‘বিসিবি দেয় ৬৫০ টাকা, নারী ক্লিনাররা পায় ৩০০’- বিস্মিত তামিম
- প্রকাশের সময় : ০৫:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
- / 7
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অভ্যন্তরে পারিশ্রমিক বণ্টনে অনিয়ম দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বোর্ডের অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল। নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য বোর্ড থেকে ৬৫০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও তারা পাচ্ছেন মাত্র ৩০০ টাকা করে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ চলাকালে মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম-এর গ্যালারির ওয়াশরুম পরিদর্শনে গিয়ে বিষয়টি সামনে আসে। দর্শকদের অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে গিয়ে কয়েকজন ক্লিনারের সঙ্গে কথা বলেন তামিম। তারা জানান, দৈনিক পারিশ্রমিক হিসেবে মাত্র ৩০০ টাকা পান।
পরবর্তীতে বিষয়টি খতিয়ে দেখে তামিম জানতে পারেন, প্রতি ক্লিনারের জন্য বিসিবি ৬৫০ টাকা করে বিল পরিশোধ করে। কিন্তু মাঝপথে একটি মধ্যস্বত্বভোগী চক্র সেই অর্থের বড় অংশ আত্মসাৎ করছে। থার্ড পার্টি ক্লিনিং সার্ভিসের মাধ্যমে পরিচালিত এই ব্যবস্থায় আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৫০০ টাকা ক্লিনারদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের হাতে পৌঁছাচ্ছে ৩০০ টাকা।
সোমবার বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি কমপ্লেক্সে ওয়ালটন স্মার্ট ফ্রিজ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ পাওয়ার্ড বাই বসুন্ধরা সিমেন্ট’র উদ্বোধন করতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে এই বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন তামিম।
তিনি বলেন,‘এটা (ক্লিনারদের পারিশ্রমিক) শুনে আমি খুব অবাক হয়েছি। যেদিন গ্যালারিতে গেলাম, ফিনল্যান্ড থেকে সেদিন একজন মহিলা সকালেই এসে সোজা মাঠে খেলা দেখতে আসে। তিনি আমাকে খুব সুন্দর করে এসে বললেন যে, ভাইয়া যদি একটু ওয়াশরুমগুলো ঠিক করা যায়। হয়তো শুনে অবাকই হবেন যে স্টেডিয়াম যখন নির্মাণ হয়েছিল, তারপর থেকে আর বাথরুম নিয়ে কোনো সংস্কার হয়নি। যা একদমই ঠিক হয়নি।’
তিনি আরও বলেন,‘তো সেদিন আমি যাওয়ার সময় ওখানে বাথরুমটা পরিষ্কার রাখার দায়িত্বে থাকা একজন… আমি তাকে খালাম্মা ডাকি… তিনি বলেছিলেন, আমাদের দিনে ৩০০ টাকা করে দেওয়া হয়। ভিডিওতে অনেকেই হয়তো দেখেছেন। তো খালাম্মা আমাকে বললেন, এই জিনিসটা যেন আমি একটু দেখি।’
তামিম জানান, সেই অভিযোগের পর বোর্ডে গিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন তিনি। তখন জানা যায়, থার্ড পার্টি ক্লিনিং সার্ভিসকে বিসিবি ৬৫০ টাকা করে দিলেও তারা আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে ৫০০ টাকা বরাদ্দ রাখে। কিন্তু বোর্ডের ভেতর থেকেই একজন মধ্যস্বত্বভোগী জনপ্রতি ২০০ টাকা আত্মসাৎ করে ক্লিনারদের হাতে তুলে দিচ্ছে মাত্র ৩০০ টাকা।
এই পরিস্থিতি বদলাতে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছেন তামিম। তিনি জানিয়েছেন, আগামী সিরিজ থেকে প্রত্যেক ক্লিনারকে ম্যাচপ্রতি অন্তত ৫০০ টাকা করে সরাসরি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রদান নিশ্চিত করা হবে, যাতে কোনো অনিয়মের সুযোগ না থাকে।






















