Dhaka ০১:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওসমান হাদিকে ‘গিনিপিগ’ বললেন বিএনপি নেত্রী, সমালোচনার ঝড়

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 155

আততায়ীর গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘গিনিপিগ’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি। তার এই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে এমন মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানাচ্ছেন অনেকে।

মঙ্গলবার রাত ২৩ ডিসেম্বর আব্দুন নূর তুষারের সঞ্চালনায় চ্যানেল নাইনের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘নাইন সংলাপে’ অংশ নিয়ে নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, হাদি তার কাছে এই মুহূর্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘গিনিপিগ’ ছাড়া আর কিছু মনে হয়নি। তিনি আরও বলেন, ডাক্তাররা যেমন পরীক্ষার জন্য তেলাপোকা কেটে সেলাই করে ছেড়ে দেন, হাদি হয়তো তেমনভাবে টিকে থাকতে পারেননি।

এ সময় সঞ্চালক আলোচকদের উদ্দেশে হাদিকে নিয়ে কোনো আপত্তিকর বক্তব্য না দেওয়ার অনুরোধ জানান। পরে নিলুফার চৌধুরী মনির বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন রাখা হলে তিনি বলেন, ওসমান হাদিকে ব্যবহার করে কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তর স্পষ্টভাবেই হ্যাঁ। তিনি দাবি করেন, হাদির দলের লোকসংখ্যা খুব বেশি ছিল না, অথচ সারা দেশ থেকে মানুষ আসার বিষয়টি নির্বাচন বানচালের চেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।

অনুষ্ঠানেই মনির বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর। তিনি বলেন, হাদি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না এবং ইনকিলাব মঞ্চ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি সামাজিক সংগঠন। হাদি সমাজের দুর্নীতি, অপতৎপরতা ও গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। জানাজায় মানুষের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে তিনি কষ্টদায়ক আখ্যা দেন এবং বলেন, মানুষ কোনো দলের ডাকে নয়, একজন মানুষ ওসমান হাদির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই সেখানে উপস্থিত হয়েছিল।

এই সংলাপে আরও অংশ নেন এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ডা. জাহেদ উর রহমান এবং সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেল।

নিলুফার চৌধুরী মনির বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতারা প্রতিক্রিয়া জানান। জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদিন শিশির একে ‘অমর্যাদাকর’ মন্তব্য আখ্যা দিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেত্রীর কাছ থেকে এমন বক্তব্য অনভিপ্রেত এবং এ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাও মনির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ওসমান হাদিকে ‘গিনিপিগ’ বললেন বিএনপি নেত্রী, সমালোচনার ঝড়

প্রকাশের সময় : ০৪:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

আততায়ীর গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘গিনিপিগ’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি। তার এই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে এমন মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানাচ্ছেন অনেকে।

মঙ্গলবার রাত ২৩ ডিসেম্বর আব্দুন নূর তুষারের সঞ্চালনায় চ্যানেল নাইনের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘নাইন সংলাপে’ অংশ নিয়ে নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, হাদি তার কাছে এই মুহূর্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘গিনিপিগ’ ছাড়া আর কিছু মনে হয়নি। তিনি আরও বলেন, ডাক্তাররা যেমন পরীক্ষার জন্য তেলাপোকা কেটে সেলাই করে ছেড়ে দেন, হাদি হয়তো তেমনভাবে টিকে থাকতে পারেননি।

এ সময় সঞ্চালক আলোচকদের উদ্দেশে হাদিকে নিয়ে কোনো আপত্তিকর বক্তব্য না দেওয়ার অনুরোধ জানান। পরে নিলুফার চৌধুরী মনির বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন রাখা হলে তিনি বলেন, ওসমান হাদিকে ব্যবহার করে কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তর স্পষ্টভাবেই হ্যাঁ। তিনি দাবি করেন, হাদির দলের লোকসংখ্যা খুব বেশি ছিল না, অথচ সারা দেশ থেকে মানুষ আসার বিষয়টি নির্বাচন বানচালের চেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।

অনুষ্ঠানেই মনির বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর। তিনি বলেন, হাদি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না এবং ইনকিলাব মঞ্চ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি সামাজিক সংগঠন। হাদি সমাজের দুর্নীতি, অপতৎপরতা ও গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। জানাজায় মানুষের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে তিনি কষ্টদায়ক আখ্যা দেন এবং বলেন, মানুষ কোনো দলের ডাকে নয়, একজন মানুষ ওসমান হাদির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই সেখানে উপস্থিত হয়েছিল।

এই সংলাপে আরও অংশ নেন এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ডা. জাহেদ উর রহমান এবং সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেল।

নিলুফার চৌধুরী মনির বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতারা প্রতিক্রিয়া জানান। জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদিন শিশির একে ‘অমর্যাদাকর’ মন্তব্য আখ্যা দিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেত্রীর কাছ থেকে এমন বক্তব্য অনভিপ্রেত এবং এ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাও মনির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।