ম্যারাডোনার মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে আবারও বিচার শুরু
- প্রকাশের সময় : ০২:৩৬:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
- / 9
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফুটবল কিংবদন্তি ম্যারাডোনার মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে আবারও বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম দফার বিচারক অনৈতিক আচরণের কারণে বিচার কার্যক্রম থমকে গিয়েছিল। সেই স্থবিরতা কাটিয়ে এখন আবার নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসের টাইগ্রে এলাকায় নিজ বাসভবনে ঘুমের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ম্যারাডোনা। তবে তার মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল কি না, নাকি চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে হয়েছে—তা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তার শরীরে অ্যালকোহল বা মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে তার হৃদপিণ্ডে গুরুতর অস্বাভাবিকতা দেখা যায়, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বড় ছিল এবং সেখানে চর্বি ও রক্ত জমাট বাঁধার প্রমাণ মেলে।
অভিযোগ রয়েছে, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পর সাত সদস্যের একটি চিকিৎসক দল তার চিকিৎসার দায়িত্বে ছিল। সরকারি কৌঁসুলিদের দাবি, মৃত্যুর ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও চিকিৎসায় গুরুতর অবহেলা করা হয়েছিল।
এর আগে বিচার চলাকালে দীর্ঘ সময় সাক্ষ্যগ্রহণ হলেও গত বছরের মে মাসে পুরো বিচার কার্যক্রম বাতিল করা হয়। অভিযোগ ওঠে, বিচারকদের একজন একটি প্রামাণ্যচিত্রে অংশ নিয়ে বিচারিক নীতি ভঙ্গ করেছিলেন, যার ফলে পুরো বিচার প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ে।
নতুন করে শুরু হওয়া এই মামলায় প্রায় একশ বিশজন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। চিকিৎসক, মনোবিদ ও নার্সসহ মোট সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে ‘সম্ভাব্য উদ্দেশ্যমূলক হত্যার’ অভিযোগ আনা হয়েছে। আর্জেন্টিনার আইন অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত হলে আট থেকে পঁচিশ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
অভিযুক্তরা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ম্যারাডোনা দীর্ঘদিন মাদক ও অ্যালকোহলে আসক্ত ছিলেন এবং তার মৃত্যু ছিল স্বাভাবিক শারীরিক জটিলতার ফল। গোটা ফুটবল বিশ্ব এখন এই মামলার রায়ের দিকে তাকিয়ে আছে, যেখানে নির্ধারিত হবে তার শেষ দিনগুলোর প্রকৃত সত্য।
























