Dhaka ১০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে পাংশায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ২ কর্মদিবসে মিলবে মার্কিন অভিবাসী ভিসা বিসিবি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসছে আইসিসির প্রতিনিধি দল ঈদের ছুটি শেষে সোমবার খুলছে অফিস-আদালত-ব্যাংক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ট্রাম্পের সর্বশেষ অবস্থা জানাল হোয়াইট হাউস ভারতে মারা গেলেন হানিফ এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান মন্ত্রীকে ‘প্রিয় নবী’ বলায় সমালোচনায় ফেনী জেলা পরিষদ প্রশাসক কোটালীপাড়ায় বিএনপি নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ চামড়া শিল্পকে পরিপক্ক রফতানিমুখী করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী প্রজনন মৌসুমে তিন মাস বন্ধ থাকছে সুন্দরবন, খোলা থাকবে শুধু করমজল

রূপকথা নয়, সত্যি: ৭৮ তলা গভীর গুহা থেকে অলৌকিকভাবে ফিরলেন চার শ্রমিক

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৪২:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
  • / 7

প্লাবিত গুহার ঘন অন্ধকারে টানা ১১ দিন আটকে থাকার পর অবিশ্বাস্যভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন চার শ্রমিক। ক্ষুধা, তীব্র শীত, অক্সিজেনের ঘাটতি ও মৃত্যুভয়ের সঙ্গে লড়াই করে তারা নিজেরাই গুহা থেকে বেরিয়ে আসেন। তাদের এই অবিশ্বাস্য ফিরে আসার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেঁচে ফেরা শ্রমিকরা জানান, মৃত্যুভয় এবং পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষাই তাদের বেঁচে থাকার শক্তি জুগিয়েছিল।

গুহার যে চেম্বারে তারা আটকা পড়েছিলেন, সেখান থেকে গুহার মুখ পর্যন্ত দূরত্ব ছিল প্রায় ২৬০ মিটার, যা একটি ৭৮ তলা ভবনের উচ্চতার সমান। পথে কোথাও বুকসমান বরফশীতল পানি, কোথাও আবার এতটাই সংকীর্ণ সুড়ঙ্গ ছিল যে শ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল।

উদ্ধার হওয়া ২৩ বছর বয়সী মী সিংফামালাই বর্তমানে লং তিয়াং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, “ভেতরে প্রচণ্ড ঠান্ডা ছিল। আমরা কম্বল ছাড়াই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শরীর গরম রাখার চেষ্টা করেছি। পানি কিছুটা কমে গেলে একা থাকার ভয় থেকেই আমরা হামাগুড়ি দিয়ে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।”

তিনি জানান, অনেক জায়গায় পানির নিচ দিয়ে ডুব দিয়ে যেতে হয়েছে। আবার কিছু অংশে মানুষের শরীরের সমান সরু সুড়ঙ্গ পেরোতে হয়েছে ইঞ্চি ইঞ্চি করে।

জানা গেছে, দারিদ্র্যের কারণে সোনার সন্ধানে প্রথমবারের মতো লাওসের দুর্গম লং তিয়াং এলাকার একটি পাহাড়ি গুহায় প্রবেশ করেছিলেন মী ও তার সহকর্মীরা। তবে গুহায় ঢোকার পরপরই ভারী বর্ষণে গুহার ভেতর পানি ঢুকে তারা আটকা পড়েন।

মী জানান, পুরো সময় তারা মূলত গুহার পানি পান করেই বেঁচে ছিলেন। তিনি বলেন, “মা ও বোনদের মুখ দেখার ইচ্ছাই আমাকে বেঁচে থাকার শক্তি দিয়েছে। বাইরে এসে যখন মানুষের উল্লাস দেখেছি, মনে হয়েছে নতুন জীবন পেয়েছি।”

বেঁচে ফেরা আরেক শ্রমিক ল্যাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “দারিদ্র্য বড় ভয়ংকর। বেঁচে থাকার জন্যই আমাদের এত কঠিন লড়াই করতে হয়েছে।”

গুহা থেকে বের হওয়ার পর মীর জন্য প্রথম খাবার হিসেবে গরম জাউয়ের ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি এখনও শুধুমাত্র নরম খাবার খেতে পারছেন। অন্য দুই শ্রমিকও আঘাত পেলেও ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

তবে উদ্ধার অভিযান এখনো শেষ হয়নি। কারণ, ওই পাঁচ শ্রমিক গুহায় প্রবেশের আগেই আরও দুজন গ্রামবাসী অন্য একটি পথ দিয়ে একই গুহা ব্যবস্থায় ঢুকেছিলেন। গত ১১ দিন ধরে তারা নিখোঁজ রয়েছেন।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া অস্ট্রেলীয় ডুবুরি জশ রিচার্ডস জানান, বেঁচে ফেরা শ্রমিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গুহার আরও প্রায় ১০০ মিটার গভীরে একটি বড় বায়ুস্তর বা এয়ার পকেট রয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিরা জীবিত থাকলে সেখানে অবস্থান করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নতুন করে বৃষ্টিপাতের কারণে গুহার পানির স্তর আবারও বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান জটিল হয়ে উঠেছে।

আবার কখনও ওই গুহায় প্রবেশ করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মী সিংফামালাই বলেন, “কখনোই না। আমাকে যদি আবার সেখানে যেতে বলা হয়, সেটা হবে মৃত্যুদণ্ডের সমান।”

সূত্র: সিএনএন

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রূপকথা নয়, সত্যি: ৭৮ তলা গভীর গুহা থেকে অলৌকিকভাবে ফিরলেন চার শ্রমিক

প্রকাশের সময় : ০৮:৪২:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

প্লাবিত গুহার ঘন অন্ধকারে টানা ১১ দিন আটকে থাকার পর অবিশ্বাস্যভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন চার শ্রমিক। ক্ষুধা, তীব্র শীত, অক্সিজেনের ঘাটতি ও মৃত্যুভয়ের সঙ্গে লড়াই করে তারা নিজেরাই গুহা থেকে বেরিয়ে আসেন। তাদের এই অবিশ্বাস্য ফিরে আসার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেঁচে ফেরা শ্রমিকরা জানান, মৃত্যুভয় এবং পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষাই তাদের বেঁচে থাকার শক্তি জুগিয়েছিল।

গুহার যে চেম্বারে তারা আটকা পড়েছিলেন, সেখান থেকে গুহার মুখ পর্যন্ত দূরত্ব ছিল প্রায় ২৬০ মিটার, যা একটি ৭৮ তলা ভবনের উচ্চতার সমান। পথে কোথাও বুকসমান বরফশীতল পানি, কোথাও আবার এতটাই সংকীর্ণ সুড়ঙ্গ ছিল যে শ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল।

উদ্ধার হওয়া ২৩ বছর বয়সী মী সিংফামালাই বর্তমানে লং তিয়াং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, “ভেতরে প্রচণ্ড ঠান্ডা ছিল। আমরা কম্বল ছাড়াই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শরীর গরম রাখার চেষ্টা করেছি। পানি কিছুটা কমে গেলে একা থাকার ভয় থেকেই আমরা হামাগুড়ি দিয়ে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।”

তিনি জানান, অনেক জায়গায় পানির নিচ দিয়ে ডুব দিয়ে যেতে হয়েছে। আবার কিছু অংশে মানুষের শরীরের সমান সরু সুড়ঙ্গ পেরোতে হয়েছে ইঞ্চি ইঞ্চি করে।

জানা গেছে, দারিদ্র্যের কারণে সোনার সন্ধানে প্রথমবারের মতো লাওসের দুর্গম লং তিয়াং এলাকার একটি পাহাড়ি গুহায় প্রবেশ করেছিলেন মী ও তার সহকর্মীরা। তবে গুহায় ঢোকার পরপরই ভারী বর্ষণে গুহার ভেতর পানি ঢুকে তারা আটকা পড়েন।

মী জানান, পুরো সময় তারা মূলত গুহার পানি পান করেই বেঁচে ছিলেন। তিনি বলেন, “মা ও বোনদের মুখ দেখার ইচ্ছাই আমাকে বেঁচে থাকার শক্তি দিয়েছে। বাইরে এসে যখন মানুষের উল্লাস দেখেছি, মনে হয়েছে নতুন জীবন পেয়েছি।”

বেঁচে ফেরা আরেক শ্রমিক ল্যাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “দারিদ্র্য বড় ভয়ংকর। বেঁচে থাকার জন্যই আমাদের এত কঠিন লড়াই করতে হয়েছে।”

গুহা থেকে বের হওয়ার পর মীর জন্য প্রথম খাবার হিসেবে গরম জাউয়ের ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি এখনও শুধুমাত্র নরম খাবার খেতে পারছেন। অন্য দুই শ্রমিকও আঘাত পেলেও ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

তবে উদ্ধার অভিযান এখনো শেষ হয়নি। কারণ, ওই পাঁচ শ্রমিক গুহায় প্রবেশের আগেই আরও দুজন গ্রামবাসী অন্য একটি পথ দিয়ে একই গুহা ব্যবস্থায় ঢুকেছিলেন। গত ১১ দিন ধরে তারা নিখোঁজ রয়েছেন।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া অস্ট্রেলীয় ডুবুরি জশ রিচার্ডস জানান, বেঁচে ফেরা শ্রমিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গুহার আরও প্রায় ১০০ মিটার গভীরে একটি বড় বায়ুস্তর বা এয়ার পকেট রয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিরা জীবিত থাকলে সেখানে অবস্থান করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নতুন করে বৃষ্টিপাতের কারণে গুহার পানির স্তর আবারও বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান জটিল হয়ে উঠেছে।

আবার কখনও ওই গুহায় প্রবেশ করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মী সিংফামালাই বলেন, “কখনোই না। আমাকে যদি আবার সেখানে যেতে বলা হয়, সেটা হবে মৃত্যুদণ্ডের সমান।”

সূত্র: সিএনএন