Dhaka ০৯:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বিদায় নিশ্চিত তিউনিসিয়ার, গ্রুপ সেরা মিশনে নেদারল্যান্ডস চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার হবে: রিজভী যশোরের শার্শায় বজ্রপাতে বিজিবি সদস্য আহত ১৯০০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলায় পাঁচ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও এক সহকারী পুলিশ সুপারকে বদলি ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে জমির ন্যায্য মূল্য দাবিতে মানববন্ধন নওগাঁ সীমান্তে ২৭০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারি আটক জাতীয় পর্যায়ের বিজ্ঞান মেলায় জেলার প্রতিনিধিত্ব করবে কাজী আব্দুল মাজেদ একাডেমি রাজবাড়ীতে রাতের অন্ধকারে কৃষকের সবজি ক্ষেত বিনষ্টের অভিযোগ ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ১৬৪, আহত প্রায় এক হাজার

তরমুজ খেয়ে একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু: বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:২০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • / 96

ভারতের মুম্বাইয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুরুতে ঘটনাটি খাদ্যে বিষক্রিয়ার ফল বলে গুঞ্জন ছড়ালেও, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনে নতুন তথ্য সামনে আসতে থাকায় রহস্য আরও গভীর হচ্ছে।

শুক্রবার (১ মে) সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই রহস্যজনক ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে ভারতের মুম্বাইয়ে ৪০ বছর বয়সি আবদুল্লাহ দোকাদিয়া, তার ৩৫ বছর বয়সি স্ত্রী নাসরিন দোকাদিয়া এবং তাদের ১৬ ও ১৩ বছরের দুই শিশু কন্যা আয়েশা ও জয়নাব মারা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাতে পরিবার ও আত্মীয়দের নিয়ে মাটন পোলাওয়ের মাধ্যমে নৈশভোজ সম্পন্ন করেন আবদুল্লাহ। অতিথিরা চলে যাওয়ার পর রাত ১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তরমুজ খান। ভোর ৫টার দিকে হঠাৎ সবাই বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের সবার মৃত্যু হয়।

লাশগুলোর প্রাথমিক ফরেনসিক পরীক্ষায় চিকিৎসকরা বিস্মিত হয়েছেন। সাধারণ খাদ্যে বিষক্রিয়ায় যা দেখা যায় না, এখানে তার চেয়ে ভিন্ন কিছু ঘটেছে। দেখা গেছে, মৃতদের মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র ও অন্ত্রসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ অস্বাভাবিকভাবে সবুজাভ হয়ে গেছে।

তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে যখন আবদুল্লাহ দোকাডিয়ার শরীরে মরফিনের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। অত্যন্ত শক্তিশালী এই ব্যথানাশক ওষুধটি কীভাবে তার শরীরে প্রবেশ করল, তা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে এবং গোয়েন্দারা এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।

এটি কি চিকিৎসার অংশ হিসেবে প্রয়োগ করা হয়েছিল, নাকি কোনো দুর্ঘটনার ফল—অথবা এর পেছনে রয়েছে পরিকল্পিত হত্যার চক্রান্ত এসব সম্ভাবনাই গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রাজ্যের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন জানিয়েছে, তরমুজের সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক এখনও পাওয়া যায়নি। ওই রাতে মাটন পোলাও খেলেও তারা সুস্থ ছিলেন।

মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে লাশের ভিসেরা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত পুলিশ চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয়।

পুলিশ পরিবারের মানসিক অবস্থা, কোনো ব্যবসায়িক শত্রুতা বা অন্য কোনো বিষাক্ত পদার্থের প্রয়োগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে। ইতোমধ্যেই পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

তরমুজ খেয়ে একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু: বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকাশের সময় : ০৯:২০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

ভারতের মুম্বাইয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুরুতে ঘটনাটি খাদ্যে বিষক্রিয়ার ফল বলে গুঞ্জন ছড়ালেও, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনে নতুন তথ্য সামনে আসতে থাকায় রহস্য আরও গভীর হচ্ছে।

শুক্রবার (১ মে) সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই রহস্যজনক ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে ভারতের মুম্বাইয়ে ৪০ বছর বয়সি আবদুল্লাহ দোকাদিয়া, তার ৩৫ বছর বয়সি স্ত্রী নাসরিন দোকাদিয়া এবং তাদের ১৬ ও ১৩ বছরের দুই শিশু কন্যা আয়েশা ও জয়নাব মারা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাতে পরিবার ও আত্মীয়দের নিয়ে মাটন পোলাওয়ের মাধ্যমে নৈশভোজ সম্পন্ন করেন আবদুল্লাহ। অতিথিরা চলে যাওয়ার পর রাত ১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তরমুজ খান। ভোর ৫টার দিকে হঠাৎ সবাই বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের সবার মৃত্যু হয়।

লাশগুলোর প্রাথমিক ফরেনসিক পরীক্ষায় চিকিৎসকরা বিস্মিত হয়েছেন। সাধারণ খাদ্যে বিষক্রিয়ায় যা দেখা যায় না, এখানে তার চেয়ে ভিন্ন কিছু ঘটেছে। দেখা গেছে, মৃতদের মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র ও অন্ত্রসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ অস্বাভাবিকভাবে সবুজাভ হয়ে গেছে।

তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে যখন আবদুল্লাহ দোকাডিয়ার শরীরে মরফিনের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। অত্যন্ত শক্তিশালী এই ব্যথানাশক ওষুধটি কীভাবে তার শরীরে প্রবেশ করল, তা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে এবং গোয়েন্দারা এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।

এটি কি চিকিৎসার অংশ হিসেবে প্রয়োগ করা হয়েছিল, নাকি কোনো দুর্ঘটনার ফল—অথবা এর পেছনে রয়েছে পরিকল্পিত হত্যার চক্রান্ত এসব সম্ভাবনাই গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রাজ্যের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন জানিয়েছে, তরমুজের সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক এখনও পাওয়া যায়নি। ওই রাতে মাটন পোলাও খেলেও তারা সুস্থ ছিলেন।

মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে লাশের ভিসেরা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত পুলিশ চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয়।

পুলিশ পরিবারের মানসিক অবস্থা, কোনো ব্যবসায়িক শত্রুতা বা অন্য কোনো বিষাক্ত পদার্থের প্রয়োগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে। ইতোমধ্যেই পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে।