোস্কোপ সরবরাহ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা হাসপাতাল ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে আরও আধুনিক করা হবে। আগামী মাস থেকেই এ উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে। রাজধানী ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমিয়ে সারা দেশে সমমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঢাকা শহরের মানুষ যেমন মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে, তেমনি গ্রামের মানুষও একই মানের সেবা পাওয়ার দাবিদার। দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান মানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চিকিৎসকদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি সরকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তবে সেবাদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয়। চিকিৎসক হিসেবে সনদ অর্জনের পর থেকেই জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।

তিনি চিকিৎসকদের সময়নিষ্ঠা, পেশাগত নৈতিকতা ও মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এসব গুণাবলি বজায় থাকলে দেশের মানুষের কাছে চিকিৎসকরা আরও সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয় হয়ে উঠবেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলা রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দিতে পারে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৫:০৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন চিকিৎসকদের শুধু রোগ নিরাময় নয়, মানবিকতা, নৈতিকতা ও সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলা একজন রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দিতে পারে। তাই ওষুধের পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে আন্তরিক ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ-এর ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকের পেশা শুধু একটি চাকরি নয়, এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত একটি মহান সেবা। মানুষ যখন সবচেয়ে কঠিন সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন আল্লাহর পর একজন চিকিৎসকের ওপরই সবচেয়ে বেশি ভরসা করে।

তিনি বলেন, জীবনে শুধু গ্রহণ নয়, মানুষের জন্য কিছু করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। নিজের ব্যাংকিং জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, চাকরির শুরুতে প্রতি মাসে বেতনের একটি অংশ সমাজের মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে উৎসাহিত করা হতো। সেই শিক্ষা থেকেই তিনি উপলব্ধি করেছেন, মানুষের জন্য কাজ করার মধ্যেই প্রকৃত তৃপ্তি রয়েছে।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চিকিৎসকদের মধ্যে মেডিকেল ও নৈতিক মূল্যবোধ আরও জোরদার করতে হবে। রোগীদের ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সম্মানের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা প্রদান করলে তা রোগীর সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

তিনি বলেন, করোনা মহামারি, হাম পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক বন্যায় দেশের চিকিৎসকরা দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ছুটি উপেক্ষা করে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। চট্টগ্রামে বন্যার সময় গভীর রাতেও চিকিৎসকদের মাঠপর্যায়ে কাজ করার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটিই একজন চিকিৎসকের প্রকৃত দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার পরিচয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছেন। চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি জানান, একটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের আবেদনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক মাইক্রোস্কোপ সরবরাহ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা হাসপাতাল ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে আরও আধুনিক করা হবে। আগামী মাস থেকেই এ উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে। রাজধানী ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমিয়ে সারা দেশে সমমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঢাকা শহরের মানুষ যেমন মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে, তেমনি গ্রামের মানুষও একই মানের সেবা পাওয়ার দাবিদার। দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান মানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চিকিৎসকদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি সরকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তবে সেবাদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয়। চিকিৎসক হিসেবে সনদ অর্জনের পর থেকেই জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।

তিনি চিকিৎসকদের সময়নিষ্ঠা, পেশাগত নৈতিকতা ও মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এসব গুণাবলি বজায় থাকলে দেশের মানুষের কাছে চিকিৎসকরা আরও সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয় হয়ে উঠবেন।