Dhaka ০২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
নজরদারির অভাব!

গোয়ালন্দে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহার

গণেশ পাল
  • প্রকাশের সময় : ০৩:২৬:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫
  • / 202

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে অ্যান্টিবায়োটিক’ ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই অনুমোদনহীন অনেক ফার্মেসিতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিকসহ নানা ধরনের সংবেদনশীল ওষুধ। এলাকায় ‘ডাক্তার’ নামধারী হওয়ায় ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি নিজ দোকানে বসে নানা রোগের চিকিৎসাও করছেন অনেক দোকানি। বেশি মুনাফার লোভে রোগীদের হাতে বিভিন্ন ওষুধের সঙ্গে দামি অ্যান্টিবায়োটিক গছিয়ে দিচ্ছেন তাঁরা। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে এলাকার সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, স্বাস্থ্য বিভাগের উদাসীনতার কারণে অ্যান্টিবায়োটিকের অবাধ ব্যবহারের পাশাপাশি নামধারী ডাক্তারদের অপচিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর শহর থেকে শুরু করে উপজেলার উজানচর, দৌলতদিয়া, ছোট ভাকলা ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারে রয়েছে দেড় শতাধিক ছোট-বড় ওষুধের দোকান (ফার্মেসি)। এর মধ্যে ৪৮টি  ফার্মেসির ড্রাগ লাইসেন্স’ থাকলেও অন্যগুলোর তা নেই। অনুমোদনহীন ওই সব ওষুধের দোকানিরা সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে অবাধে ওষুধ বিক্রি করছেন। নিজ দোকানে বসে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি নানা রোগের চিকিৎসাও করছেন অনেকে। ‘ডাক্তার’ নামধারী হওয়ায় এলাকার অনেক রোগী তাঁদের কাছে যায়। এর মধ্যে (রোগী) নিম্নবিত্তের সাধারণ মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। নামধারী ডাক্তারদের দেওয়া উচ্চমানের অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধ খেয়ে রোগীর অবস্থা যখন জটিল হয়ে পড়ে, তখন তারা সরকারি হাসপাতালে যায়। প্রতিদিন এমন বহু রোগী আসছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। অপচিকিৎসার শিকার হওয়া রোগীদের মধ্যে শিশুরোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পৌর শহর এলাকার এক ফার্মেসির মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ এলাকায় ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়াই ফার্মেসি খুলে ওষুধ বিক্রি করছেন অনেকে। আবার চিকিৎসক না হয়েও অনেকে নিয়মিত নানা রোগের চিকিৎসা করে আসছেন। স্টেরয়েড, উচ্চ মানসম্পন্ন পেইনকিলারসহ অনেক ওষুধ আছে, যা প্রেসক্রাইব করার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও চিন্তা-ভাবনা করেন। অথচ এলাকার ডাক্তার নামধারী ওষুধের দোকানিরা তাঁদের কাছে আসা বিভিন্ন রোগীকে সংবেদনশীল ওই সব ওষুধ দিচ্ছেন। রোগ ও রোগীর লক্ষণ যা-ই হোক, দামি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ গছিয়ে দেওয়াই ওই সব দোকানির মূল ব্যবসা। মুনাফার লোভে সেখানে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই বিক্রি হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিকসহ সংবেদনশীল বিভিন্ন ওষুধ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. শরীফ ইসলাম জানান, মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিজট্যান্স তৈরি হয়। পরে রোগাক্রান্ত হলে ওই সব রোগীর, বিশেষ করে শিশু রোগীর শরীরে আর কোনো অ্যান্টিবায়োটিক সহসা কাজ করে না। এমন রোগীদের সুস্থ করে তোলা অনেকটা দুরূহ হয়ে পড়ে। অথচ সুচিকিৎসা পেতে অনেক রোগী সরকারি এই হাসপাতালে সরাসরি আসে না। প্রথমে তারা এলাকার নামধারী ডাক্তারদের কাছে যায়। সেখানে নামধারী ডাক্তার চিকিৎসার নামে রোগীদের অবাধে কয়েক ধাপ অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করান। এসব ওষুধ খেয়ে রোগীর অবস্থা যখন জটিল হয়ে পড়ে, তখন তারা আসে সরকারি এই হাসপাতালে।

 গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মারুফ  হাসান বলেন, সরকার অনুমোদিত ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়া ওষুধ বিক্রি আইনে নিষিদ্ধ। গোয়ালন্দে ড্রাগ লাইসেন্সহীন ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি নামধারী ডাক্তারদের অপচিকিৎসার বিষয়টি আমি জেনেছি। উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদলতের মাধ্যমে এলাকার নামধারী ডাক্তারসহ অবৈধ ফার্মেসির মালিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

নজরদারির অভাব!

গোয়ালন্দে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহার

প্রকাশের সময় : ০৩:২৬:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে অ্যান্টিবায়োটিক’ ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই অনুমোদনহীন অনেক ফার্মেসিতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিকসহ নানা ধরনের সংবেদনশীল ওষুধ। এলাকায় ‘ডাক্তার’ নামধারী হওয়ায় ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি নিজ দোকানে বসে নানা রোগের চিকিৎসাও করছেন অনেক দোকানি। বেশি মুনাফার লোভে রোগীদের হাতে বিভিন্ন ওষুধের সঙ্গে দামি অ্যান্টিবায়োটিক গছিয়ে দিচ্ছেন তাঁরা। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে এলাকার সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, স্বাস্থ্য বিভাগের উদাসীনতার কারণে অ্যান্টিবায়োটিকের অবাধ ব্যবহারের পাশাপাশি নামধারী ডাক্তারদের অপচিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর শহর থেকে শুরু করে উপজেলার উজানচর, দৌলতদিয়া, ছোট ভাকলা ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারে রয়েছে দেড় শতাধিক ছোট-বড় ওষুধের দোকান (ফার্মেসি)। এর মধ্যে ৪৮টি  ফার্মেসির ড্রাগ লাইসেন্স’ থাকলেও অন্যগুলোর তা নেই। অনুমোদনহীন ওই সব ওষুধের দোকানিরা সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে অবাধে ওষুধ বিক্রি করছেন। নিজ দোকানে বসে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি নানা রোগের চিকিৎসাও করছেন অনেকে। ‘ডাক্তার’ নামধারী হওয়ায় এলাকার অনেক রোগী তাঁদের কাছে যায়। এর মধ্যে (রোগী) নিম্নবিত্তের সাধারণ মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। নামধারী ডাক্তারদের দেওয়া উচ্চমানের অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধ খেয়ে রোগীর অবস্থা যখন জটিল হয়ে পড়ে, তখন তারা সরকারি হাসপাতালে যায়। প্রতিদিন এমন বহু রোগী আসছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। অপচিকিৎসার শিকার হওয়া রোগীদের মধ্যে শিশুরোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পৌর শহর এলাকার এক ফার্মেসির মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ এলাকায় ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়াই ফার্মেসি খুলে ওষুধ বিক্রি করছেন অনেকে। আবার চিকিৎসক না হয়েও অনেকে নিয়মিত নানা রোগের চিকিৎসা করে আসছেন। স্টেরয়েড, উচ্চ মানসম্পন্ন পেইনকিলারসহ অনেক ওষুধ আছে, যা প্রেসক্রাইব করার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও চিন্তা-ভাবনা করেন। অথচ এলাকার ডাক্তার নামধারী ওষুধের দোকানিরা তাঁদের কাছে আসা বিভিন্ন রোগীকে সংবেদনশীল ওই সব ওষুধ দিচ্ছেন। রোগ ও রোগীর লক্ষণ যা-ই হোক, দামি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ গছিয়ে দেওয়াই ওই সব দোকানির মূল ব্যবসা। মুনাফার লোভে সেখানে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই বিক্রি হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিকসহ সংবেদনশীল বিভিন্ন ওষুধ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. শরীফ ইসলাম জানান, মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিজট্যান্স তৈরি হয়। পরে রোগাক্রান্ত হলে ওই সব রোগীর, বিশেষ করে শিশু রোগীর শরীরে আর কোনো অ্যান্টিবায়োটিক সহসা কাজ করে না। এমন রোগীদের সুস্থ করে তোলা অনেকটা দুরূহ হয়ে পড়ে। অথচ সুচিকিৎসা পেতে অনেক রোগী সরকারি এই হাসপাতালে সরাসরি আসে না। প্রথমে তারা এলাকার নামধারী ডাক্তারদের কাছে যায়। সেখানে নামধারী ডাক্তার চিকিৎসার নামে রোগীদের অবাধে কয়েক ধাপ অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করান। এসব ওষুধ খেয়ে রোগীর অবস্থা যখন জটিল হয়ে পড়ে, তখন তারা আসে সরকারি এই হাসপাতালে।

 গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মারুফ  হাসান বলেন, সরকার অনুমোদিত ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়া ওষুধ বিক্রি আইনে নিষিদ্ধ। গোয়ালন্দে ড্রাগ লাইসেন্সহীন ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি নামধারী ডাক্তারদের অপচিকিৎসার বিষয়টি আমি জেনেছি। উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদলতের মাধ্যমে এলাকার নামধারী ডাক্তারসহ অবৈধ ফার্মেসির মালিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।