স্বামীর পরিচিত থেকে বাসায় যাতায়াত, সুযোগ বুঝে খুন
- প্রকাশের সময় : ০৫:১৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
- / 8
টাঙ্গাইল পৌর এলাকার শিবনাথপাড়ায় গৃহবধূ নাজমা আলম (৫১) হত্যাকাণ্ডের রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক মসজিদের মুয়াজ্জিন ও এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে লুট করা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন দেলদুয়ার উপজেলার মৃত মোতালেব সরকারের ছেলে ও একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেন (৪২) এবং স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকার (৪৫)।
মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.এস.এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়। তদন্তে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের সময় নিহত নাজমা আলমের গলার চেইন ও হাতের বালা লুট করা হয়েছিল। এ ঘটনায় প্রথমে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় মোশারফ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে মোশারফ হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত হাতুড়ি, লুট করা স্বর্ণালংকার এবং সিসিটিভির ডিভিআর উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার প্রমাণ নষ্ট করতে সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, মোশারফ হোসেন নিহতের স্বামী চিকিৎসক শফিউল আলম শাহীনের পরিচিত ছিলেন। সেই পরিচয়ের সূত্রে তিনি প্রায়ই ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়েই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেফতার দুই আসামিকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রোববার দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর শহরের শিবনাথপাড়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে চিকিৎসক শফিউল আলম শাহীনের স্ত্রী নাজমা আলমের হাত বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হয়। পরে তদন্তের একদিনের মধ্যেই এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।











