Dhaka ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
চিড়িয়াখানায় ঠাঁই হচ্ছে ভাইরাল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের’ আবার ঢাকায় গাইবেন অনুপম রায়, জুনে বসছে কনসার্ট মন্ত্রী হওয়ার পর অর্থকষ্টে আছি, সংসার চালাতে আবার রোগী দেখছি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী হজে শয়তানকে ‘ক্লিন বোল্ড’ করলেন ওয়াসিম আকরাম, ভাইরাল ভিডিও ঝিনাইদহে চুরি হওয়া ইজিবাইক উদ্ধার, মালিককে ফিরিয়ে দিল পুলিশ এক মায়ের অনুরোধ রাখতে প্রাণ গেল ৬ শিশুর, দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ঈদের নামাজের নিয়ত, নিয়ম, দোয়া ও খুতবা: বিস্তারিত নির্দেশনা মানুষের যেকোনো বিপদে বিএনপি সরকার পাশে থাকবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী কলকাতায় সরিয়ে ফেলা হচ্ছে মেসির ভাস্কর্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কোরবানি হচ্ছে না ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

জোড়াদহে নীলকুঠি স্থাপনের ইতিহাস

একরামুল ইসলাম তুষার, কালীগঞ্জ
  • প্রকাশের সময় : ০৪:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 93

 

ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার জোড়াদহ একসময় নীলচাষ ও নীলকুঠির জন্য বিখ্যাত একটি জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল। ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ১৮১৫-১৬ সালের মধ্যে কুমার নদীর দক্ষিণ তীরে এখানে একটি বৃহৎ নীলকুঠি প্রতিষ্ঠিত হয়, যা “জোড়াদহ নীল কনসার্ন” নামে পরিচিত ছিল।

ইউরোপীয় নীলকর জেমস শেরিফের মালিকানায় গড়ে ওঠা এ কনসার্নের অধীনে জোড়াদহ ছাড়াও ভানীপুর, সোহাগপুর এবং আলমডাঙ্গা উপজেলার যোলদাড়ি এলাকার বিভিন্ন কুঠি অন্তর্ভুক্ত ছিল। নীলকুঠি স্থাপনের পর থেকেই জোড়াদহ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চার হয় এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।

১৮৫০-৬০ সালের মধ্যে জোড়াদহ কনসার্নের আওতায় প্রায় ৯,৪৫০ বিঘা জমিতে নীলচাষ হতো। সে সময় বছরে প্রায় ৬০০ মন নীল উৎপাদিত হতো, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

জোড়াদহ নীলকুঠির ব্যবস্থাপক ছিলেন মি. জে. বি. ম্যাকনেয়ার, যিনি একই সঙ্গে সিন্দুরিয়া নীল কনসার্নের দায়িত্বেও ছিলেন। তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী হলেও চাষিদের ওপর কঠোরতা ও অত্যাচারের জন্য কুখ্যাত ছিলেন। সে সময় নীলকররা জমিদারি ক্ষমতা ব্যবহার করে খাজনা বৃদ্ধি করতেন, যা চাষিদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে।

১৮৬০ সালে জোড়াদহ নীল কনসার্নের চাষিরা বর্ধিত খাজনা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আন্দোলনে নামে। এই আন্দোলন পরবর্তীতে অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে এবং নীলচাষ বিরোধী আন্দোলনের অংশ হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত একই বছরে জোরপূর্বক নীলচাষ বিলোপের মাধ্যমে আন্দোলন প্রশমিত হয় এবং কৃষকেরা তাদের দাবি আদায়ে সফলতা অর্জন করে।

তবে নীলকুঠির মালিক জেমস শেরিফ ব্যক্তিগতভাবে দানশীল ও শিক্ষানুরাগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার উদ্যোগ ও অর্থানুকূল্যে ১৮৯৮ সালে জোড়াদহ উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে এ অঞ্চলে শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আজও জোড়াদহের ইতিহাসে নীলকুঠির স্মৃতি এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জোড়াদহে নীলকুঠি স্থাপনের ইতিহাস

প্রকাশের সময় : ০৪:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

 

ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার জোড়াদহ একসময় নীলচাষ ও নীলকুঠির জন্য বিখ্যাত একটি জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল। ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ১৮১৫-১৬ সালের মধ্যে কুমার নদীর দক্ষিণ তীরে এখানে একটি বৃহৎ নীলকুঠি প্রতিষ্ঠিত হয়, যা “জোড়াদহ নীল কনসার্ন” নামে পরিচিত ছিল।

ইউরোপীয় নীলকর জেমস শেরিফের মালিকানায় গড়ে ওঠা এ কনসার্নের অধীনে জোড়াদহ ছাড়াও ভানীপুর, সোহাগপুর এবং আলমডাঙ্গা উপজেলার যোলদাড়ি এলাকার বিভিন্ন কুঠি অন্তর্ভুক্ত ছিল। নীলকুঠি স্থাপনের পর থেকেই জোড়াদহ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চার হয় এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।

১৮৫০-৬০ সালের মধ্যে জোড়াদহ কনসার্নের আওতায় প্রায় ৯,৪৫০ বিঘা জমিতে নীলচাষ হতো। সে সময় বছরে প্রায় ৬০০ মন নীল উৎপাদিত হতো, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

জোড়াদহ নীলকুঠির ব্যবস্থাপক ছিলেন মি. জে. বি. ম্যাকনেয়ার, যিনি একই সঙ্গে সিন্দুরিয়া নীল কনসার্নের দায়িত্বেও ছিলেন। তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী হলেও চাষিদের ওপর কঠোরতা ও অত্যাচারের জন্য কুখ্যাত ছিলেন। সে সময় নীলকররা জমিদারি ক্ষমতা ব্যবহার করে খাজনা বৃদ্ধি করতেন, যা চাষিদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে।

১৮৬০ সালে জোড়াদহ নীল কনসার্নের চাষিরা বর্ধিত খাজনা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আন্দোলনে নামে। এই আন্দোলন পরবর্তীতে অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে এবং নীলচাষ বিরোধী আন্দোলনের অংশ হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত একই বছরে জোরপূর্বক নীলচাষ বিলোপের মাধ্যমে আন্দোলন প্রশমিত হয় এবং কৃষকেরা তাদের দাবি আদায়ে সফলতা অর্জন করে।

তবে নীলকুঠির মালিক জেমস শেরিফ ব্যক্তিগতভাবে দানশীল ও শিক্ষানুরাগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার উদ্যোগ ও অর্থানুকূল্যে ১৮৯৮ সালে জোড়াদহ উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে এ অঞ্চলে শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আজও জোড়াদহের ইতিহাসে নীলকুঠির স্মৃতি এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।