গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন
চাঁদা না পেয়ে প্রবাসীকে মারধরের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা
- প্রকাশের সময় : ০৬:৩১:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫
- / 288
ইটালী প্রবাসী মাসুম শেখের কাছে চাঁদা না পেয়ে বেদম মারধরের অভিযোগে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মশিউল আযম চুন্নুসহ আটজনের বিরুদ্ধে রাজবাড়ীর আদালতে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী মাসুম শেখের স্ত্রী উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পলি আক্তার বাদী হয়ে গত সোমবার রাজবাড়ীর জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট বালিয়াকান্দি আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন চুন্নুর ছেলে ছাত্রদল নেতা খন্দকার শফিউল আজম শিবলু, খন্দকার শোভন আরেফিন, মৃত আবুল হোসেনের ছেলে নাজমুল হাসান বিপু, আশরাফ শেখের ছেলে শ্রমিকদল নেতা সহেল শেখ, মৃত নুরু বিশ^াসের ছেলে মো. নান্নু বিশ^াস, বালিয়াকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও বিএনপি নেতা মো. মহসীন খান, রায়পুর গ্রামের নারান দাসের ছেলে উজ্জল দাস। মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে বালিয়াকান্দি থানাকে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, মাসুম শেখ জীবিকার তাগিদে ২০০৭ সালে ইতালীতে যান। তিনি বালিয়াকান্দি কৃষি অফিসের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করেন। বালিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার মশিউল আজম চুন্নুর ছেলে ছাত্রদল নেতা খোন্দকার শফিউল আজম শিবলু তাকে উত্যক্ত করতো। এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের হয়। পরে বালিয়াকান্দি থেকে বদলি হয়ে ফরিদপুরে চলে যায়। মাসুম শেখ সম্প্রতি ইতালী থেকে দেশে আসেন। গত ১৫ আগস্ট শুক্রবার মাসুম শেখ বালিয়াকান্দিতে জুম্মার নামাজ পড়ে পিতার কবর জিয়ারত করে ফেরার পথে চুন্নু, তার ছেলে শিবলু সহ লোকজন নিয়ে তার কাছে এসে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদাদাবী করে। দিতে অস্বীকার করায় মাসুমের উপর এলোপাথারী ভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে।
এদিকে দুপুর ১২টায় রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে খন্দকার মশিউল আযম চুন্নুসহ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন হয়। বালিয়াকান্দির সর্বস্তরের জনগণ এর ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন মাসুম শেখের স্ত্রী ও মামলার বাদী পলি আক্তার, ভুক্তভোগী মাসুম শেখ, জিএম মোর্শেদ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি, বালু মহাল দখলকরাসহ এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে এলাকার অসহায় লোকজনের উপর অবৈধ প্রভাব ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে। এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এ ঘটনায় যৌথবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়। জেল থেকে বের হয়ে পুনরায় এসকল অপরাধমুলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে।
অভিযুক্ত মশিউল আযম চুন্নুর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে মাসুম শেখ তার কাছ থেকে আট লাখ টাকা নিয়েছিল। আমার নামে মিথ্যা মামলা করেছিল। এছাড়া অনেক অপরাধ করেছে। এসব কারণে আমার লোকজন তাকে (মাসুম শেখ) মেরেছে। মামলার বাদীর সাথে তার তিন বছর দেখা হয়না। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
রাজবাড়ী জেলা বিএনপির আহŸায়ক অ্যাড. লিয়াকত আলী বাবু বলেন, ইতালী প্রবাসী মাসুম শেখের স্ত্রী বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জকে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী জেলা কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয় বিএনপিকে অবগত করা হবে।




















