কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, কিন্তু নেই ট্রান্সপ্লান্টের টাকা

- প্রকাশের সময় : ০৫:৩৩:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 114
মাত্র ২২ বছর বয়সে জীবনের সঙ্গে লড়াই করছেন শেরপুরের মো. কনি মিয়া। দুই কিডনিই বিকল হয়ে যাওয়ায় সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে তাঁকে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন করা না গেলে তাকে বাঁচানো সম্ভব নয়। মায়ের কিডনি দিতে প্রস্তুত হলেও পরিবারের পক্ষে ট্রান্সপ্লান্টের বিপুল খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
শেরপুর শহরের চকপাঠক মহল্লার দিনমজুর আশ্রাব আলী ও মনোয়ারা বেগমের চার ছেলের মধ্যে কনি সবার ছোট। বাবা অসুস্থ এবং আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় দশম শ্রেণির পর কনির পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। সংসারের হাল ধরতে তিনি স্থানীয় একটি চালের মিলে কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ চোখে সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে গেলে জানা যায়, তার দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে।
বর্তমানে তিনি ঢাকার সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে। আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সামান্য সহায়তায় কোনোমতে চলছে চিকিৎসা, তবে তা পর্যাপ্ত নয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য অন্তত ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন।
কনির মা মনোয়ারা বেগম আবেগভরে বলেন, “আমার কিডনি আমি ছেলেকে দিতে প্রস্তুত। কিন্তু অপারেশনের খরচ জোগাড় করার কোনো উপায় নেই। আমার ছেলেটা নামাজি, সৎ আর নীতিবান। আল্লাহর ওয়াস্তে সবাই যদি একটু পাশে দাঁড়ান, আমার ছেলেটা বাঁচবে।”
কনির মামা মানিক মিয়া বলেন, “তার বাবার কোনো জমিজমা নেই। চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে গেছে। এখন আত্মীয়স্বজন মিলে সামান্য সহায়তা করলেও তা যথেষ্ট নয়।”
এ বিষয়ে শেরপুর সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, “সরকারি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে কিডনি, ক্যানসারসহ গুরুতর রোগে আক্রান্ত দুস্থ রোগীরা আর্থিক সহায়তা পান। কনি মিয়া নিয়ম মেনে আবেদন করলে যাচাই-বাছাইয়ের পর তাকে সহায়তা দেওয়া হবে।”





















