Dhaka ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সব নাগরিককে এক ডিজিটাল আইডির আওতায় আনতে চায় সরকার : রেহান আসিফ ৯ বছর পর মুক্তি মিলছে গাজীপুর সাফারি পার্কের দুই লেপার্ডের ডিআইজিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২৪ কর্মকর্তাকে বদলি সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পূর্বশর্ত : রাষ্ট্রপতি কানাডার উৎসবে সেরা অভিনেত্রী তুষি, ‘রইদ’ পেল তিন পুরস্কার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গুণী শিক্ষক হিসেবে সংবর্ধনা পাচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবার আহাজারি, ‘আমার বাচ্চা ফেরত দেন, আর কিছু চাই না’ এলপিজির দাম বাড়ল সাতদিন ধরে চলে ‘বরের মেলা’: সেজেগুজে থাকেন পাত্ররা, পছন্দ করে কিনে নেন কনেরা!

বাচ্চাদের দুধ খাওয়ায় কবুতরও, গলার ভেতরে রয়েছে বিশেষ গ্রন্থি

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৬:১৯:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / 130

কবুতরের বাচ্চার সুস্থ বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার জন্য প্রকৃতিতে রয়েছে এক বিস্ময়কর ব্যবস্থা। অনেকেই মনে করেন, শুধু স্তন্যপায়ী প্রাণীরাই দুধ উৎপাদন করে। কিন্তু বাস্তবে কবুতরও তাদের বাচ্চার জন্য এক ধরনের বিশেষ পুষ্টিকর তরল তৈরি করে, যা ‘ক্রপ মিল্ক’ (Crop Milk) নামে পরিচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রপ মিল্ক আসলে স্তন্যপায়ী প্রাণীর দুধ নয়। এটি কবুতরের গলার নিচে অবস্থিত খাদ্য সংরক্ষণকারী থলি বা ক্রপ (Crop)-এর অভ্যন্তরীণ আবরণ থেকে উৎপন্ন একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ নিঃসরণ। বাচ্চা ফুটে বের হওয়ার কয়েক দিন আগে থেকেই মা ও বাবা—উভয় কবুতরের দেহে এই বিশেষ খাদ্য তৈরি হতে শুরু করে।

ক্রপ মিল্কে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, চর্বি (ফ্যাট), খনিজ পদার্থ এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা সদ্যোজাত বাচ্চার রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, দ্রুত বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাচ্চা ডিম থেকে বের হওয়ার পর প্রথম প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন মা ও বাবা উভয় কবুতরই পালাক্রমে এই ক্রপ মিল্ক খাওয়ায়। এ সময় বাচ্চা সরাসরি বাবা বা মায়ের মুখের ভেতরে ঠোঁট প্রবেশ করিয়ে এই পুষ্টিকর তরল গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে ক্রপ মিল্কের সঙ্গে নরম ও আংশিক হজম হওয়া খাদ্য মিশিয়ে খাওয়ানো শুরু হয় এবং পরে বাচ্চা স্বাভাবিক খাদ্যে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।

জীববিজ্ঞানীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্রপ মিল্ক উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রোল্যাকটিন (Prolactin) নামের একটি হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই হরমোনের প্রভাবে স্ত্রী ও পুরুষ—উভয় কবুতরের শরীরেই সমানভাবে ক্রপ মিল্ক উৎপন্ন হতে পারে, যা প্রাণিজগতে তুলনামূলকভাবে বিরল একটি বৈশিষ্ট্য।

কবুতর ছাড়াও পৃথিবীর খুব অল্প কয়েকটি পাখি একই ধরনের পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন করে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্লেমিঙ্গো এবং সম্রাট পেঙ্গুইন (Emperor Penguin)। তবে এদের ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রক্রিয়া ও উপাদানে কিছু পার্থক্য থাকলেও মূল উদ্দেশ্য একটিই—সদ্যোজাত বাচ্চাকে জীবনের শুরুতেই প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করা।

প্রাণিবিজ্ঞানীরা মনে করেন, ক্রপ মিল্ক প্রকৃতির এক অসাধারণ অভিযোজন (Adaptation), যা বাচ্চা কবুতরের বেঁচে থাকা ও দ্রুত বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে পাখির প্রজনন ও আচরণবিষয়ক গবেষণায় ক্রপ মিল্ক একটি বিশেষ আগ্রহের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।

সূত্র: Cornell Lab of Ornithology

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বাচ্চাদের দুধ খাওয়ায় কবুতরও, গলার ভেতরে রয়েছে বিশেষ গ্রন্থি

প্রকাশের সময় : ০৬:১৯:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

কবুতরের বাচ্চার সুস্থ বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার জন্য প্রকৃতিতে রয়েছে এক বিস্ময়কর ব্যবস্থা। অনেকেই মনে করেন, শুধু স্তন্যপায়ী প্রাণীরাই দুধ উৎপাদন করে। কিন্তু বাস্তবে কবুতরও তাদের বাচ্চার জন্য এক ধরনের বিশেষ পুষ্টিকর তরল তৈরি করে, যা ‘ক্রপ মিল্ক’ (Crop Milk) নামে পরিচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রপ মিল্ক আসলে স্তন্যপায়ী প্রাণীর দুধ নয়। এটি কবুতরের গলার নিচে অবস্থিত খাদ্য সংরক্ষণকারী থলি বা ক্রপ (Crop)-এর অভ্যন্তরীণ আবরণ থেকে উৎপন্ন একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ নিঃসরণ। বাচ্চা ফুটে বের হওয়ার কয়েক দিন আগে থেকেই মা ও বাবা—উভয় কবুতরের দেহে এই বিশেষ খাদ্য তৈরি হতে শুরু করে।

ক্রপ মিল্কে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, চর্বি (ফ্যাট), খনিজ পদার্থ এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা সদ্যোজাত বাচ্চার রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, দ্রুত বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাচ্চা ডিম থেকে বের হওয়ার পর প্রথম প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন মা ও বাবা উভয় কবুতরই পালাক্রমে এই ক্রপ মিল্ক খাওয়ায়। এ সময় বাচ্চা সরাসরি বাবা বা মায়ের মুখের ভেতরে ঠোঁট প্রবেশ করিয়ে এই পুষ্টিকর তরল গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে ক্রপ মিল্কের সঙ্গে নরম ও আংশিক হজম হওয়া খাদ্য মিশিয়ে খাওয়ানো শুরু হয় এবং পরে বাচ্চা স্বাভাবিক খাদ্যে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।

জীববিজ্ঞানীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্রপ মিল্ক উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রোল্যাকটিন (Prolactin) নামের একটি হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই হরমোনের প্রভাবে স্ত্রী ও পুরুষ—উভয় কবুতরের শরীরেই সমানভাবে ক্রপ মিল্ক উৎপন্ন হতে পারে, যা প্রাণিজগতে তুলনামূলকভাবে বিরল একটি বৈশিষ্ট্য।

কবুতর ছাড়াও পৃথিবীর খুব অল্প কয়েকটি পাখি একই ধরনের পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন করে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্লেমিঙ্গো এবং সম্রাট পেঙ্গুইন (Emperor Penguin)। তবে এদের ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রক্রিয়া ও উপাদানে কিছু পার্থক্য থাকলেও মূল উদ্দেশ্য একটিই—সদ্যোজাত বাচ্চাকে জীবনের শুরুতেই প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করা।

প্রাণিবিজ্ঞানীরা মনে করেন, ক্রপ মিল্ক প্রকৃতির এক অসাধারণ অভিযোজন (Adaptation), যা বাচ্চা কবুতরের বেঁচে থাকা ও দ্রুত বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে পাখির প্রজনন ও আচরণবিষয়ক গবেষণায় ক্রপ মিল্ক একটি বিশেষ আগ্রহের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।

সূত্র: Cornell Lab of Ornithology