Dhaka ০২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে জ্বালানি তেল সংকটে বিপাকে কৃষক, হুমকিতে ৯০ হাজার হেক্টর ইরি আবাদ

একরামুল ইসলাম তুষার, কালীগঞ্জ
  • প্রকাশের সময় : ১০:২৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / 130

 

ঝিনাইদহ জেলায় জ্বালানি তেলের সংকটকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা বাড়ছে। এর ফলে জেলার প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর ইরি আবাদ হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহে মোট ৩৬টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৬টি, শৈলকুপায় ৫টি, হরিণাকুন্ডুতে ১টি, কালীগঞ্জ উপজেলা-এ ৮টি, কোটচাঁদপুরে ৩টি এবং মহেশপুরে ৩টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই এসব স্টেশনে ভিড় ক্রমাগত বাড়ছে।

অভিযোগ উঠেছে, খুলনা অঞ্চলের পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ না পাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক মোটরসাইকেল চালক পরিচয় গোপন করে দিনে একাধিকবার তেল নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ প্রয়োজন না থাকলেও তেল সংগ্রহ করে মজুত করছেন। একই সঙ্গে শহর থেকে তেল কিনে গ্রামে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। এতে প্রকৃত কৃষকরা ডিজেল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে কৃষিতে। জেলার প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর ইরি আবাদে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কৃষকরা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি কৃষক পরিচয়ে ডিজেল সংগ্রহ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। তারা দ্রুত এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ঝিনাইদহে জ্বালানি তেল সংকটে বিপাকে কৃষক, হুমকিতে ৯০ হাজার হেক্টর ইরি আবাদ

প্রকাশের সময় : ১০:২৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

 

ঝিনাইদহ জেলায় জ্বালানি তেলের সংকটকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা বাড়ছে। এর ফলে জেলার প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর ইরি আবাদ হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহে মোট ৩৬টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৬টি, শৈলকুপায় ৫টি, হরিণাকুন্ডুতে ১টি, কালীগঞ্জ উপজেলা-এ ৮টি, কোটচাঁদপুরে ৩টি এবং মহেশপুরে ৩টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই এসব স্টেশনে ভিড় ক্রমাগত বাড়ছে।

অভিযোগ উঠেছে, খুলনা অঞ্চলের পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ না পাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক মোটরসাইকেল চালক পরিচয় গোপন করে দিনে একাধিকবার তেল নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ প্রয়োজন না থাকলেও তেল সংগ্রহ করে মজুত করছেন। একই সঙ্গে শহর থেকে তেল কিনে গ্রামে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। এতে প্রকৃত কৃষকরা ডিজেল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে কৃষিতে। জেলার প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর ইরি আবাদে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কৃষকরা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি কৃষক পরিচয়ে ডিজেল সংগ্রহ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। তারা দ্রুত এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।