Dhaka ০৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
গর্ব করে বলতে পারি, আমার দলের কোনো কর্মী চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়: আইনমন্ত্রী চার দিনেই ৪২৪ কোটি রুপি আয়, ৫০০ কোটির পথে রজনীকান্তের ‘জেলার ২’ হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১২০১ মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলার ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে: অ্যাটর্নি জেনারেল ‘দায়িত্ব পালন করতে না পারলে হাতে চুড়ি পরে বসে থাকুন’, ডিসিকে জামায়াত নেতার হুঁশিয়ারি ওয়ানডের নতুন নিয়মে ফিরছে রিভার্স সুইং, শেষ ওভারে চাপে ব্যাটাররা নওগাঁয় ৬০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন মন্ত্রিসভার কাউকে পদত্যাগ করতে বলার ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে : অ্যাটর্নি জেনারেল জুলাই একদিনে সংঘটিত হয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফোনে স্বামীর মুখে তালাকের কথা শুনে প্রাণ দিলেন স্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৩৩:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৫
  • / 149

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুঠোফোনের বার্তায় প্রবাসী স্বামী তালাক দেওয়ায় মারিয়া খানম প্রভা (১৮) নামে এক গৃহবধূ বিষ ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৯ জানুয়ারি) সকালে নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে।

নিহত মারিয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের চান্দি গ্রামের আইয়ুব মিয়ার মেয়ে।

হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২ বছর আগে উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের টাংগা গ্রামের মুসা মিয়ার ছেলে আরিয়ান চৌধুরী ও মারিয়া খানম প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করেন। বিয়ের কয়েকমাস পর আরিয়ান সৌদি আরবে চলে যান। এরপর থেকে আরিয়ান ও তার পরিবারের লোকজন বিভিন্ন রকম সন্দেহ করে এবং যৌতুকের জন্য মারিয়াকে মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। কয়েকদিন ধরে মারিয়া তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিল। শনিবার দুপুরে মোবাইলে স্বামীর সঙ্গে কথা বলার সময় দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে স্বামী আরিয়ান মুঠোফোনের মেসেজে মারিয়াকে তালাক দেয়। এই অভিমানে মারিয়া বিষ ট্যাবলেট খান। পরে পরিবারের লোকজন তাকে অচেতন অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত মারিয়ার পিতা আইয়ুব মিয়া অভিযোগ করে বলেন, মারিয়া ৯ম শ্রেণীতে লেখাপড়া করার সময় আরিয়ানের সঙ্গে মারিয়ার প্রেমের সম্পর্ক হয়। পরে তারা ২০২২ সালের দিকে পালিয়ে বিয়ে করে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই আরিয়ান বদলে যায়। মারিয়াকে সে প্রায় সময় মানসিক নির্যাতন করতো। বিয়ের পর সে সৌদি আরবে চলে যাবার পর থেকে মারিয়াকে সন্দেহ করতো এবং আরিয়ানের পরিবারের লোকজন মারিয়াকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে আসছিল। শনিবার আরিয়ান মুঠোফোনের বার্তায় মারিয়াকে তালাক দেয়। এই খবর শুনে আমার মেয়ে বিষের ট্যাবলেট খেয়ে ফেলে। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তারা আমার মেয়েকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাফ্ফর হোসেন জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে গৃহবধূর আত্মহত্যার বিষয়টি জানানো হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অভিযোগ সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ফোনে স্বামীর মুখে তালাকের কথা শুনে প্রাণ দিলেন স্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৯:৩৩:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুঠোফোনের বার্তায় প্রবাসী স্বামী তালাক দেওয়ায় মারিয়া খানম প্রভা (১৮) নামে এক গৃহবধূ বিষ ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৯ জানুয়ারি) সকালে নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে।

নিহত মারিয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের চান্দি গ্রামের আইয়ুব মিয়ার মেয়ে।

হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২ বছর আগে উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের টাংগা গ্রামের মুসা মিয়ার ছেলে আরিয়ান চৌধুরী ও মারিয়া খানম প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করেন। বিয়ের কয়েকমাস পর আরিয়ান সৌদি আরবে চলে যান। এরপর থেকে আরিয়ান ও তার পরিবারের লোকজন বিভিন্ন রকম সন্দেহ করে এবং যৌতুকের জন্য মারিয়াকে মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। কয়েকদিন ধরে মারিয়া তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিল। শনিবার দুপুরে মোবাইলে স্বামীর সঙ্গে কথা বলার সময় দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে স্বামী আরিয়ান মুঠোফোনের মেসেজে মারিয়াকে তালাক দেয়। এই অভিমানে মারিয়া বিষ ট্যাবলেট খান। পরে পরিবারের লোকজন তাকে অচেতন অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত মারিয়ার পিতা আইয়ুব মিয়া অভিযোগ করে বলেন, মারিয়া ৯ম শ্রেণীতে লেখাপড়া করার সময় আরিয়ানের সঙ্গে মারিয়ার প্রেমের সম্পর্ক হয়। পরে তারা ২০২২ সালের দিকে পালিয়ে বিয়ে করে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই আরিয়ান বদলে যায়। মারিয়াকে সে প্রায় সময় মানসিক নির্যাতন করতো। বিয়ের পর সে সৌদি আরবে চলে যাবার পর থেকে মারিয়াকে সন্দেহ করতো এবং আরিয়ানের পরিবারের লোকজন মারিয়াকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে আসছিল। শনিবার আরিয়ান মুঠোফোনের বার্তায় মারিয়াকে তালাক দেয়। এই খবর শুনে আমার মেয়ে বিষের ট্যাবলেট খেয়ে ফেলে। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তারা আমার মেয়েকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাফ্ফর হোসেন জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে গৃহবধূর আত্মহত্যার বিষয়টি জানানো হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অভিযোগ সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।