ধনী-গরিব চেনে না এআই ক্যামেরা, সড়কে বাড়ছে আইন মানার প্রবণতা
- প্রকাশের সময় : ০৩:৫২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
- / 7
রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক আইন ভাঙলেই আর রেহাই নেই। প্রভাবশালী, ধনী কিংবা সাধারণ মানুষ—সবাইকে একইভাবে শনাক্ত করছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরা। ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য, উল্টো পথে গাড়ি চালানো কিংবা ফুটপাত ব্যবহার করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা যাচ্ছে গাড়ির মালিকের মোবাইলে। এতে রাজধানীর সড়কে আইন মানার প্রবণতা বেড়েছে বলে জানিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ।
সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এআই ক্যামেরা সক্রিয় হওয়ার পর যানবাহন চালকদের মধ্যে নতুন ধরনের সতর্কতা দেখা গেছে। অনেক চালকই এখন ট্রাফিক সিগন্যালের আলো দেখেই গাড়ি চালাচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, মামলা ও জরিমানার ভয়ে নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, অফিসে দেরি হলেও এখন চালকরা গতিসীমা অতিক্রম করতে চাইছেন না। কারণ, এআই ক্যামেরায় ধরা পড়লে মামলা হওয়ার পাশাপাশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কাটা যেতে পারে।
একজন মোটরসাইকেলচালক বলেন, “ফুটপাত দিয়ে বাইক ওঠানোর পরদিনই মোবাইলে ২ হাজার টাকা জরিমানার এসএমএস পেয়েছি। এখন কোন মোড়ে ক্যামেরা আছে, আগে সেটাই দেখি।”
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, গত ৭ মে থেকে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা চালু করা হয়েছে। বর্তমানে রায়সাহেব বাজার, ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর, সোনারগাঁও, কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি, জাহাঙ্গীর গেট ও গুলশান এলাকায় এসব ক্যামেরা সক্রিয় রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে আরও ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এ প্রযুক্তি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এআই ক্যামেরা ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবাহনের ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করছে। এরপর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ডেটাবেস ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করে ডিজিটাল মামলা তৈরি করা হচ্ছে।
সিগন্যাল অমান্য, স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, অবৈধ পার্কিং, ফুটপাত ব্যবহার, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো এবং সিটবেল্ট ব্যবহার না করার মতো অপরাধগুলো ক্যামেরায় শনাক্ত হচ্ছে। পরে প্রমাণসহ মামলার নোটিস গাড়ির মালিকের মোবাইলে এসএমএস বা ডাকযোগে পাঠানো হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ না করলে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হতে পারে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, রাজধানীতে প্রতিদিন হাজার হাজার ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনা ধরা পড়ছে। যাচাই-বাছাই শেষে ইতোমধ্যে ৩০০-এর বেশি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “এআই প্রযুক্তি চালুর পর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। প্রায় ৬০ শতাংশ চালক এখন ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন।”
এদিকে যানবাহনে বিআরটিএ অনুমোদিত নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ ব্যবহার না করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে ডিএমপি। সম্প্রতি জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্ধারিত ডিজাইন ও মাপ অনুযায়ী নম্বর প্লেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক। অন্যথায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এআই ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়ে আরও প্রচার বাড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।





















