তন্ত্রমন্ত্রের ফাঁদ: স্বর্ণের কলসির লোভে গৃহবধূ খুন, তান্ত্রিক গ্রেফতার
- প্রকাশের সময় : ০৮:৪৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
- / 10
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে অর্ধপোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। স্বর্ণের কলসি ও পুতুল দেওয়ার প্রলোভনে ডেকে নিয়ে নাসিমা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় তান্ত্রিক ও কবিরাজ মো. সামশুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাত সাড়ে ৮টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোদাদাদ হোসেন এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, সোমবার ১ জুন সকাল ৭টার দিকে ভাতুড়িয়া এলাকার একটি নির্জন স্থানে অর্ধদগ্ধ অবস্থায় এক নারীর মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের গলায় রশির দাগ, পোড়ার চিহ্নসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, নিহত নাসিমা আক্তারের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণের কলসি ও স্বর্ণের পুতুল পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন সামশুল হক।
ঘটনার দিন নাসিমা প্রতিশ্রুত স্বর্ণ দেওয়ার জন্য চাপ দিলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান অভিযুক্ত। সেখানে তন্ত্রমন্ত্রের আচার পালনের কথা বলে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে এবং আলামত নষ্ট করতে নাসিমার বোরখায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তবে আগুন পুরোপুরি ছড়িয়ে না পড়ায় মরদেহের পেছনের অংশে দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন পাওয়া যায়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিহতের ১২ বছর বয়সী মেয়ের দেওয়া তথ্য, অর্থ লেনদেনের সূত্র এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে দ্রুত রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়।
অভিযুক্ত সামশুল হককে ঘটনার দিনেই গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। নাসিমার কাছ থেকে নেওয়া ৩০ হাজার টাকাও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, সামশুল হক দীর্ঘদিন ধরে অলৌকিক শক্তি ও গুপ্তধনের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করতেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার তথ্য পাওয়া গেছে।
গ্রেফতার সামশুল হক হরিপুর উপজেলার টেঙরিয়া মকবুলপাড়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে। নিহত নাসিমা আক্তার রানীশংকৈল উপজেলার রাউতনগর গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহর স্ত্রী।
পুলিশ জানায়, প্রায় ক্লুলেস অবস্থায় শুরু হওয়া এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



















