বিয়ের প্রস্তাবে মায়ের ‘না’, দেড় বছরের সন্তানকে আছাড় মেরে হত্যা করলো জিতেন্দ্র
- প্রকাশের সময় : ০৪:১১:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
- / 12
প্রেমের প্রস্তাব বা বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় নৃশংস প্রতিশোধের গল্প নতুন নয়। কিন্তু ভারতের উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদ জেলায় যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা বর্বরতার সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। মায়ের ওপর প্রতিশোধ নিতে মাত্র দেড় বছরের এক অবুঝ শিশুকে আছাড় মেরে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে ২৪ বছর বয়সী এক যুবকের বিরুদ্ধে। নিহত শিশুটির নাম আরভ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশি এনকাউন্টারে গুলিবিদ্ধ হয়ে গ্রেফতার হয়েছে অভিযুক্ত জিতেন্দ্র পাঠক ওরফে বিরাজ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আরভের মা রতি দেবী পারিবারিক বিবাদের কারণে তার স্বামী সুমিতের থেকে আলাদা থাকছিলেন। অভিযুক্ত জিতেন্দ্র পাঠক সম্পর্কে রতির স্বামীর আত্মীয় এবং পেশায় একজন মুদি দোকানদার। রতি যখন স্বামীর থেকে আইনিভাবে আলাদা হওয়ার (ডিভোর্স) প্রক্রিয়া শুরু করেন, তখন জিতেন্দ্র তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে।
এই আইনি প্রক্রিয়ার খোঁজখবর নেওয়ার উসিলায় রতির কাছাকাছি আসার চেষ্টা করে জিতেন্দ্র এবং একপর্যায়ে সে রতি দেবীকে ভালোবেসে ফেলে। এরপর সে বারবার রতিকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে থাকে। কিন্তু রতি দেবী প্রতিবারই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
গত ২৯ মে, রতি দেবী এবং তার মা পিঙ্কি দেবী আইনি পরামর্শ নেওয়ার জন্য শিকোহাবাদে গিয়েছিলেন। জিতেন্দ্র সেখানেও তাদের পিছু নেয় এবং আবারও রতিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। রতি আবারও তাকে সরাসরি ‘না’ বলে দেন।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়ে জিতেন্দ্রর মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম হয়। সে ধরে নেয়, রতি ও তার স্বামীর দেড় বছরের সন্তান আরভ-ই তাদের সম্পর্কের মূল বাধা। আরভ না থাকলে রতি হয়তো তাকে মেনে নেবে—এই ভয়ঙ্কর ও বিকৃত মানসিকতা থেকেই সে শিশুটিকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।
সিসিটিভিতে ধরা পড়ল পৈশাচিক বর্বরতা গত শনিবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ জিতেন্দ্র সুকৌশলে রতির বাড়িতে যায় এবং চকলেট কিনে দেওয়ার নাম করে ছোট্ট আরভকে কোলে তুলে বাইরে নিয়ে যায়। এরপর সে শিশুটিকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়।
সেখানকার একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে যা দেখা গেছে, তা দেখে শিউরে উঠেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারাও। ফুটেজে দেখা যায়, ২৪ বছরের এক যুবক ওই দেড় বছরের অবুঝ শিশুটিকে তুলে রাস্তার শক্ত পিচের ওপর বারবার আছাড় মারছে। ঘটনার পর রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় শিশুটিকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় জিতেন্দ্র। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা আরভকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই নৃশংস ঘটনার পর পুলিশ ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’-এর ১০৩(১) ধারায় একটি খুনের মামলা দায়ের করে এবং ঘাতক জিতেন্দ্রর খোঁজে তল্লাশি শুরু করে।
হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল জিতেন্দ্র। রবিবার গোপন সূত্রে পুলিশ খবর পায় যে, অভিযুক্ত মৈনপুরী রোডের কাছাকাছি কোথাও লুকিয়ে আছে এবং সেখান থেকে অন্য কোথাও পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
খবর পেয়েই পুলিশের একটি বিশেষ দল ওই এলাকাটি ঘেরাও করে। পুলিশ তাকে আত্মসমর্পণ করতে বললে জিতেন্দ্র উল্টো পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পুলিশের ছোড়া গুলি জিতেন্দ্রর পায়ে লাগে এবং সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এরপর পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। তার কাছ থেকে একটি দেশি পিস্তল ও বেশ কিছু কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
শহরের পুলিশ সুপার রবি শঙ্কর প্রসাদ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আমরা এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সংগ্রহ করছি। আদালতে দ্রুত চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। আমাদের লক্ষ্য থাকবে যাতে আদালত ঘাতক জিতেন্দ্র পাঠককে আইনের সর্বোচ্চ ও কঠোরতম শাস্তি দেয়।”
আপাতত পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে অভিযুক্ত জিতেন্দ্র। একটি নিষ্পাপ শিশুর এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে গোটা ফিরোজাবাদ এলাকায় শোক ও তীব্র ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে।


















