জবি শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ, সাংবাদিকসহ আহত ১৩
- প্রকাশের সময় : ১২:১৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
- / 22
পুরান ঢাকার মুরগিটোলা মোড় এলাকায় পুলিশের সাথে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এতে সাংবাদিক ও পুলিশসহ অনন্ত ১৩ জন আহত হয়েছে। আহতদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল ও রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে (সিপিএইচ) চিকিৎসা দেয়া হয়।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে আমার দেশে পত্রিকার রিপোর্টার ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লিমন ইসলাম ও দৈনিক সময়ের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি অপূর্ব রয়সহ অনন্ত ১০ জন আহত হন।
প্রতক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ল এন্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনস্ট্রেশন বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলামের বাসা থেকে জুতা চুরি অভিযোগ উঠে মাইকেল নামে স্থানীয় এক লোক বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজে মাইকেলকে সনাক্ত করা হয় এবং তাকে আটক করে রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়কজন শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা সবাই একত্রিত হয়ে মাইকেলকে ছাড়িয়ে দেয় এবং শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমন করে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকশো শিক্ষার্থী নিয়ে তাদের ওপর হামলাকারীদের খুঁজেতে আসেন এবং হামলাকারীরা একটি বাসায় আশ্রয় নেয়।
শিক্ষার্থীরা সেখানে হামলাকারীদের ধরার জন্য বাড়ি ঘেরাও করে রাখেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছালে শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণকারীকে প্রটেকশন দিয়ে বের করে নিয়ে আসেন। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আক্রমণকারীকে ছিনিয়ে নিতে চাইলে পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে।শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে এবং এতে অন্তত ৮ জন আহত হন।
ঘোটনর বর্ণনা দিয়ে আহত সাংবাদিক দৈনিক সময়ের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি অপূর্ব রয় বলেন, আমি ঘটনাটির ছবি তুলতে ছিলাম। এক পর্যায়ে এক পুলিশ সদস্য আমার ওপর লাঠিচার্জ শুরু করেন। এতে আমার পায়ে এবং শরীরে আঘাত লাগে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম ব্যাচের ল বিভাগের শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম বলেন, আমি শান্তিপূর্ণভাবে দাড়িয়ে ছিলাম কিন্তু পুলিশ আমাদের ওপর অর্তকিতভাবে হামলা করে। আমার মাথায় আঘাত লাগে এবং মাথা কেটে যাওয়ার কারনে ৩ টি সেলাই করতে হয়।
এ বিষয়ে জবি প্রক্টর অধ্যাপক ড নাসির উদ্দিন বলে, আমি বিষয়টি শুনেছি। আমার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর গায়ে এভাবে অন্যায়ভাবে পুলিশ লাঠিচার্জ করতে পারে না। আমরা এ বিষয় নিয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকতা সাথে কথা বলবো।
এ দিকে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় রাত ২:৩০ থেকে ৩:৩০ অব্দি মুরগিরটোলা মোড় সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে কয়েকশো গাড়ি আটকে তাকেন।
এ ঘটনার পরে মূল আসামি মাইকেল, আসিকুর রহমান আশিক কে আটক করে পুলিশ।
এ বিষয়ে ডেমরা জোনের এডিসি মীর মুহসীন মাসুদ বলেন, ঘটনার সূত্রপাত জুতা চুরিকে কেন্দ্র করে। আমরা মূল আসামিকে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের মাঝ থেকে বের করে নিয়ে আসি এবং এক পর্যায়ে পুলিশের হাত থেকে তাকে বের করে নিয়ে যায় শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিষ লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হোন। এতে পুলিশের ৫ জন সদস্য আহত হয়।
























