Dhaka ০২:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
একার কাঁধেই শতাধিক

বহুমুখী দায়িত্বে ইউএনও, তবু নাগরিক সেবায় আপস নয়

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৭:২৩:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 93

 বালিয়াকান্দি উপজেলায় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা কমিটি শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কাঠামো অনেকটাই ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ওপর। সম্প্রতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব যুক্ত হওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে। বর্তমানে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান একাই সামলাচ্ছেন দুই শতাধিক পদের দায়িত্ব। ফলে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ২৫টি কমিটির কার্যক্রম তদারকি করতে হচ্ছে তাকে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা,  শিক্ষা ও যুব উন্নয়ন, দূর্যোগ ও খাদ্য নিরাপত্তা,  আইন- শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা,  সম্পত্তি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম, বিকল্প উদ্যোগ ও উদযাপন, নাগরিক ও তথ্য কার্যক্রম বাস্তবায়ন কমিটিসহ শতাধিক কমিটির সভাপতি হিসেবে ইউএনও দায়িত্বপালন করছেন। নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫টি কমিটির কার্যক্রম তদারকি করতে হচ্ছে ইউএনওকে।

বালিয়াকান্দি রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সোহেল রানা বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের কাছে প্রতিদিন শত শত মানুষ সেবা নিতে আসতেন। বর্তমানে জনপ্রতিনিধি না থাকায় সেই চাপ সরাসরি ইউএনওদের ওপর পড়ছে। বিশেষ করে ইউএনওদের শত শত কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালন করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত সভাপতির দায়িত্ব না থাকলে ইউএনওরা নাগরিক সেবায় আরও নতুন ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারতেন।

বিভিন্ন কমিটির ফাইল নিষ্পত্তি, মামলা, মোকদ্দমা সংক্রান্ত নথি, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, আবেদন এবং শুনানিতে ব্যয় হচ্ছে কর্মঘণ্টার বড় অংশ। ফলে নীতিনির্ধারণী বা উন্নয়নমূলক পরিকল্পনায় সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব প্রশাসনের ওপর এসে পড়েছে। আগে যেসব দায়িত্ব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা পালন করতেন, বর্তমানে

সেগুলো পালন করছেন ইউএনও। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উপজেলা পরিষদের শূন্য পদগুলোর প্রশাসনিক কাজও ইউএনওকে সামলাতে হচ্ছে। অথচ বর্তমান বাস্তবতায় সেই সংখ্যা পাঁচ গুণেরও বেশি। প্রশাসনের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে ত বিপুল দায়িত্ব এক ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দিলে নাগরিক সেবার মান কতটা টেকসই রাখা সম্ভব?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, বোর্ডের একের পর এক অদক্ষ ও বাস্তবতাবিবর্জিত সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের। করোনার পর থেকে কমিটি গঠন নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত এক ধরনের প্রশাসনিক জিম্মিদশায় রয়েছে। এডহক কমিটির ছয় মাসের মেয়াদ নামমাত্র চোখের পলকে শেষ হয়ে যায়, অথচ এই সময়ের মধ্যেই বারবার কাগজপত্র, সভা ও অনুমোদনের নামে সময় ও অর্থ অপচয় হচ্ছে। একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর আদেশ দিলেই যেখানে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব, সেখানে বোর্ডের নিষ্ক্রিয়তা ও সিদ্ধান্তহীনতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অযথা হয়রানির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।

বালিয়াকান্দিতে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩২টি এবং ১০টি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাদের দায়িত্বও যোগ হয়েছে। এমনকি নিয়মিত সমন্বয় সভাও পরিচালনা করতে হচ্ছে তাকেই।  কমিটিগুলোর ফাইলপত্র পর্যালোচনা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির মামলা, অভিযোগ ও আবেদন নিষ্পত্তিতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে ইউএনওকে। উপজেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থানীয় সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা কমিটি না থাকায় অর্ধশতাধিক অতিরিক্ত পদের দায়িত্ব কার্যত ইউএনওর কাঁধেই এসে পড়েছে।

এ বিষয়ে ইউএনও চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, শতাধিক কমিটির সভাপতির দায়িত্বের চাপ থাকলেও নাগরিক সেবায় কোনো আপস নেই। একা বহু কমিটির দায়িত্ব পালন করতে বাড়তি শ্রম দিতে হচ্ছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

একার কাঁধেই শতাধিক

বহুমুখী দায়িত্বে ইউএনও, তবু নাগরিক সেবায় আপস নয়

প্রকাশের সময় : ০৭:২৩:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

 বালিয়াকান্দি উপজেলায় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা কমিটি শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কাঠামো অনেকটাই ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ওপর। সম্প্রতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব যুক্ত হওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে। বর্তমানে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান একাই সামলাচ্ছেন দুই শতাধিক পদের দায়িত্ব। ফলে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ২৫টি কমিটির কার্যক্রম তদারকি করতে হচ্ছে তাকে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা,  শিক্ষা ও যুব উন্নয়ন, দূর্যোগ ও খাদ্য নিরাপত্তা,  আইন- শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা,  সম্পত্তি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম, বিকল্প উদ্যোগ ও উদযাপন, নাগরিক ও তথ্য কার্যক্রম বাস্তবায়ন কমিটিসহ শতাধিক কমিটির সভাপতি হিসেবে ইউএনও দায়িত্বপালন করছেন। নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫টি কমিটির কার্যক্রম তদারকি করতে হচ্ছে ইউএনওকে।

বালিয়াকান্দি রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সোহেল রানা বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের কাছে প্রতিদিন শত শত মানুষ সেবা নিতে আসতেন। বর্তমানে জনপ্রতিনিধি না থাকায় সেই চাপ সরাসরি ইউএনওদের ওপর পড়ছে। বিশেষ করে ইউএনওদের শত শত কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালন করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত সভাপতির দায়িত্ব না থাকলে ইউএনওরা নাগরিক সেবায় আরও নতুন ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারতেন।

বিভিন্ন কমিটির ফাইল নিষ্পত্তি, মামলা, মোকদ্দমা সংক্রান্ত নথি, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, আবেদন এবং শুনানিতে ব্যয় হচ্ছে কর্মঘণ্টার বড় অংশ। ফলে নীতিনির্ধারণী বা উন্নয়নমূলক পরিকল্পনায় সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব প্রশাসনের ওপর এসে পড়েছে। আগে যেসব দায়িত্ব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা পালন করতেন, বর্তমানে

সেগুলো পালন করছেন ইউএনও। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উপজেলা পরিষদের শূন্য পদগুলোর প্রশাসনিক কাজও ইউএনওকে সামলাতে হচ্ছে। অথচ বর্তমান বাস্তবতায় সেই সংখ্যা পাঁচ গুণেরও বেশি। প্রশাসনের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে ত বিপুল দায়িত্ব এক ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দিলে নাগরিক সেবার মান কতটা টেকসই রাখা সম্ভব?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, বোর্ডের একের পর এক অদক্ষ ও বাস্তবতাবিবর্জিত সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের। করোনার পর থেকে কমিটি গঠন নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত এক ধরনের প্রশাসনিক জিম্মিদশায় রয়েছে। এডহক কমিটির ছয় মাসের মেয়াদ নামমাত্র চোখের পলকে শেষ হয়ে যায়, অথচ এই সময়ের মধ্যেই বারবার কাগজপত্র, সভা ও অনুমোদনের নামে সময় ও অর্থ অপচয় হচ্ছে। একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর আদেশ দিলেই যেখানে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব, সেখানে বোর্ডের নিষ্ক্রিয়তা ও সিদ্ধান্তহীনতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অযথা হয়রানির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।

বালিয়াকান্দিতে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩২টি এবং ১০টি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাদের দায়িত্বও যোগ হয়েছে। এমনকি নিয়মিত সমন্বয় সভাও পরিচালনা করতে হচ্ছে তাকেই।  কমিটিগুলোর ফাইলপত্র পর্যালোচনা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির মামলা, অভিযোগ ও আবেদন নিষ্পত্তিতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে ইউএনওকে। উপজেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থানীয় সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা কমিটি না থাকায় অর্ধশতাধিক অতিরিক্ত পদের দায়িত্ব কার্যত ইউএনওর কাঁধেই এসে পড়েছে।

এ বিষয়ে ইউএনও চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, শতাধিক কমিটির সভাপতির দায়িত্বের চাপ থাকলেও নাগরিক সেবায় কোনো আপস নেই। একা বহু কমিটির দায়িত্ব পালন করতে বাড়তি শ্রম দিতে হচ্ছে।