Dhaka ০১:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বালিয়াকান্দিতে রপ্তানিযোগ্য ঔষধি উদ্ভিদের উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শুরু

ইমদাদুল হক রানা, বালিয়াকান্দি
  • প্রকাশের সময় : ০৯:০১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 41

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে শুরু হয়েছে রপ্তানিযোগ্য ঔষধি উদ্ভিদ চাষে নারীদের সক্ষমতা বাড়াতে ছয় দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ। “উদ্বুদ্ধকরণ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশীয় চাহিদা ও রপ্তানিযোগ্য ঔষধি উদ্ভিদের সমাজভিত্তিক আঞ্চলিক চক্রকেন্দ্র উন্নয়ন” শীর্ষক এ কার্যক্রমটি ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে ডাস-বাংলাদেশ ট্রেনিং এন্ড রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে। প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ৪০ জন নারী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রতন কুমার ঘোষ। তিনি বলেন,“বিশ্ববাজারে হারবাল পণ্যের যে গতি তাতে এখনই উদ্যোগী না হলে পিছিয়ে পড়বো। বৈজ্ঞানিক উপায়ে ঔষধি উদ্ভিদের চাষ নারীদের শুধু আয়ই দেবে না, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশকেও শক্ত অবস্থান এনে দেবে।”তিনি আরও বলেন, দেশের মাটি, আবহাওয়া ঔষধি উদ্ভিদের জন্য আদর্শ। সঠিক প্রশিক্ষণ পেলে প্রতিটি গ্রামে ছোট ছোট আঞ্চলিক ক্লাস্টার গড়ে উঠবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতির চেহারা বদলে দিতে পারে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,ফাতেমা বিনতে রহমান বিজনেস প্রমোশন অফিসার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, মো. আলাউদ্দিন সরদার, উপসহকারী কৃষি অফিসার। আরও উপস্থিত ছিলেন, মমতাজ হাকিম স্বত্বাধিকারী, নিম অর্গানিক লিমিটেড;ওয়ারেন্ট অফিসার (অব.) আবু তাহের মোল্লা, সভাপতি, খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (র.) জামে মসজিদ প্রমূখ।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নিম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. এম এ হাকিম।
রপ্তানিমুখী ওষধুি খাতে নারীদের নতুন সুযোগ, নারীদের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ঔষধি উদ্ভিদ চাষ-আবাদ শেখানো,গ্রামভিত্তিক আঞ্চলিক চক্রকেন্দ্র গড়ে তোলা,স্থানীয় হারবাল কাঁচামালের উৎপাদন বৃদ্ধি,নারীদের স্বনির্ভর উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা,প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা বাসক, কালমেঘ, নিম, অশ্বগন্ধা, তুলসী, অলোভেরা, শতমূলীসহ বহু রপ্তানিযোগ্য উদ্ভিদ চাষের কৌশল শিখছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বে হারবাল পণ্যের বাজার প্রতিবছর প্রায় ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিকল্পিতভাবে এই খাতে বিনিয়োগ করলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

এই প্রশিক্ষনের মাধ্যানে নারীদের কণ্ঠে নতুন আত্মবিশ্বাস, অংশগ্রহণকারী নারীরা জানান, এই প্রশিক্ষণ তাদের জীবনে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। তারা নিজের আঙিনায়, পতিত জমিতে এবং অংশীদারিভাবে জমি নিয়ে আঞ্চলিক ক্লাস্টার গড়ার পরিকল্পনা করছেন। তাদের বিশ্বাস—এ উদ্যোগ তাদের পরিবারকে অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালী করবে এবং একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করবে।
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে এমন উদ্যোগ শুধু নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেই নয়, বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমনটাই বলছেন আয়োজকরা।
৬ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ শেষ হবে ১৫ ডিসেম্বর সনদ বিতরণের মধ্য দিয়ে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বালিয়াকান্দিতে রপ্তানিযোগ্য ঔষধি উদ্ভিদের উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শুরু

প্রকাশের সময় : ০৯:০১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে শুরু হয়েছে রপ্তানিযোগ্য ঔষধি উদ্ভিদ চাষে নারীদের সক্ষমতা বাড়াতে ছয় দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ। “উদ্বুদ্ধকরণ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশীয় চাহিদা ও রপ্তানিযোগ্য ঔষধি উদ্ভিদের সমাজভিত্তিক আঞ্চলিক চক্রকেন্দ্র উন্নয়ন” শীর্ষক এ কার্যক্রমটি ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে ডাস-বাংলাদেশ ট্রেনিং এন্ড রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে। প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ৪০ জন নারী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রতন কুমার ঘোষ। তিনি বলেন,“বিশ্ববাজারে হারবাল পণ্যের যে গতি তাতে এখনই উদ্যোগী না হলে পিছিয়ে পড়বো। বৈজ্ঞানিক উপায়ে ঔষধি উদ্ভিদের চাষ নারীদের শুধু আয়ই দেবে না, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশকেও শক্ত অবস্থান এনে দেবে।”তিনি আরও বলেন, দেশের মাটি, আবহাওয়া ঔষধি উদ্ভিদের জন্য আদর্শ। সঠিক প্রশিক্ষণ পেলে প্রতিটি গ্রামে ছোট ছোট আঞ্চলিক ক্লাস্টার গড়ে উঠবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতির চেহারা বদলে দিতে পারে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,ফাতেমা বিনতে রহমান বিজনেস প্রমোশন অফিসার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, মো. আলাউদ্দিন সরদার, উপসহকারী কৃষি অফিসার। আরও উপস্থিত ছিলেন, মমতাজ হাকিম স্বত্বাধিকারী, নিম অর্গানিক লিমিটেড;ওয়ারেন্ট অফিসার (অব.) আবু তাহের মোল্লা, সভাপতি, খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (র.) জামে মসজিদ প্রমূখ।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নিম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. এম এ হাকিম।
রপ্তানিমুখী ওষধুি খাতে নারীদের নতুন সুযোগ, নারীদের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ঔষধি উদ্ভিদ চাষ-আবাদ শেখানো,গ্রামভিত্তিক আঞ্চলিক চক্রকেন্দ্র গড়ে তোলা,স্থানীয় হারবাল কাঁচামালের উৎপাদন বৃদ্ধি,নারীদের স্বনির্ভর উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা,প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা বাসক, কালমেঘ, নিম, অশ্বগন্ধা, তুলসী, অলোভেরা, শতমূলীসহ বহু রপ্তানিযোগ্য উদ্ভিদ চাষের কৌশল শিখছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বে হারবাল পণ্যের বাজার প্রতিবছর প্রায় ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিকল্পিতভাবে এই খাতে বিনিয়োগ করলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

এই প্রশিক্ষনের মাধ্যানে নারীদের কণ্ঠে নতুন আত্মবিশ্বাস, অংশগ্রহণকারী নারীরা জানান, এই প্রশিক্ষণ তাদের জীবনে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। তারা নিজের আঙিনায়, পতিত জমিতে এবং অংশীদারিভাবে জমি নিয়ে আঞ্চলিক ক্লাস্টার গড়ার পরিকল্পনা করছেন। তাদের বিশ্বাস—এ উদ্যোগ তাদের পরিবারকে অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালী করবে এবং একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করবে।
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে এমন উদ্যোগ শুধু নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেই নয়, বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমনটাই বলছেন আয়োজকরা।
৬ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ শেষ হবে ১৫ ডিসেম্বর সনদ বিতরণের মধ্য দিয়ে।