ট্রেনে নিজের জুস পান করে নিজেই অচেতন অজ্ঞান পার্টির সদস্য!
- প্রকাশের সময় : ১২:০৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
- / 109
চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে মা-মেয়েকে জুস পান করিয়ে অজ্ঞান করে স্বর্ণালঙ্কার লুটের চেষ্টা করে অজ্ঞান পার্টির এক সদস্য। তবে যাত্রীদের তাৎপর্যতায় ঘটনাস্থলেই হাতেনাতে ধরা পড়েন ওই প্রতারক। পরে তার কাছে থাকা জুস তাঁকে পান করানো হলে তিনিও অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পুলিশ ভুক্তভোগী মা-মেয়ে ও প্রতারককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
শনিবার ভোরে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘ঝ’ বগিতে এ ঘটনা ঘটে। আটক প্রতারকের নাম ফুল মিয়া (৫৫)। তিনি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার আব্দুল্লাপুর গ্রামের আব্দুস ছামাদের ছেলে। ভুক্তভোগীরা হলেন—ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার করনাই এলাকার দক্ষিণ মালঞ্চ গ্রামের কৌশিলা রায় (৫০) ও তাঁর মেয়ে বীথি রানী (২৮)।
রেলওয়ে পুলিশ জানায়, বিরামপুর স্টেশন থেকে ওঠেন কৌশিলা ও তাঁর মেয়ে। তাঁদের পাশের ৭৭ নম্বর সিটে বসেন ফুল মিয়া। আলাপচারিতার একপর্যায়ে তিনি তাঁদের জুস পান করান। কিছুক্ষণের মধ্যে মা-মেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি তাঁদের কানের দুল ও নাকের ফুল খুলে নেন।
বগির আরেক যাত্রী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বিষয়টি আঁচ করে ফুল মিয়াকে আটক করেন এবং অন্য যাত্রীদের জানান। ফুল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করলে তাঁকে নিজের কাছে থাকা জুস পান করানো হয়। এতে তিনি নিজেও অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এরপর বিষয়টি স্পষ্ট হলে তাঁকে ট্রেনে দায়িত্বরত পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ-উন নবী বলেন, ভুক্তভোগী মা-মেয়ে ও ফুল মিয়াকে সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কৌশিলা রায়ের ছেলে রবীন্দ্র নাথ রায় বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। তিনি আরও জানান, ফুল মিয়ার নামে দেশের বিভিন্ন রেলওয়ে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী ও আসামি কেউই জ্ঞান ফেরেনি।


























