কালীগঞ্জে বেড়েছে গরু চুরি, আতঙ্কে খামারিরা
- প্রকাশের সময় : ১২:০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
- / 4
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় সম্প্রতি একের পর এক গরু চুরির ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কৃষক ও খামারিরা। গত কয়েক দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত সাতটি গরু চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এখনো চোরচক্রের সদস্যদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ইশ্বরবা, মেগুরখির্দা, বেথুলী, মনোহরপুর ও বলিদাপাড়া গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ চোরচক্র চুরি করা গরু ঝিনাইদহ-খুলনা মহাসড়ক ব্যবহার করে পিকআপ ও ট্রাকে করে দ্রুত অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে।
১১ জুলাই দিবাগত রাতে বলিদাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলামের গোয়ালঘর থেকে দুটি গাভী ও একটি বাছুরসহ তিনটি গরু চুরি হয়। একই রাতে মেগুরখির্দা গ্রামের এক খামারির একটি গরু চুরির ঘটনাও ঘটে। এর আগে ৯ জুলাই ইশ্বরবা গ্রামের আইয়ুব হোসেনের গোয়ালঘর থেকে একটি গরু চুরি হয়। স্থানীয় একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে গরুটি একটি পিকআপে করে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগী খামারি রবিউল ইসলাম বলেন, “তিনটি গরুই ছিল আমার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। দুধ বিক্রি করেই সংসার চলত। এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল।”
খামারি আইয়ুব হোসেন বলেন, “অনেক কষ্ট করে গরু লালন-পালন করি। কিন্তু এক রাতে সব হারাতে হয়। এভাবে চলতে থাকলে গরু পালন ছেড়ে দিতে বাধ্য হব।”
স্থানীয়দের দাবি, গরু চুরি রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং সংঘবদ্ধ চোরচক্রকে আইনের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় এলাকার গবাদিপশু পালন ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জেল্লাল হোসেন বলেন, “গরু চুরির ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”



















