বালিয়াকান্দির বারুগ্রাম-ইকরজনার ২ কি:মি: সড়ক সংস্কারের দাবি
- প্রকাশের সময় : ০৮:০৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫
- / 235
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বারুগ্রাম আবাসন থেকে ইকরজনা স্কুল পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ গ্রামীণ সড়কটির বেহাল দশায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী। প্রতিদিন শত শত মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করলেও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
এ রাস্তাটি শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, স্থানীয় পর্যটনেরও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারুগ্রাম আবাসন এলাকাটি বুক ভরে নিশ্বাস নেয়ার প্রকৃতির এক অপার নীলাভূমি। বিলের জলে ভেসে বেড়ানো বাতাস, দিগন্তজুড়ে ছড়ানো মেঘ আর বাবলা গাছের সারি মাঠ ভরা ফসল,বর্ষার মৌসুমে শুধু পানি আর পানি মাঝ দিয়ে রয়েছে প্রশস্ত পাকা সড়ক, প্রকৃতিপ্রেমীদের আকৃষ্ট করে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসেন এখানে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য।
শিক্ষক সোহেল মিয়া, সাংবাদিক দেবাশীষ বিশ্বাস, মীর সৌরভ ও রুবেল লালন চিশতি বলেন, “রাজবাড়ী জেলার অন্যতম সুন্দর জায়গা এটি। কিন্তু সড়কের দুরবস্থার কারণে এ অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।” তারা আরও বলেন, “এই দুই কিলোমিটার রাস্তা পাকা হলে বালিয়াকান্দির আরকান্দী, বাঘুটিয়া, জামালপুর এই অঞ্চলের সঙ্গে রাজবাড়ী সদরের সরাসরি সংযোগ স্হাপিত হবে দূরত্ব কমে যাবে সাত-আট কিলোমিটার।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, বারুগ্রাম আবাসনের ব্রীজ থেকে শুরু করে ইকরজনা স্কুল হয়ে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানিবহ ইউনিয়নের আটদাপুনিয়া পর্যন্ত কাঁচা রাস্তাটি খানাখন্দে ভরা। কিছু স্থানে পানি জমে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভ্যান, বাইসাইকেল, ইজিবাইক তো দূরের কথা—পথচারীদেরও চলাচল দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। যানবাহন চালকরা বাধ্য হয়ে ৬-৭ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন।
ইকরজনা গ্রামের কৃষকরা জানান, ফসল কাঁধে করে ঘরে তুলতে হয়। বাজারে নিতে গেলে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে, এতে কৃষি উৎপাদনে বাড়তি ব্যয় যোগ হচ্ছে।
স্থানীয় ইজিবাইক চালক মিনহাজ হোসেন ও নছিমনচালক শহিদ প্রামানিক বলেন, “প্রতিদিন ৭-৮ কিলোমিটার বেশি ঘুরে যেতে হয়, এতে সময় ও খরচ—দুটোই বেড়েছে।”
অটোভ্যানচালক রহমান বলেন, “এই রাস্তা ভালো থাকলে রাজবাড়ী যাওয়া সহজ হতো। এখন বহরপুর হয়ে ১৯ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়, অথচ সরাসরি গেলে মাত্র ১১ কিলোমিটার।”
বহরপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছাঃ শিরিনা আক্তার বিউটি জানান, “ইকরজনার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন। আমরা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি।”
এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কোহিনূর জাহান জানান, “সড়কটি সরজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। মাটি দিয়ে উন্নয়ন করতে হবে। চলতি অর্থবছরে কাজ শুরু করার চেষ্টা রয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বহরপুর ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা রাস্তাটি নিয়ে আমাদের জানিয়েছেন। গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হবে।”
এলাকাবাসী বারুগ্রাম আবাসনের পাকা রাস্তা থেকে ইকরজনা স্কুল মোড় পর্যন্ত রাস্তা দ্রুত সংস্কার বা পাকা করার জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা জানান, দীর্ঘদিন অবহেলিত রাস্তাটি মেরামত না হলে যাতায়াতে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

























