ট্রাম্পের পর হোয়াইট হাউসে কে, আলোচনায় কেন আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কোর্তেজ
- প্রকাশের সময় : ১০:৫০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 19
যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর হোয়াইট হাউসে কে বসবেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে সেই আলোচনা ধীরে ধীরে জোরালো হচ্ছে। সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের তালিকায় এখন বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছেন নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কোর্তেজ।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা এখনো দেননি ওকাসিও কোর্তেজ। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা, জনমত জরিপে অবস্থান এবং দেশজুড়ে তার জনপ্রিয়তা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, ট্রাম্প-পরবর্তী আমেরিকার নেতৃত্বে কি এই তরুণ নেত্রীকে দেখা যেতে পারে।
গত মে মাসে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রকফেলার মেমোরিয়াল চ্যাপেলে দেওয়া এক বক্তব্যে ওকাসিও কোর্তেজ বলেছিলেন, তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা কোনো পদ বা আসন পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রকে পরিবর্তন করা। সেই বক্তব্যের পর থেকেই তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।
এরই মধ্যে ডেমোক্র্যাটিক দলের পুরোনো নেতৃত্বের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষ এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ওকাসিও কোর্তেজের সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছে। অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার মতো ইস্যুতে প্রগতিশীলদের সাম্প্রতিক সাফল্যও তার পক্ষে কাজ করছে।
গত জুলাইয়ে ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ারের গ্রানাইট স্টেট পোলের সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন ওকাসিও কোর্তেজ। ইনস্টাগ্রামেই তার অনুসারী প্রায় এক কোটি। ফলে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতির দিক থেকেও তিনি বেশ এগিয়ে।
রাজনীতিতে ওকাসিও কোর্তেজের উত্থানও ছিল দ্রুত। ২০১৮ সালে নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে ১০ মেয়াদের কংগ্রেসম্যান জো ক্রাউলিকে হারিয়ে চমক দেখান তিনি। এর আগে ২০১৬ সালে বার্নি স্যান্ডার্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছিলেন।
সাবেক যোগাযোগ পরিচালক করবিন ট্রেন্টের মতে, ওকাসিও কোর্তেজ প্রচলিত রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ার হিসাব করে এগোননি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার সহজ যোগাযোগ এবং নিজের জীবন ও অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা অবস্থানই তার জনপ্রিয়তার বড় কারণ।
তবে ট্রাম্পের পর হোয়াইট হাউসে যাওয়ার পথ তার জন্য সহজ নয়। ডেমোক্র্যাটিক দলের মধ্যেই তাকে নিয়ে মতভেদ রয়েছে। প্রগতিশীল রাজনীতির কারণে তিনি যেমন শক্তিশালী সমর্থক তৈরি করেছেন, তেমনি মধ্যপন্থীদের একটি অংশের কাছ থেকে সমালোচনাও রয়েছে।
বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সঙ্গে প্রগতিশীলদের যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দক্ষিণ ক্যারোলিনার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক নির্বাচনী অঙ্গরাজ্যে এটি ওকাসিও কোর্তেজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
এ ছাড়া ২০২৮ সালের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে তাকে সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি হতে হতে পারে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন রো খান্না, কমলা হ্যারিস, পিট বুটিজিজ, গ্যাভিন নিউজম ও জন অসফ।
রিপাবলিকানদের আক্রমণও কমবে না। ডানপন্থী মহলে দীর্ঘদিন ধরেই ওকাসিও কোর্তেজকে উগ্র বামপন্থী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সম্প্রতি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিভাজন নিয়ে তার কিছু মন্তব্যকে কেউ কেউ মধ্যপন্থী অবস্থানের দিকে যাওয়ার কৌশল হিসেবেও দেখছেন।
তবে তার সামনে আরেকটি পথও খোলা রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে না গিয়ে নিউইয়র্ক থেকে সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার জন্য বেশি কার্যকর হতে পারে। এতে জাতীয় রাজনীতিতে আরও অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার ভিত্তিও শক্ত হবে।
তবু ২০২৮ সালের নির্বাচন এখনো অনেক দূরে। ওকাসিও কোর্তেজ প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। কিন্তু ট্রাম্প-পরবর্তী আমেরিকার সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনা যতই সামনে আসছে, ৩৬ বছর বয়সী এই কংগ্রেসওম্যানের নাম ততই জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত তিনি হোয়াইট হাউসের দৌড়ে নামবেন কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে ট্রাম্পের পর আমেরিকার নেতৃত্বে সম্ভাব্য পরিবর্তনের আলোচনায় আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কোর্তেজ যে অন্যতম আলোচিত নাম, তা স্পষ্ট।
সূত্র: গার্ডিয়ান





















