সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

- প্রকাশের সময় : ০৯:১০:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 17

মানবতাবিরোধী অপরাধে আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীকে মৃত্যুর ১৬ ঘণ্টা পর গভীর রাতে দাফন করা হয়েছে। জামায়াত নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের বিরোধিতার মুখে মরদেহ নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে পরিবারের নারী সদস্যরা নিজেরাই কবর খনন করেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে তাঁর বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। একই দিন দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেওয়া হলে স্বজনেরা জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের বিরোধিতার মুখে পড়েন। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সেখান থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়। বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর সদর থানা পুলিশ মরদেহের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকে।
রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানো হয়। পরে মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের নারী সদস্যরা কবর খনন করেন। রাত ২টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
মানিক পশারীর বোন হেনা পশারী বলেন, ‘আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ঝামেলা হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি, সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পরে মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই।’
তবে দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে জেলা জামায়াত বা অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতা বাধা দেননি। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা লাশের রাজনীতি করেন না। পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি যশোর ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার কাছে আশ্রয় নেন। গত দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়।





















