Dhaka ১২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
স্ত্রী মশা দমনে যুক্তরাষ্ট্রে ছাড়া হবে ৬ লাখ পুরুষ মশা ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চিকিৎসক সমাবেশ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী আজ ডিজিএফআইয়ের গোপন বন্দিশালা জেআইসি পরিদর্শনে যাচ্ছেন ট্রাইব্যুনাল ভারত-চীনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিল পাস যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের বলাকা লাউঞ্জে আগুন সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা ট্রাম্পের ৪০ কোটি ডলারের ‘বলরুম প্রকল্প’ আটকে দিল আদালত শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইনের মুখোমুখি হতে হবে: রাশেদ খান ছাত্রদলের হামলায় চোয়াল ভেঙেছে জবি শিক্ষার্থীর, অস্ত্রোপচারের পরও কথা বলতে পারছেন না গ্রিস উপকূলে দুই শতাধিক অভিবাসী উদ্ধার, অধিকাংশই বাংলাদেশি

গোয়ালন্দে পৌর কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধীর জমি হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৫১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ নভেম্বর ২০২১
  • / 275

জনতার আদালত অনলাইন গোয়ালন্দ পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহিন মোল্লার বিরুদ্ধে এক শারীকিক প্রতিবন্ধীর ১৫ শতাংশ জমি হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতারিত হওয়া ব্যাক্তির নাম ওমর আলী (৬০)। তিনি রাজবাড়ী শহরের ৩ নং বেড়াডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা।

বুধবার দুপুরে গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবে এক সাংবাদ সম্মেলনে বৃদ্ধ ওমর আলী লিখিত বক্তব্যে জানান, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের ৮৭ নং উত্তর উজানচর মৌজার বিএস প্রস্তাবিত ৮৯২/২ নং খতিয়ানের ২২৯৩ নং দাগের মধ্যে আমার ২৯ শতাংশ জমি আছে। বছরখানেক আগে তিনি জমিটা বিক্রির চেষ্টা করেন। জমিটির সীমানা জটিলতা থাকায় কমিশনার শাহিনের কাছে কয়েকবার যাই। কিন্তু তিনি নানা তালবাহানা করে আমাকে হয়রানী করতে থাকে। এক পর্যায়ে কমিশনার শাহিন নিজেই জমিটি ক্রয় করার ইচ্ছে পোষন করেন। আমি প্রতি শতাংশ জমির মূল্য দেড় লক্ষ টাকা ধার্য করলে তিনি তাতেই রাজি হয়ে যান।

এ অবস্হায় গত ১১ এপ্রিল তিনি আমাকে ১ লক্ষ টাকা দিয়ে জমিটি বেঁচাকেনার বায়না করার কথা বলে গোয়ালন্দ সাব-রেজিস্টার অফিসে নিয়ে যান। সেখানে একজন দলিল লেখকের ঘরে আমাকে বসিয়ে রেখে কমিশনার শাহিন আমার ওই জমির পাওয়ার অব এ্যাটর্নি পেপার প্রস্তুত করে এবং প্রতারনার মাধ্যমে  বায়নাপত্রের কথা বলে সেখানে আমার স্বাক্ষর নিয়ে নেয়। পরে সাব রেজিস্টারকে ম্যানেজ করে ওই কাগজ পাকাপোক্ত করে নেয়। এরপর তিনি আরো ভালো দামে আমার জমি বিক্রি করে দেবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করেন।

পরে তিনি ওই পাওয়ার অব এ্যাটর্নির বলে আমাকে বোকা বানিয়ে মোহাম্মদ সাইদুর রহমান নামে এক ব্যাক্তির নিকট ওই জমি ৩২ লক্ষ টাকায় বিক্রি বাবদ ২০ লক্ষ টাকা নেয়। সেখানে তার পাশাপাশি আমার স্বাক্ষরও সে নিয়ে নেয়। আমাকে সে আপাতত আড়াই লক্ষ টাকা দেয়ার কথা বলে আইএফআইসি ব্যাংকের একটি চেক দেন। কিন্তু ব্যাংকের রাজবাড়ী শাখার গিয়ে দেখি তার এ্যাকাউন্টে কোন টাকা নেই।

এদিকে আমার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে সে এ ধরনের  ভয়াবহ প্রতারনা করায় আমি গত ২ নভেম্বের মঙ্গলবার গোয়ালন্দ উপজেলা এসিল্যান্ড অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ দেই। সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. রফিকুল ইসলাম কমিশনার শাহিনকে দ্রুত তলব করে আনেন। কিন্তু তিনি এসিল্যান্ডকে তোয়াক্কা না করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। এখন সে ও তার সহযোগী পৌরসভার কর্মচারী আকরাম হোসেন আমাকে নানা ধরনের হুমকি ও ভয়ভিতি দেখাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ওমর আলীর একমাত্র পুত্র মোঃ রেজাউল করিম (৪০)। তিনি বলেন, আমি বিদেশে ছিলাম। আমার বাবা শারিরীক ভাবে প্রতিবন্ধী। তার অসহায়ত্ব নিয়ে তার সাথে চরমভাবে প্রতারনা করেছে কমিশনার শাহিন। আমরা আমাদের জমি ফেরত চাই এবং প্রশাসনের নিকট শাহিনের উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত গোয়ালন্দ পৌরসভার কাউন্সিলর শাহিন মোল্লা জানান, ওমর আলী মোল্লা স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করতে না পারায় তিনি স্বেচ্ছায় আমাকে পাওয়ার অব এ্যাটর্নি করে দেন। সেই সাথে ওই জমির মূল্য নির্ধারন করে দেন সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা। নির্ধারিত মূল্যের এক লক্ষ টাকা নগদ ও আড়াই লক্ষ টাকা চেকের মাধ্যমে আমি ওমর আলী মোল্লাকে ইতিমধ্যে দিয়ে দিয়েছি। ওনার সাথে চুক্তি মোতাবেক ওই জমি বিক্রি করে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকার বেশী যে টাকা পাওয়া যাবে তিনি সেই টাকার দাবি করতে পারবেন না। এখন তিনি বিভিন্ন ব্যাক্তির কথা শুনে চুক্তি ভঙ্গ করছেন। শহরের মধ্যে ১৫ শতাংশ জমির মূল্য মাত্র সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা হয় নাকি? এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ১৫ শতাংশ জমি বলা হলেও সেখানে মূলত রয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ জমি। এছাড়া ওই জমিতে বিভিন্ন আইনী জটিলতা রয়েছে বলে তিনি দাবি করনে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

গোয়ালন্দে পৌর কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধীর জমি হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৭:৫১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ নভেম্বর ২০২১

জনতার আদালত অনলাইন গোয়ালন্দ পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহিন মোল্লার বিরুদ্ধে এক শারীকিক প্রতিবন্ধীর ১৫ শতাংশ জমি হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতারিত হওয়া ব্যাক্তির নাম ওমর আলী (৬০)। তিনি রাজবাড়ী শহরের ৩ নং বেড়াডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা।

বুধবার দুপুরে গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবে এক সাংবাদ সম্মেলনে বৃদ্ধ ওমর আলী লিখিত বক্তব্যে জানান, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের ৮৭ নং উত্তর উজানচর মৌজার বিএস প্রস্তাবিত ৮৯২/২ নং খতিয়ানের ২২৯৩ নং দাগের মধ্যে আমার ২৯ শতাংশ জমি আছে। বছরখানেক আগে তিনি জমিটা বিক্রির চেষ্টা করেন। জমিটির সীমানা জটিলতা থাকায় কমিশনার শাহিনের কাছে কয়েকবার যাই। কিন্তু তিনি নানা তালবাহানা করে আমাকে হয়রানী করতে থাকে। এক পর্যায়ে কমিশনার শাহিন নিজেই জমিটি ক্রয় করার ইচ্ছে পোষন করেন। আমি প্রতি শতাংশ জমির মূল্য দেড় লক্ষ টাকা ধার্য করলে তিনি তাতেই রাজি হয়ে যান।

এ অবস্হায় গত ১১ এপ্রিল তিনি আমাকে ১ লক্ষ টাকা দিয়ে জমিটি বেঁচাকেনার বায়না করার কথা বলে গোয়ালন্দ সাব-রেজিস্টার অফিসে নিয়ে যান। সেখানে একজন দলিল লেখকের ঘরে আমাকে বসিয়ে রেখে কমিশনার শাহিন আমার ওই জমির পাওয়ার অব এ্যাটর্নি পেপার প্রস্তুত করে এবং প্রতারনার মাধ্যমে  বায়নাপত্রের কথা বলে সেখানে আমার স্বাক্ষর নিয়ে নেয়। পরে সাব রেজিস্টারকে ম্যানেজ করে ওই কাগজ পাকাপোক্ত করে নেয়। এরপর তিনি আরো ভালো দামে আমার জমি বিক্রি করে দেবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করেন।

পরে তিনি ওই পাওয়ার অব এ্যাটর্নির বলে আমাকে বোকা বানিয়ে মোহাম্মদ সাইদুর রহমান নামে এক ব্যাক্তির নিকট ওই জমি ৩২ লক্ষ টাকায় বিক্রি বাবদ ২০ লক্ষ টাকা নেয়। সেখানে তার পাশাপাশি আমার স্বাক্ষরও সে নিয়ে নেয়। আমাকে সে আপাতত আড়াই লক্ষ টাকা দেয়ার কথা বলে আইএফআইসি ব্যাংকের একটি চেক দেন। কিন্তু ব্যাংকের রাজবাড়ী শাখার গিয়ে দেখি তার এ্যাকাউন্টে কোন টাকা নেই।

এদিকে আমার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে সে এ ধরনের  ভয়াবহ প্রতারনা করায় আমি গত ২ নভেম্বের মঙ্গলবার গোয়ালন্দ উপজেলা এসিল্যান্ড অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ দেই। সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. রফিকুল ইসলাম কমিশনার শাহিনকে দ্রুত তলব করে আনেন। কিন্তু তিনি এসিল্যান্ডকে তোয়াক্কা না করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। এখন সে ও তার সহযোগী পৌরসভার কর্মচারী আকরাম হোসেন আমাকে নানা ধরনের হুমকি ও ভয়ভিতি দেখাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ওমর আলীর একমাত্র পুত্র মোঃ রেজাউল করিম (৪০)। তিনি বলেন, আমি বিদেশে ছিলাম। আমার বাবা শারিরীক ভাবে প্রতিবন্ধী। তার অসহায়ত্ব নিয়ে তার সাথে চরমভাবে প্রতারনা করেছে কমিশনার শাহিন। আমরা আমাদের জমি ফেরত চাই এবং প্রশাসনের নিকট শাহিনের উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত গোয়ালন্দ পৌরসভার কাউন্সিলর শাহিন মোল্লা জানান, ওমর আলী মোল্লা স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করতে না পারায় তিনি স্বেচ্ছায় আমাকে পাওয়ার অব এ্যাটর্নি করে দেন। সেই সাথে ওই জমির মূল্য নির্ধারন করে দেন সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা। নির্ধারিত মূল্যের এক লক্ষ টাকা নগদ ও আড়াই লক্ষ টাকা চেকের মাধ্যমে আমি ওমর আলী মোল্লাকে ইতিমধ্যে দিয়ে দিয়েছি। ওনার সাথে চুক্তি মোতাবেক ওই জমি বিক্রি করে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকার বেশী যে টাকা পাওয়া যাবে তিনি সেই টাকার দাবি করতে পারবেন না। এখন তিনি বিভিন্ন ব্যাক্তির কথা শুনে চুক্তি ভঙ্গ করছেন। শহরের মধ্যে ১৫ শতাংশ জমির মূল্য মাত্র সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা হয় নাকি? এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ১৫ শতাংশ জমি বলা হলেও সেখানে মূলত রয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ জমি। এছাড়া ওই জমিতে বিভিন্ন আইনী জটিলতা রয়েছে বলে তিনি দাবি করনে।