Dhaka ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১২০১ মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলার ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে: অ্যাটর্নি জেনারেল ‘দায়িত্ব পালন করতে না পারলে হাতে চুড়ি পরে বসে থাকুন’, ডিসিকে জামায়াত নেতার হুঁশিয়ারি ওয়ানডের নতুন নিয়মে ফিরছে রিভার্স সুইং, শেষ ওভারে চাপে ব্যাটাররা নওগাঁয় ৬০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন মন্ত্রিসভার কাউকে পদত্যাগ করতে বলার ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে : অ্যাটর্নি জেনারেল জুলাই একদিনে সংঘটিত হয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যান্সার প্রতিরোধে যা করণীয়, সরকার সব করবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুর্গাপূজার বার্তা সর্বজনীন, সকল সম্প্রদায়ের: রিজভী

ওয়ানডের নতুন নিয়মে ফিরছে রিভার্স সুইং, শেষ ওভারে চাপে ব্যাটাররা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৪২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 4

ওয়ানডে ক্রিকেটে বল ব্যবহারের নিয়ম পরিবর্তনের ফলে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে রিভার্স সুইং। পুরোনো বলে পেসারদের বাড়তি সুবিধা পাওয়ায় ইনিংসের শেষ দিকে রান তোলা কঠিন হয়ে উঠছে ব্যাটারদের জন্য। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিসংখ্যানেও এই পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।

গত বছরের জুলাইয়ে চালু হওয়া নিয়ম অনুযায়ী, ওয়ানডে ম্যাচের প্রথম ৩৪ ওভারে দুই প্রান্ত থেকে দুটি সাদা বল ব্যবহার করা হয়। এরপর অধিনায়ক দুটি বলের মধ্যে একটি বেছে নেন, যা দিয়ে ইনিংসের বাকি ১৬ ওভার খেলা হয়। আগে পুরো ইনিংসে দুই প্রান্ত থেকে দুটি আলাদা বল ব্যবহারের নিয়ম ছিল।

ব্যাট ও বলের লড়াইয়ে ভারসাম্য ফেরাতেই এই পরিবর্তন আনা হয়। পুরোনো বলে রিভার্স সুইংয়ের সুযোগ বাড়ায় শেষ ওভারগুলোতে পেসাররা এখন তুলনামূলক বেশি কার্যকর হয়ে উঠছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিয়ম পরিবর্তনের পর ইনিংসের শেষ ১০ ওভারে পেসারদের করা ফুল-লেংথ বলের প্রায় ৫০ শতাংশ এক ডিগ্রির বেশি সুইং করেছে। অথচ আগের ১৮ মাসে এই হার ছিল ৩৫ শতাংশ।

শুধু সুইং নয়, বোলারদের পারফরম্যান্সেও পরিবর্তন এসেছে। শেষ পাঁচ ওভারে পেসারদের ওভারপ্রতি রান দেওয়ার হার ৮ দশমিক ৪০ থেকে কমে ৭ দশমিক ৯৫ হয়েছে। একই সময়ে তাঁদের বোলিং গড় ১৯ দশমিক ২ থেকে নেমে এসেছে ১৮ দশমিক ৩-এ।

পুরোনো বলের বাড়তি মুভমেন্ট কাজে লাগাতে পেসাররা এখন আগের চেয়ে বেশি ফুল-লেংথ বল করছেন। ফলে ইনিংসের শেষ দিকে বড় শট খেলে দ্রুত রান তোলার প্রচলিত কৌশল নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

সম্প্রতি হেডিংলিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের ১৬ রানের পরাজয়ের পর বিষয়টি তুলে ধরেন ইংল্যান্ডের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। তাঁর মতে, ওয়ানডে ক্রিকেটের ধরন বদলে যাচ্ছে এবং সেখানে বলের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। শ্রীলঙ্কা পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুবিধা কাজে লাগিয়েই জয় পেয়েছে।

বিবিসি স্পোর্টের সাংবাদিক ম্যাথিউ হেনরির বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে নিয়ম পরিবর্তনের প্রভাব। তাঁর মতে, রিভার্স সুইংয়ের প্রবণতা বাড়তে থাকলে দলগুলোকে ইনিংসের শেষ দিকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে শুরুর ওভারগুলোতেই বেশি রান সংগ্রহের পরিকল্পনা নিতে হতে পারে।

নতুন নিয়ম চালুর পর অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো দলগুলোর শেষ ওভারগুলোতে রান তোলার গতি কমেছে। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান সংগ্রহের হার কমেছে ওভারপ্রতি ২ দশমিক ৩৯ রান।

তবে নতুন নিয়মের কারণে পুরো ইনিংসজুড়েই ব্যাটিং কঠিন হয়ে পড়েছে, এমন নয়। প্রথম ৩৪ ওভারে দুটি বল ব্যবহারের সুযোগ থাকায় দলগুলোকে সেই সময়ের মধ্যে রান তোলার পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে।

সামনে ওয়ানডে বিশ্বকাপ থাকায় পুরোনো বল সামলানোর দক্ষতা এবং শেষ ওভারে রিভার্স সুইং মোকাবিলার সক্ষমতা ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রাথমিক পরিসংখ্যান বলছে, ব্যাট ও বলের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভারসাম্য ফেরানোর যে লক্ষ্য নিয়ে নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ওয়ানডের নতুন নিয়মে ফিরছে রিভার্স সুইং, শেষ ওভারে চাপে ব্যাটাররা

প্রকাশের সময় : ০৩:৪২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ওয়ানডে ক্রিকেটে বল ব্যবহারের নিয়ম পরিবর্তনের ফলে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে রিভার্স সুইং। পুরোনো বলে পেসারদের বাড়তি সুবিধা পাওয়ায় ইনিংসের শেষ দিকে রান তোলা কঠিন হয়ে উঠছে ব্যাটারদের জন্য। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিসংখ্যানেও এই পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।

গত বছরের জুলাইয়ে চালু হওয়া নিয়ম অনুযায়ী, ওয়ানডে ম্যাচের প্রথম ৩৪ ওভারে দুই প্রান্ত থেকে দুটি সাদা বল ব্যবহার করা হয়। এরপর অধিনায়ক দুটি বলের মধ্যে একটি বেছে নেন, যা দিয়ে ইনিংসের বাকি ১৬ ওভার খেলা হয়। আগে পুরো ইনিংসে দুই প্রান্ত থেকে দুটি আলাদা বল ব্যবহারের নিয়ম ছিল।

ব্যাট ও বলের লড়াইয়ে ভারসাম্য ফেরাতেই এই পরিবর্তন আনা হয়। পুরোনো বলে রিভার্স সুইংয়ের সুযোগ বাড়ায় শেষ ওভারগুলোতে পেসাররা এখন তুলনামূলক বেশি কার্যকর হয়ে উঠছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিয়ম পরিবর্তনের পর ইনিংসের শেষ ১০ ওভারে পেসারদের করা ফুল-লেংথ বলের প্রায় ৫০ শতাংশ এক ডিগ্রির বেশি সুইং করেছে। অথচ আগের ১৮ মাসে এই হার ছিল ৩৫ শতাংশ।

শুধু সুইং নয়, বোলারদের পারফরম্যান্সেও পরিবর্তন এসেছে। শেষ পাঁচ ওভারে পেসারদের ওভারপ্রতি রান দেওয়ার হার ৮ দশমিক ৪০ থেকে কমে ৭ দশমিক ৯৫ হয়েছে। একই সময়ে তাঁদের বোলিং গড় ১৯ দশমিক ২ থেকে নেমে এসেছে ১৮ দশমিক ৩-এ।

পুরোনো বলের বাড়তি মুভমেন্ট কাজে লাগাতে পেসাররা এখন আগের চেয়ে বেশি ফুল-লেংথ বল করছেন। ফলে ইনিংসের শেষ দিকে বড় শট খেলে দ্রুত রান তোলার প্রচলিত কৌশল নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

সম্প্রতি হেডিংলিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের ১৬ রানের পরাজয়ের পর বিষয়টি তুলে ধরেন ইংল্যান্ডের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। তাঁর মতে, ওয়ানডে ক্রিকেটের ধরন বদলে যাচ্ছে এবং সেখানে বলের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। শ্রীলঙ্কা পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুবিধা কাজে লাগিয়েই জয় পেয়েছে।

বিবিসি স্পোর্টের সাংবাদিক ম্যাথিউ হেনরির বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে নিয়ম পরিবর্তনের প্রভাব। তাঁর মতে, রিভার্স সুইংয়ের প্রবণতা বাড়তে থাকলে দলগুলোকে ইনিংসের শেষ দিকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে শুরুর ওভারগুলোতেই বেশি রান সংগ্রহের পরিকল্পনা নিতে হতে পারে।

নতুন নিয়ম চালুর পর অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো দলগুলোর শেষ ওভারগুলোতে রান তোলার গতি কমেছে। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান সংগ্রহের হার কমেছে ওভারপ্রতি ২ দশমিক ৩৯ রান।

তবে নতুন নিয়মের কারণে পুরো ইনিংসজুড়েই ব্যাটিং কঠিন হয়ে পড়েছে, এমন নয়। প্রথম ৩৪ ওভারে দুটি বল ব্যবহারের সুযোগ থাকায় দলগুলোকে সেই সময়ের মধ্যে রান তোলার পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে।

সামনে ওয়ানডে বিশ্বকাপ থাকায় পুরোনো বল সামলানোর দক্ষতা এবং শেষ ওভারে রিভার্স সুইং মোকাবিলার সক্ষমতা ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রাথমিক পরিসংখ্যান বলছে, ব্যাট ও বলের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভারসাম্য ফেরানোর যে লক্ষ্য নিয়ে নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে।