Dhaka ১১:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় পুত্রবধূর সব রাজকীয় উপাধি কেড়ে নিলেন ব্রুনেইয়ের সুলতান আক্রমণকারীদের হাত থেকে মসজিদ বাঁচানো যুবককে সম্মানিত করল সৌদি জাবিতে সাঈদীসহ তিনজনের স্মরণে শিবিরের দোয়া মাহফিল শেখ মুজিবকে নিয়ে পোস্ট, জাবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে অব্যাহতি ট্রাম্পের পর হোয়াইট হাউসে কে, আলোচনায় কেন আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কোর্তেজ প্রেমিককে ভিডিও কলে রেখে অভিনেত্রী রিধিকার ‌‘আত্মহত্যা’ বেগম জিয়া ছিলেন সবার নেত্রী : জাবি উপাচার্য রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে: নুরুল হক নুর কালীগঞ্জে খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

হাদি হত্যায় জড়িত নই— ফয়সালের দাবি, বক্তব্য আমলে নিচ্ছে না ডিবি

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:৫২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 180

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন মামলার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি দাবি করেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনোভাবেই জড়িত নন। তবে তার এই বক্তব্য তদন্তে আমলে নিচ্ছে না ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবি জানিয়েছে, পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই ফয়সাল করিম মাসুদকে হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। ভিডিওবার্তায় তিনি কী দাবি করেছেন, তা তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোছাম্মৎ হাশি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পরভিন সামিয়াসহ আরও কয়েকজন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ভিডিওবার্তায় ফয়সাল কী বলেছে, সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়। ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। হাদি হত্যাকাণ্ডে ফয়সালই মূল অভিযুক্ত— এ বিষয়ে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষ্য রয়েছে। ফয়সালের মা, বাবা, স্ত্রী ও তার প্রেমিকা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় তাকে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ড্রাইভারের সাক্ষ্যও রয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত চলছে।

এদিকে ডিজিটাল অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছে, ফয়সালের ভিডিওবার্তাটি এআই জেনারেটেড নয়। ভিডিওর চেহারা, মুখভঙ্গি, আলো, ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ ও ফ্রেম বিশ্লেষণ করে এবং একাধিক যাচাই টুল ব্যবহার করে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে ভিডিওটি কৃত্রিমভাবে তৈরি নয়। তবে ভিডিওর কিছু ফ্রেমে ফয়সালের থুতনির দাড়ি অদৃশ্য হয়ে যেতে দেখা গেছে, যা ব্যবহৃত একটি ফিল্টারের কারণে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ফিল্টারে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হলেও পুরো ভিডিওকে এআই-সৃষ্ট বলা যায় না বলে জানায় তারা।

ভিডিওবার্তায় ফয়সাল দাবি করেন, তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। তবে শুধু ভিডিওর ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব নয় এবং তিনি নিজেও এ দাবির পক্ষে কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

এ ছাড়া তিনি দাবি করেন, হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে তিনি ছিলেন না। তবে দ্য ডিসেন্টের আগের অনুসন্ধান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ উপস্থিত ছিলেন। বাইকের পেছনে বসে গুলিবর্ষণকারী ছিলেন ফয়সাল এবং চালক ছিলেন আলমগীর শেখ।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

হাদি হত্যায় জড়িত নই— ফয়সালের দাবি, বক্তব্য আমলে নিচ্ছে না ডিবি

প্রকাশের সময় : ১০:৫২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন মামলার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি দাবি করেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনোভাবেই জড়িত নন। তবে তার এই বক্তব্য তদন্তে আমলে নিচ্ছে না ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবি জানিয়েছে, পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই ফয়সাল করিম মাসুদকে হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। ভিডিওবার্তায় তিনি কী দাবি করেছেন, তা তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোছাম্মৎ হাশি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পরভিন সামিয়াসহ আরও কয়েকজন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ভিডিওবার্তায় ফয়সাল কী বলেছে, সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়। ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। হাদি হত্যাকাণ্ডে ফয়সালই মূল অভিযুক্ত— এ বিষয়ে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষ্য রয়েছে। ফয়সালের মা, বাবা, স্ত্রী ও তার প্রেমিকা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় তাকে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ড্রাইভারের সাক্ষ্যও রয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত চলছে।

এদিকে ডিজিটাল অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছে, ফয়সালের ভিডিওবার্তাটি এআই জেনারেটেড নয়। ভিডিওর চেহারা, মুখভঙ্গি, আলো, ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ ও ফ্রেম বিশ্লেষণ করে এবং একাধিক যাচাই টুল ব্যবহার করে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে ভিডিওটি কৃত্রিমভাবে তৈরি নয়। তবে ভিডিওর কিছু ফ্রেমে ফয়সালের থুতনির দাড়ি অদৃশ্য হয়ে যেতে দেখা গেছে, যা ব্যবহৃত একটি ফিল্টারের কারণে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ফিল্টারে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হলেও পুরো ভিডিওকে এআই-সৃষ্ট বলা যায় না বলে জানায় তারা।

ভিডিওবার্তায় ফয়সাল দাবি করেন, তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। তবে শুধু ভিডিওর ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব নয় এবং তিনি নিজেও এ দাবির পক্ষে কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

এ ছাড়া তিনি দাবি করেন, হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে তিনি ছিলেন না। তবে দ্য ডিসেন্টের আগের অনুসন্ধান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ উপস্থিত ছিলেন। বাইকের পেছনে বসে গুলিবর্ষণকারী ছিলেন ফয়সাল এবং চালক ছিলেন আলমগীর শেখ।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।