Dhaka ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার চার্জশিটে উঠে এলো যেসব চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:০১:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • / 21

​রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম করার জন্য রুম থেকে ছুরি এনে তার মাথা কেটে গলা থেকে আলাদা করা হয়। এরপর দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শোবার ঘরে এনে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। একই সাথে ছুরি দিয়ে তার যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে বিচ্ছিন্ন মাথাটি লুকিয়ে রাখা হয়। রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আদালতে দাখিল করা চার্জশিট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

​গত রবিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওহিদুজ্জামান। এরপর মামলাটি ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য বদলী করা হয়েছে।

​অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার এবং তার স্ত্রী স্বপ্ন আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

​চার্জশিট ও ঘটনার বিবরণ

​চার্জশিট সূত্রে জানা গেছে, স্বপ্না খাতুন আসামি সোহেলের দ্বিতীয় স্ত্রী। পরকীয়া প্রেমের সূত্র ধরে স্বপ্নার সাথে বিয়ে হয় সোহেলের। প্রথম সংসারে সোহেলের একটি মেয়ে রয়েছে। প্রায় আড়াই মাস আগে অটোরিকশা মেকানিক সোহেল পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের ২ নম্বর লেনের ওই বাসাটি ভাড়া নেয়। সোহেলদের ফ্ল্যাটটি ছিল ৩ রুমের। এক রুমে সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না থাকতো এবং তাদের রুমের সঙ্গে একটি অ্যাটাস্ট বাথরুম ছিল। আর পাশের দুই রুমে মাসুদ পারভেজ এবং জেসমিন আক্তার নামে এক দম্পতি থাকতো। আলাদা রুম হলেও সোহেল ও মাসুদদের রান্নাঘর (কিচেন রুম) একই ছিল।

​ঘটনার দিন (১৯ মে) প্রতিদিনের মতো সকাল ৬টার মধ্যে বাসা থেকে বেরিয়ে যান মাসুদ পারভেজ এবং জেসমিন আক্তার দম্পতি। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেল তাকে নিজের রুমের সামনে আসতে বলে। রামিসা রুমের সামনে গেলে সোহেল তাকে ভেতরে নিয়ে বাথরুমে ধর্ষণ করে।

​এসময় রামিসা চিৎকার করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে রুম থেকে ছুরি এনে তার মাথা কেটে গলা থেকে আলাদা করে সোহেল। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শোবার ঘরে এনে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

​যেভাবে ধরা পড়ে আসামিরা

​রামিসাকে খুঁজে না পেয়ে তার পরিবার সন্ধান শুরু করে। একপর্যায়ে সোহেলদের বাসার সামনে রামিসার একটি জুতা দেখতে পেয়ে তার মা দরজায় জোরে ডাক-চিৎকার করতে থাকেন। প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে দরজা ভাঙার চেষ্টা করলে, ওই সময়ের মধ্যে সোহেল বাথরুম থেকে রামিসার দেহ রুমে নিয়ে যায়।

​সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না লাশ দেখে এবং দরজা ভাঙার শব্দ শুনে ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়। পরে লোকজন রুমে ঢুকে রামিসার লাশ দেখতে পেয়ে সোহেলের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বপ্না মিথ্যা তথ্য দিয়ে জানায় যে, সোহেল গ্রিল কেটে পালিয়ে গেছে। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্তে ঘটনার আসল রহস্য এবং আসামিদের সম্পৃক্ততা উন্মোচন করে এই চার্জশিট দাখিল করে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার চার্জশিটে উঠে এলো যেসব চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকাশের সময় : ১১:০১:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

​রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম করার জন্য রুম থেকে ছুরি এনে তার মাথা কেটে গলা থেকে আলাদা করা হয়। এরপর দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শোবার ঘরে এনে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। একই সাথে ছুরি দিয়ে তার যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে বিচ্ছিন্ন মাথাটি লুকিয়ে রাখা হয়। রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আদালতে দাখিল করা চার্জশিট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

​গত রবিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওহিদুজ্জামান। এরপর মামলাটি ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য বদলী করা হয়েছে।

​অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার এবং তার স্ত্রী স্বপ্ন আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

​চার্জশিট ও ঘটনার বিবরণ

​চার্জশিট সূত্রে জানা গেছে, স্বপ্না খাতুন আসামি সোহেলের দ্বিতীয় স্ত্রী। পরকীয়া প্রেমের সূত্র ধরে স্বপ্নার সাথে বিয়ে হয় সোহেলের। প্রথম সংসারে সোহেলের একটি মেয়ে রয়েছে। প্রায় আড়াই মাস আগে অটোরিকশা মেকানিক সোহেল পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের ২ নম্বর লেনের ওই বাসাটি ভাড়া নেয়। সোহেলদের ফ্ল্যাটটি ছিল ৩ রুমের। এক রুমে সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না থাকতো এবং তাদের রুমের সঙ্গে একটি অ্যাটাস্ট বাথরুম ছিল। আর পাশের দুই রুমে মাসুদ পারভেজ এবং জেসমিন আক্তার নামে এক দম্পতি থাকতো। আলাদা রুম হলেও সোহেল ও মাসুদদের রান্নাঘর (কিচেন রুম) একই ছিল।

​ঘটনার দিন (১৯ মে) প্রতিদিনের মতো সকাল ৬টার মধ্যে বাসা থেকে বেরিয়ে যান মাসুদ পারভেজ এবং জেসমিন আক্তার দম্পতি। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেল তাকে নিজের রুমের সামনে আসতে বলে। রামিসা রুমের সামনে গেলে সোহেল তাকে ভেতরে নিয়ে বাথরুমে ধর্ষণ করে।

​এসময় রামিসা চিৎকার করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে রুম থেকে ছুরি এনে তার মাথা কেটে গলা থেকে আলাদা করে সোহেল। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শোবার ঘরে এনে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

​যেভাবে ধরা পড়ে আসামিরা

​রামিসাকে খুঁজে না পেয়ে তার পরিবার সন্ধান শুরু করে। একপর্যায়ে সোহেলদের বাসার সামনে রামিসার একটি জুতা দেখতে পেয়ে তার মা দরজায় জোরে ডাক-চিৎকার করতে থাকেন। প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে দরজা ভাঙার চেষ্টা করলে, ওই সময়ের মধ্যে সোহেল বাথরুম থেকে রামিসার দেহ রুমে নিয়ে যায়।

​সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না লাশ দেখে এবং দরজা ভাঙার শব্দ শুনে ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়। পরে লোকজন রুমে ঢুকে রামিসার লাশ দেখতে পেয়ে সোহেলের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বপ্না মিথ্যা তথ্য দিয়ে জানায় যে, সোহেল গ্রিল কেটে পালিয়ে গেছে। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্তে ঘটনার আসল রহস্য এবং আসামিদের সম্পৃক্ততা উন্মোচন করে এই চার্জশিট দাখিল করে।