Dhaka ০৭:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে সরকার : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দেশের স্বার্থ নষ্ট হয়, এমন চুক্তি করবে না সরকার: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী নওগাঁয় কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিলেন এমপি ফজলে হুদা বাবুল দরিদ্র কৃষকের ধান কেটে বাড়ি তুলে দিলেন এমপি স্বামীর দেহ টুকরো টুকরো করা স্ত্রী বললেন- ‘জীবনে কখনো একটা পিঁপড়াও মারিনি’ স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের পড়াশোনার খরচ ফ্রি করবো: প্রধানমন্ত্রী ধনী-গরিব চেনে না এআই ক্যামেরা, সড়কে বাড়ছে আইন মানার প্রবণতা ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব ভারতেও পড়ছে: রিজভী ফিডিং কার্যক্রম নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের জরুরি নির্দেশনা সৌদি আরবে ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ জানা যাবে রোববার

ফরিদপুরের বিষ্ণুপুর কী দেশের দ্বিতীয় ‘ছোট গ্রাম’?

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৫৫:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৫
  • / 173

মাত্র একটি বাড়ি নিয়েই গড়ে উঠেছে একটি গ্রাম। আর সেই বাড়িতে বসতি রয়েছে ১০টি। সব মিলিয়ে তাদের সদস্য সংখ্যা ৩২ জন। ৬০ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এ গ্রামটি এখন সারাদেশের আলোচনায় রয়েছে।

গ্রামটিতে নেই স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, বাজার এমনকি কোনো রাস্তাঘাট। স্কুল ও বাজার করতে যেতে হয় দুই কিলোমিটার দূরে। নানা সমস্যা বিরাজমান থাকলেও একটি পরিবারের সদস্যরাই টিকিয়ে রেখেছে গ্রামটিকে। শুনতে অবাক হলেও ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রুপাপাত ইউনিয়নে রয়েছে এ গ্রামটি। ছোট্ট এ গ্রামটির নাম বিষ্ণুপুর, যা দেশের ‘দ্বিতীয়’ ছোট গ্রাম হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। অনেকেই কেষ্টপুর নামেও ডেকে থাকেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ‘শ্রীমুখ’ গ্রামটি এশিয়ার সবচেয়ে ছোট গ্রাম। সরকারি তালিকাভুক্ত ফরিদপুরের বিষ্ণুপুর গ্রামটিতে বসবাস করে আসছে মাত্র একটি পরিবার। সেই হিসেবে দ্বিতীয় ছোট গ্রাম হচ্ছে ফরিদপুরের বিষ্ণুপুর।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০০ বছর আগে এ গ্রামটিতে ৭-৮টি হিন্দু পরিবারের বসতি ছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে নানা সমস্যার কারণে এ গ্রাম থেকে বসতিরা চলে যায়। ফলে প্রায় শূন্য হয়ে পড়ে গ্রামের বসতি। তবে একটি মাত্র পরিবার আগলে রেখেছে দীর্ঘদিন ধরে এ গ্রামটিকে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বোয়ালমারী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দুরে গ্রামটির অবস্থান। যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারেই নেই। জমির আইল দিয়ে চলতে হয় এখানকার মানুষদের।

নেই বাজার-দোকান, স্কুল এমনকি মসজিদও। ঈদ ও জুম্মার নামাজ পড়তে হয় দুই কিলোমিটার দূরের গ্রামে গিয়ে। শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল না থাকায় ছেলে-মেয়েরা দূর গ্রামের স্কুলে পড়তে যায়। চিকিৎসা কেন্দ্র না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন এখানকার মানুষজন। কোনো সুযোগ সুবিধা না পেলেও এ গ্রামে একটি পরিবার কোনো রকমে টিকে আছেন। ভোট ছাড়া কোন জনপ্রতিনিধি এ গ্রামে এসেছেন এমন নজির নেই। গ্রামের চারিদিকে ফসলি জমি আর খাল-নালা বেষ্টিত।

বছরের বেশীর ভাগ সময়ই থাকে পানিতে তলিয়ে। সেই সময় নৌকা করেই চলাচল করতে হয় বসতিদের। গ্রামের বয়স্করা কৃষি কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভির হাসান চৌধুরী বলেন, গ্রামটির নাম শুনেছি। গ্রামটিতে উন্নয়নের বিষয়ে সকলের সাথে আলোচনা করে যা করা দরকার তা চেষ্টা করবো।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ফরিদপুরের বিষ্ণুপুর কী দেশের দ্বিতীয় ‘ছোট গ্রাম’?

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৫:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৫

মাত্র একটি বাড়ি নিয়েই গড়ে উঠেছে একটি গ্রাম। আর সেই বাড়িতে বসতি রয়েছে ১০টি। সব মিলিয়ে তাদের সদস্য সংখ্যা ৩২ জন। ৬০ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এ গ্রামটি এখন সারাদেশের আলোচনায় রয়েছে।

গ্রামটিতে নেই স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, বাজার এমনকি কোনো রাস্তাঘাট। স্কুল ও বাজার করতে যেতে হয় দুই কিলোমিটার দূরে। নানা সমস্যা বিরাজমান থাকলেও একটি পরিবারের সদস্যরাই টিকিয়ে রেখেছে গ্রামটিকে। শুনতে অবাক হলেও ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রুপাপাত ইউনিয়নে রয়েছে এ গ্রামটি। ছোট্ট এ গ্রামটির নাম বিষ্ণুপুর, যা দেশের ‘দ্বিতীয়’ ছোট গ্রাম হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। অনেকেই কেষ্টপুর নামেও ডেকে থাকেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ‘শ্রীমুখ’ গ্রামটি এশিয়ার সবচেয়ে ছোট গ্রাম। সরকারি তালিকাভুক্ত ফরিদপুরের বিষ্ণুপুর গ্রামটিতে বসবাস করে আসছে মাত্র একটি পরিবার। সেই হিসেবে দ্বিতীয় ছোট গ্রাম হচ্ছে ফরিদপুরের বিষ্ণুপুর।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০০ বছর আগে এ গ্রামটিতে ৭-৮টি হিন্দু পরিবারের বসতি ছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে নানা সমস্যার কারণে এ গ্রাম থেকে বসতিরা চলে যায়। ফলে প্রায় শূন্য হয়ে পড়ে গ্রামের বসতি। তবে একটি মাত্র পরিবার আগলে রেখেছে দীর্ঘদিন ধরে এ গ্রামটিকে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বোয়ালমারী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দুরে গ্রামটির অবস্থান। যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারেই নেই। জমির আইল দিয়ে চলতে হয় এখানকার মানুষদের।

নেই বাজার-দোকান, স্কুল এমনকি মসজিদও। ঈদ ও জুম্মার নামাজ পড়তে হয় দুই কিলোমিটার দূরের গ্রামে গিয়ে। শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল না থাকায় ছেলে-মেয়েরা দূর গ্রামের স্কুলে পড়তে যায়। চিকিৎসা কেন্দ্র না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন এখানকার মানুষজন। কোনো সুযোগ সুবিধা না পেলেও এ গ্রামে একটি পরিবার কোনো রকমে টিকে আছেন। ভোট ছাড়া কোন জনপ্রতিনিধি এ গ্রামে এসেছেন এমন নজির নেই। গ্রামের চারিদিকে ফসলি জমি আর খাল-নালা বেষ্টিত।

বছরের বেশীর ভাগ সময়ই থাকে পানিতে তলিয়ে। সেই সময় নৌকা করেই চলাচল করতে হয় বসতিদের। গ্রামের বয়স্করা কৃষি কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভির হাসান চৌধুরী বলেন, গ্রামটির নাম শুনেছি। গ্রামটিতে উন্নয়নের বিষয়ে সকলের সাথে আলোচনা করে যা করা দরকার তা চেষ্টা করবো।