স্ত্রীকে বাঁচাতে জালিয়াতি, তবু তিনি নায়ক
- প্রকাশের সময় : ০৮:২০:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
- / 98
চিকিৎসকের টেবিলে মৃত্যুর সঙ্গে লড়তে থাকা স্ত্রীকে বাঁচাতে এক ব্যক্তি কত দূর যেতে পারেন—এই প্রশ্নই আবার সামনে এনেছে চীনের লিয়াও ড্যানের গল্প। ভালোবাসার মানুষের জীবন রক্ষায় আইন ভাঙার কারণে তিনি একদিকে যেমন ‘প্রতারক’, অন্যদিকে তেমনি সামাজিক মাধ্যমে হয়ে উঠেছেন ‘সবচেয়ে অনুগত প্রতারক’।
চীনের মূলধারার গণমাধ্যমে সম্প্রতি পুরনো এই ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসায় দেশজুড়ে চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ ও সাধারণ মানুষের আর্থিক অসহায়ত্ব নিয়ে ফের বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত বেইজিংয়ের সাবেক কারখানা শ্রমিক লিয়াও ড্যানের পরিবারে। চাকরি হারানোর পর থেকেই আর্থিক সংকটে থাকা এই পরিবারে ২০০৭ সালে লিয়াওয়ের স্ত্রী ডু জিনলিংয়ের শরীরে মারাত্মক ইউরেমিয়া ধরা পড়ে। বেঁচে থাকার জন্য সপ্তাহে তিনবার ডায়ালিসিস করানো বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে তার জন্য। কিন্তু এই চিকিৎসার ব্যয় মাসে ৫ হাজার ইউয়ানের বেশি হওয়ায় তা বহন করা পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।
চরম অর্থকষ্টের মধ্যে স্ত্রীকে বাঁচিয়ে রাখতে লিয়াও ড্যান একটি অবৈধ পথ বেছে নেন। তিনি একটি জাল সিল প্রস্তুতকারকের মাধ্যমে হাসপাতালের ভুয়া সিল তৈরি করেন এবং ডায়ালিসিসের খরচ পরিশোধ দেখিয়ে জাল রসিদ তৈরি করতে শুরু করেন। মাসের পর মাস তিনি হাসপাতালের প্রকৃত বিল না দিয়েই ভুয়া রসিদের মাধ্যমে চিকিৎসা অব্যাহত রাখেন।
দীর্ঘ সময় এভাবে চলার পর বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। রসিদ যাচাইয়ে অসঙ্গতি ধরা পড়লে পুরো জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ পায়। তদন্তে জানা যায়, কয়েক বছর ধরে লিয়াও প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার ইউয়ানের চিকিৎসা ফি ফাঁকি দিয়েছেন।
পরবর্তীতে স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলেও ২০১৬ সালের মে মাসে একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে ডু জিনলিংয়ের মৃত্যু হয়।
তবে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি প্রতারণার মামলা হলেও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। বহু নেটিজেনের মতে, চিকিৎসার অস্বাভাবিক ব্যয়ের চাপ এবং স্ত্রীর জীবন বাঁচানোর মরিয়া প্রচেষ্টা লিয়াও ড্যানকে এমন পথে ঠেলে দিয়েছে, যা নৈতিকভাবে পুরোপুরি একপেশে করে দেখা যায় না।
চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনো এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা চলছে—এটি কি নিছক অপরাধ, নাকি একজন অসহায় স্বামীর শেষ চেষ্টা?























