শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
রহস্যময় প্রেমিককে নিয়ে পার্টিতে হাজির মালাইকা, কে এই হর্ষ মেহতা আজ টিভিতে যা দেখবেন (৭ নভেম্বর ২০২৬) ১ লাখ ডলারের বেশি বিদেশি বিনিয়োগ পেল বাংলাদেশি ব্লু-টেক স্টার্টআপ সিকুয়া শাহরুখ খান: প্রেম নয়, পুরুষের চোখের জলও সুন্দর হতে পারে হাসান ইতিহাস গড়ার পর বাংলাদেশের ৩ উইকেট হারানোর অস্বস্তি তাসকিন-হাসানের ঝাঁজের পর তিন পেসার না খেলানোর আক্ষেপ বিয়ে ঘিরে ট্রল, রাশমিকাকে নিয়ে সুখে আছেন জানালেন বিজয় এআই প্রযুক্তির সুফল পেতে কিছু ঝুঁকি মেনে নেওয়া যায়: স্যাম অল্টম্যান রিয়ালকে জেতালেন ভালভার্দে, ফেনারবাচের কাছে হেরে গেল লিভারপুল মান্না ও নিশোর ‘খলনায়ক’, ৩০ বছরের ব্যবধানে একই নামে সিনেমার দুই প্রজন্ম

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে নারী-শিশুসহ ৮ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৪৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • / 88

কক্সবাজারের উখিয়ায় টানা ভারী বর্ষণের কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন।

রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসব ঘটনা ঘটে।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। পাহাড়ধসে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘর চাপা পড়ে। এতে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন। আহত হন আরও দুজন।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তিনজনের মরদেহ ও দুইজন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করেন।

এর কিছুক্ষণ পর রাত ১টা ৪৫ মিনিটে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ধসে সাত বছর বয়সী রোহিঙ্গা শিশু একরামের মৃত্যু হয়। সে মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। পরে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

সর্বশেষ রাত ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে চারজন নিহত হন। নিহতরা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩)। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।

উখিয়া উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রচার চালানো হচ্ছে এবং সবাইকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আরও দুই দিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে নারী-শিশুসহ ৮ জনের মৃত্যু

প্রকাশের সময় : ০৫:৪৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ায় টানা ভারী বর্ষণের কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন।

রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসব ঘটনা ঘটে।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। পাহাড়ধসে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘর চাপা পড়ে। এতে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন। আহত হন আরও দুজন।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তিনজনের মরদেহ ও দুইজন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করেন।

এর কিছুক্ষণ পর রাত ১টা ৪৫ মিনিটে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ধসে সাত বছর বয়সী রোহিঙ্গা শিশু একরামের মৃত্যু হয়। সে মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। পরে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

সর্বশেষ রাত ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে চারজন নিহত হন। নিহতরা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩)। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।

উখিয়া উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রচার চালানো হচ্ছে এবং সবাইকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আরও দুই দিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।