Dhaka ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
জাবিতে ছাত্রীদের গোপনে ছবি তোলা যুবদল নেতার বিরুদ্ধে শিশুধর্ষণসহ তিন ফৌজদারি মামলার তথ্য নিয়ামতপুরে ৪০০ লিটার চোলাই মদ তৈরির উপকরণসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী আর্জেন্টিনাকে হারানোর ছক ফাঁস করল কেপ ভার্দে ব্যারিস্টার ফুয়াদকে ‘উন্মাদ’ ছাড়া কী বলব : দুদু বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন ১ আগস্ট থেকে সুযোগ পেলেই ধাপে ধাপে জ্বালানির দাম কমানো হবে পানের বরজ থেকে ১২ কেজি ওজনের গাঁজা গাছ উদ্ধার, গ্রেফতার ১ মাদরাসা ছাত্রের নামে বরাদ্দের বাইসাইকেল নাতনিকে দিলেন জামায়াত নেতা! ভারতীয় ভিসা নিয়ে বিশেষ বার্তা হাইকমিশনের

জাবিতে ছাত্রীদের গোপনে ছবি তোলা যুবদল নেতার বিরুদ্ধে শিশুধর্ষণসহ তিন ফৌজদারি মামলার তথ্য

জাবি প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : ০১:৫৭:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / 6

জাবিতে ছাত্রীদের গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে আটক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে আগের তিন মামলার তথ্য

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দুই নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে আটক হয়ে পরে মুচলেকায় মুক্তি পাওয়া ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাইশাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দেবাশীষ চৌধুরীর বিরুদ্ধে পূর্বে তিনটি ফৌজদারি মামলা থাকার তথ্য সামনে এসেছে।

পুলিশি নথি অনুযায়ী, এসব মামলার মধ্যে একটি শিশু ধর্ষণের অভিযোগ, একটি চাঁদাবাজি, অবৈধ আটক ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এবং একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১০ জুন ঢাকা জেলার ধামরাই থানার মামলা নং-১১/১৭৯-এ দেবাশীষ চৌধুরীকে এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৭০, ৩৪২, ৩২৩, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৫০৬ ধারায় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা, অবৈধভাবে আটক রাখা, মারধর, ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়।

এছাড়া ২০১৮ সালের ৫ জুলাই ধামরাই থানায় দায়ের হওয়া মামলা নং-৮/২০৯-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১)/৩০ ধারায় তাকে এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে কৌশলে নিয়ে গিয়ে ইয়াবা সেবন করিয়ে ধর্ষণ করা হয়। সে সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, মামলা দায়েরের পর কয়েক দিন পর্যন্ত প্রধান আসামি পলাতক ছিলেন।

এ ছাড়া ২০১৩ সালের ২৬ জুন ধামরাই থানার মামলা নং-৪৮-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(গ)/৩০ ধারায়ও তাকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। ওই মামলাটি যৌতুক-সংক্রান্ত নির্যাতনের অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় দুই নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা দেবাশীষ চৌধুরীকে আটক করে। পরে তিনি লিখিতভাবে অভিযোগ স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন না—মর্মে মুচলেকা দিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে ছেড়ে দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, আটকের সময় তার কাছ থেকে দুটি বিয়ারের ক্যানও উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের একাংশ তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জাবিতে ছাত্রীদের গোপনে ছবি তোলা যুবদল নেতার বিরুদ্ধে শিশুধর্ষণসহ তিন ফৌজদারি মামলার তথ্য

প্রকাশের সময় : ০১:৫৭:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

জাবিতে ছাত্রীদের গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে আটক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে আগের তিন মামলার তথ্য

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দুই নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে আটক হয়ে পরে মুচলেকায় মুক্তি পাওয়া ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাইশাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দেবাশীষ চৌধুরীর বিরুদ্ধে পূর্বে তিনটি ফৌজদারি মামলা থাকার তথ্য সামনে এসেছে।

পুলিশি নথি অনুযায়ী, এসব মামলার মধ্যে একটি শিশু ধর্ষণের অভিযোগ, একটি চাঁদাবাজি, অবৈধ আটক ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এবং একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১০ জুন ঢাকা জেলার ধামরাই থানার মামলা নং-১১/১৭৯-এ দেবাশীষ চৌধুরীকে এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৭০, ৩৪২, ৩২৩, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৫০৬ ধারায় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা, অবৈধভাবে আটক রাখা, মারধর, ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়।

এছাড়া ২০১৮ সালের ৫ জুলাই ধামরাই থানায় দায়ের হওয়া মামলা নং-৮/২০৯-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১)/৩০ ধারায় তাকে এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে কৌশলে নিয়ে গিয়ে ইয়াবা সেবন করিয়ে ধর্ষণ করা হয়। সে সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, মামলা দায়েরের পর কয়েক দিন পর্যন্ত প্রধান আসামি পলাতক ছিলেন।

এ ছাড়া ২০১৩ সালের ২৬ জুন ধামরাই থানার মামলা নং-৪৮-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(গ)/৩০ ধারায়ও তাকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। ওই মামলাটি যৌতুক-সংক্রান্ত নির্যাতনের অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় দুই নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা দেবাশীষ চৌধুরীকে আটক করে। পরে তিনি লিখিতভাবে অভিযোগ স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন না—মর্মে মুচলেকা দিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে ছেড়ে দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, আটকের সময় তার কাছ থেকে দুটি বিয়ারের ক্যানও উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের একাংশ তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।