পশ্চিমবঙ্গে ক্রেতাশূন্য গরুর হাট, ঈদের আগে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা
- প্রকাশের সময় : ০৮:৩৫:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
- / 6
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরুর বাজারে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা ও স্থবিরতা। কলকাতার উপকণ্ঠে ধুলাগড় পশুর হাটসহ বিভিন্ন হাটে ক্রেতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে খোলা আকাশের নিচে বাঁশের খুঁটিতে বাঁধা শত শত গবাদিপশু অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঈদের মাত্র কয়েক দিন আগে বাজারে স্বাভাবিক যে বেচাকেনা হওয়ার কথা ছিল, তা এবার প্রায় থমকে গেছে। এতে হাটে আসা বিক্রেতারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছেন।
ধুলাগড় হাটে পূর্ব মেদিনীপুর থেকে আসা এক বিক্রেতা জানান, ঈদের বাজার ধরতে তিনি উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে গরু কিনেছিলেন। কিন্তু এবার ক্রেতা না থাকায় তিনি উদ্বেগে আছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, “এখন গরু কিনবে কে? মানুষ ভয়ের মধ্যে আছে।”
ঐতিহ্যগতভাবে পশ্চিমবঙ্গের ধুলাগড় পশুর হাট হিন্দু বিক্রেতা ও মুসলিম ক্রেতাদের অন্যতম বড় মিলনস্থল হিসেবে পরিচিত। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই এ অঞ্চলে গরুর পাশাপাশি ছাগল ও অন্যান্য পশুর বেচাকেনা জমে ওঠে। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশ জানিয়েছেন, বাজারে গরুর মাংসের সঙ্গে সম্পর্কিত রেস্তোরাঁ ও ছোট ব্যবসাগুলোও প্রভাবিত হয়েছে। অনেক দোকান মালিক সরবরাহ সংকট ও অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসা সীমিত করেছেন।
কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার এক মাংস ব্যবসায়ী বলেন, দীর্ঘদিনের স্থিতিশীল বাজার হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে তারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি বলেন, “আগে রাত পর্যন্ত ব্যবসা চলত, এখন দুপুরের পরই দোকান বন্ধ করতে হচ্ছে।”
অন্যদিকে পশু ব্যবসায়ীরা জানান, বিক্রি না হওয়ায় প্রতিটি পশু ধরে রাখতে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ধুলাগড় হাটে উপস্থিত এক ব্যবসায়ী জানান, ঈদের মৌসুমে সাধারণত বড় আয় হলেও এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনেকেই তাদের বিনিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পশু জবাই সংক্রান্ত আইন ও প্রশাসনিক কঠোরতা বাজারে প্রভাব ফেলছে। তাদের মতে, বিষয়টি এখন অর্থনীতি, ধর্মীয় অনুশীলন ও রাজনীতির জটিল মিশ্রণে পরিণত হয়েছে।
তবে পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত থাকলেও হাটের ব্যবসায়ীরা একটাই কথা বলছেন—ক্রেতা না থাকায় ঈদের বাজার এবার বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।























