৫ মাসের পরিকল্পনায় ‘ফিল্মি স্টাইলে’ বাবা-সৎমাসহ চারজনকে হত্যা
- প্রকাশের সময় : ০৫:২৫:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
- / 16
ভারতের রাজস্থানের আজমের জেলায় চাঞ্চল্যকর এক পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে নিজের বাবা, সৎমা, দাদি ও চাচাতো বোনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ বলছে, প্রায় পাঁচ মাস ধরে পরিকল্পনা করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়। পরে ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনেরও চেষ্টা করা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৮ মে আজমের শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের শ্রীরামপুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— গ্রামের সাবেক সরপঞ্চ রাম সিং চৌধুরী, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী সূর্যজ্ঞান দেবী, মা পুসি দেবী এবং চাচাতো বোন মহিমা চৌধুরী।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। পরে নিহতদের মরদেহ একটি মাহিন্দ্রা স্করপিও গাড়িতে তুলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে জ্বলন্ত অবস্থায় গাড়িটি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা বলে দাবি করা হলেও তদন্তে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পুলিশ দেখতে পায়, গাড়ির সামনের আসনে কোনো আরোহী ছিল না। এছাড়া নিহতদের একজনের শরীরে আগুন লাগার আগেই ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা দুর্ঘটনার পরিবর্তে হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ করেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, পারিবারিক কলহ, বাবার দ্বিতীয় বিয়ে, উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধ এবং দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত কিশোর নিয়মিত অপরাধভিত্তিক ওয়েব সিরিজ দেখত এবং কীভাবে অপরাধের প্রমাণ নষ্ট করা যায়, সে সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করেছিল।
পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনার রাতে রাম সিং চৌধুরী ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মদ্যপানের পর ঘুমিয়ে পড়েন। ভোরে কিশোরটি বাবার ঘরে ঢুকে প্রথমে তাঁকে ছুরিকাঘাত করে। তাঁর চিৎকার শুনে সৎমা, দাদি ও চাচাতো বোন এগিয়ে এলে তাদেরও হত্যা করা হয়। পরে মরদেহগুলো গাড়িতে তুলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যাতে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে মনে হয়।
তদন্তকারীরা জানান, পরিবারের অন্য সদস্যদের শোকাহত আচরণের বিপরীতে অভিযুক্ত কিশোরের অস্বাভাবিক শান্ত ও স্বাভাবিক আচরণ তাদের সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয় বলে দাবি পুলিশের।
এ ঘটনায় কিশোরটির মা, বোন এবং অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার বিভিন্ন দিক তদন্ত করে দেখছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এটি সাম্প্রতিক সময়ে রাজস্থানের অন্যতম আলোচিত ও ভয়াবহ পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, দ্য নিউজমিল।























