Dhaka 11:47 am, Friday, 2 December 2022

১২ বছরেও হয়নি সংষ্কার ॥ মাত্র আড়াইশ মিটার ভাঙা রাস্তার কারণে ঘুরতে হয় ১০ কিলোমিটার পথ

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : 09:02:50 pm, Tuesday, 17 May 2022
  • / 1221 জন সংবাদটি পড়েছেন

জনতার আদালত অনলাইন

মাত্র আড়াইশ ফুট রাস্তার সংষ্কার না করায় ১৫টি গ্রামের মানুষকে ঘুরতে হয় ১০ কিলোমিটার পথ। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে মানুষ অপেক্ষায় আছে রাস্তাটি সংষ্কারের জন্য। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর বাজার-মৃধার বটতলা রাস্তাটির বহরপুর  ইউনিয়নের বাহিরচর নামক স্থানে বিরাজ করছে এ সমস্যা। রাস্তাটি সংষ্কারের যথাযথ উদ্যোগ না নেওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনাস্থল থেকে বালু তোলার কারণেই রাস্তাটি ভেঙে গেছে। পরে আর সংষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বহরপুর থেকে বাহিরচর পর্যন্ত রাস্তাটি পাকা। পাকা শেষে কিছু অংশ কাঁচা। এরপর রাস্তাটি ভেঙে নেমে গেছে গর্তের মধ্যে। ভাঙা রয়েছে প্রায় আড়াইশ মিটার লম্বা। যেখান দিয়ে মানুষ পায়ে হেঁটে  রাস্তার ওপাশে নীলকুঠি গ্রামে যেতে পারে। অন্য কোনো যানবাহন এখান দিয়ে চালানো সম্ভব নয়। এই রাস্তার এক পাশে বড় একটি পুকুর, অন্য পাশে ফসলি জমি। দেখে মনে হওয়ার কোনো উপায় নেই এখানে আগে রাস্তা ছিল।

স্থানীয়রা জানায়, বহরপুর বাজার থেকে ইসলামপুর ইউনিয়নের মৃধার বটতলা পর্যন্ত রাস্তার দৈর্ঘ্য প্রায় তিন কিলোমিটার। বহরপুর ও ইসলামপুর ইউনিয়নের শেকারা, খালকুলা, নতুননগর, আড়াবাড়িয়া, রামদিয়া, বাওনারা, বাহিরচর, পুরান খালকুলা, বারমল্লিকা, রাজধরপুরসহ অন্ততঃ ১৫টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান পথ ছিল এটি। এই পথ দিয়ে কৃষক, ব্যবসায়ী,  স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, সাধারণ মানুষ যাতায়াত করতো। রাস্তাটি  ভেঙে যাওয়ায় এখন মানুষকে ১০ কিলোমিটার পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হয়। তারা দ্রুত রাস্তাটির সংষ্কারের দাবি জানান।

বহরপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড মেম্বার শুকুর খান জানান, বহরপুর থেকে মৃধার বটতলা এই রাস্তাটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। অন্ততঃ ১৫টি গ্রামের মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন যাতায়াত করতে পারেনা। প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে যেতে হয়। তিনি আরও জানান, ১৫ বছর আগে রাস্তা সংলগ্ন জমিতে পানি জমে যায়। তারপর ভাঙন শুরু হয়। ১২ বছর আগে রাস্তাটি ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর আর সংষ্কার করা হয়নি। রাস্তাটি সংষ্কারের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। এখন যে অবস্থায় আছে তাতে রাস্তার দু পাশে মাটি দিয়ে ভরাট করে একটি কার্লভার্ট করে দিলে মানুষ সহজেই যাতায়াত করতে পারে।

ইসলামপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান  আবুল হোসেন খান জানান, বালু উত্তোলনের ফলেই রাস্তাটি ভেঙে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জিল্লুল হাকিম এমপি ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পর আর বালু উত্তোলন হয়নি। তবে ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। রাস্তাটি ইউনিয়ন পরিষদের। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান চাইলে রাস্তাটি সংষ্কারের উদ্যোগ নিতে পারেন।

বহরপুর ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান, ওইখানে কয়েক বছর ধরে স্থানীয় কিছু লোক বালু উত্তোলন করেছে। যে কারণে রাস্তাটি ভেঙে গেছে। বালু উত্তোলনে বাধা দিলেও তারা শোনেনি। যারা বালু উত্তোলন করেছিল তারা ভেঙে যাওয়া স্থান ভরাট করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু পরে আর দেয়নি। যেকারণে রাস্তাটি ওভাবেই রয়ে গেছে। এখন যে অবস্থা তাতে সেখানে পাইলিং করতে হবে। চার পাঁচশ ট্রাক মাটি ফেলতে হবে। অনেক টাকার ব্যাপার।

এলজিইডির বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী বাদশা আলমগীর জানান, এ ধরণের রাস্তা সাধারণত স্থানীয় এমপি এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের যৌথ পরামর্শে হয়ে থাকে। রাস্তাটির জন্য ডিপিপি দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ওই এলাকার লোক ওখান থেকে সমানে বালু তুলেছে। যে কারণে রাস্তাটি ভেঙে গেছে। সেখানে এখন ব্রিজ করার মতও অবস্থা নেই। রাস্তাটি সংষ্কারের জন্য একটা পরিবেশের মধ্যে আছি। বরাদ্দ পেলে করা হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

১২ বছরেও হয়নি সংষ্কার ॥ মাত্র আড়াইশ মিটার ভাঙা রাস্তার কারণে ঘুরতে হয় ১০ কিলোমিটার পথ

প্রকাশের সময় : 09:02:50 pm, Tuesday, 17 May 2022

জনতার আদালত অনলাইন

মাত্র আড়াইশ ফুট রাস্তার সংষ্কার না করায় ১৫টি গ্রামের মানুষকে ঘুরতে হয় ১০ কিলোমিটার পথ। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে মানুষ অপেক্ষায় আছে রাস্তাটি সংষ্কারের জন্য। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর বাজার-মৃধার বটতলা রাস্তাটির বহরপুর  ইউনিয়নের বাহিরচর নামক স্থানে বিরাজ করছে এ সমস্যা। রাস্তাটি সংষ্কারের যথাযথ উদ্যোগ না নেওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনাস্থল থেকে বালু তোলার কারণেই রাস্তাটি ভেঙে গেছে। পরে আর সংষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বহরপুর থেকে বাহিরচর পর্যন্ত রাস্তাটি পাকা। পাকা শেষে কিছু অংশ কাঁচা। এরপর রাস্তাটি ভেঙে নেমে গেছে গর্তের মধ্যে। ভাঙা রয়েছে প্রায় আড়াইশ মিটার লম্বা। যেখান দিয়ে মানুষ পায়ে হেঁটে  রাস্তার ওপাশে নীলকুঠি গ্রামে যেতে পারে। অন্য কোনো যানবাহন এখান দিয়ে চালানো সম্ভব নয়। এই রাস্তার এক পাশে বড় একটি পুকুর, অন্য পাশে ফসলি জমি। দেখে মনে হওয়ার কোনো উপায় নেই এখানে আগে রাস্তা ছিল।

স্থানীয়রা জানায়, বহরপুর বাজার থেকে ইসলামপুর ইউনিয়নের মৃধার বটতলা পর্যন্ত রাস্তার দৈর্ঘ্য প্রায় তিন কিলোমিটার। বহরপুর ও ইসলামপুর ইউনিয়নের শেকারা, খালকুলা, নতুননগর, আড়াবাড়িয়া, রামদিয়া, বাওনারা, বাহিরচর, পুরান খালকুলা, বারমল্লিকা, রাজধরপুরসহ অন্ততঃ ১৫টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান পথ ছিল এটি। এই পথ দিয়ে কৃষক, ব্যবসায়ী,  স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, সাধারণ মানুষ যাতায়াত করতো। রাস্তাটি  ভেঙে যাওয়ায় এখন মানুষকে ১০ কিলোমিটার পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হয়। তারা দ্রুত রাস্তাটির সংষ্কারের দাবি জানান।

বহরপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড মেম্বার শুকুর খান জানান, বহরপুর থেকে মৃধার বটতলা এই রাস্তাটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। অন্ততঃ ১৫টি গ্রামের মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন যাতায়াত করতে পারেনা। প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে যেতে হয়। তিনি আরও জানান, ১৫ বছর আগে রাস্তা সংলগ্ন জমিতে পানি জমে যায়। তারপর ভাঙন শুরু হয়। ১২ বছর আগে রাস্তাটি ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর আর সংষ্কার করা হয়নি। রাস্তাটি সংষ্কারের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। এখন যে অবস্থায় আছে তাতে রাস্তার দু পাশে মাটি দিয়ে ভরাট করে একটি কার্লভার্ট করে দিলে মানুষ সহজেই যাতায়াত করতে পারে।

ইসলামপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান  আবুল হোসেন খান জানান, বালু উত্তোলনের ফলেই রাস্তাটি ভেঙে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জিল্লুল হাকিম এমপি ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পর আর বালু উত্তোলন হয়নি। তবে ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। রাস্তাটি ইউনিয়ন পরিষদের। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান চাইলে রাস্তাটি সংষ্কারের উদ্যোগ নিতে পারেন।

বহরপুর ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান, ওইখানে কয়েক বছর ধরে স্থানীয় কিছু লোক বালু উত্তোলন করেছে। যে কারণে রাস্তাটি ভেঙে গেছে। বালু উত্তোলনে বাধা দিলেও তারা শোনেনি। যারা বালু উত্তোলন করেছিল তারা ভেঙে যাওয়া স্থান ভরাট করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু পরে আর দেয়নি। যেকারণে রাস্তাটি ওভাবেই রয়ে গেছে। এখন যে অবস্থা তাতে সেখানে পাইলিং করতে হবে। চার পাঁচশ ট্রাক মাটি ফেলতে হবে। অনেক টাকার ব্যাপার।

এলজিইডির বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী বাদশা আলমগীর জানান, এ ধরণের রাস্তা সাধারণত স্থানীয় এমপি এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের যৌথ পরামর্শে হয়ে থাকে। রাস্তাটির জন্য ডিপিপি দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ওই এলাকার লোক ওখান থেকে সমানে বালু তুলেছে। যে কারণে রাস্তাটি ভেঙে গেছে। সেখানে এখন ব্রিজ করার মতও অবস্থা নেই। রাস্তাটি সংষ্কারের জন্য একটা পরিবেশের মধ্যে আছি। বরাদ্দ পেলে করা হবে।