Dhaka ১১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
কালীগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের আর্থিক সহায়তা বিতরণ বাংলাদেশের বিচার বিভাগ স্বাধীন : আইনমন্ত্রী কালীগঞ্জে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা হান্টাভাইরাস আক্রান্ত ক্রুজ শিপের স্প্যানিশ নাগরিকের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত জাতীয় সংসদ জনগণের আশা পূরণে সক্ষম হয়েছে : স্পিকার ফরিদপুরে দুই দিন আগেই ভক্তদের নিয়ে ঈদের নামাজ পড়লেন পীর বলিউডে নিষিদ্ধ রণবীর সিং! সৎ সাহস থাকলে শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হওয়া উচিত: রিজভী হোয়াটসঅ্যাপ কল রেকর্ড করবেন যেভাবে বিদ্যুৎ অফিস কর্মকর্তার চেয়ারে জামায়াতের এমপি, পাখা দিয়ে বাতাস কর্মচারীর

রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সামনে রেখে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বারের আহ্বান

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৪৬:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অক্টোবর ২০২১
  • / 1062

জনতার আদালত অনলাইন ॥ আগামী ১৬ অক্টোবর রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সহকর্মী ও জেলাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বার। আসন্ন সম্মেলনে  তিনি সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী। তার  আহ্বানটি নিম্নরূপ:

প্রিয় রাজনৈতিক সহকর্মীবৃন্দ ও আমার রাজবাড়ী জেলাবাসী

সালাম ও শুভেচ্ছা নিন। আপনারা সকলেই অবগত আছেন যে, আগামী ১৬ অক্টোবর ২০২১ ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগ এর “ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন-২০২১” অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকলেই এই মাহেন্দ্রক্ষণে আনন্দিত ও উদ্বেলিত। আশান্বিত এজন্য যে এই সম্মেলনের মাধ্যমেই আগামী দিনের জন্য রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। আমি বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের একজন সহ-সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক, সহ-সভাপতি হিসেবে প্রায় ২০ বছর যাবৎ নিষ্ঠা ও সততার সহিত দায়িত্ব পালন করে আসছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শে ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ার মধ্য দিয়ে স্কুল জীবনেই “পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র লীগ” এর ঐতিহ্যের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছিলাম। দীর্ঘ এই পথ পরিক্রমায় আমরা হারিয়েছি যেমন বাংলার কান্ডারী বিশ্ব সেরা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মানুষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরকে তেমনি তাঁরই হারানো জীবনের স্বপ্ন বিলাসে শক্তি সঞ্চয়ে পাশে পেয়েছি এ বাংলার দুঃখী জনতার আশার মানবতার মা বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’কে। আমার শৌর্য-বীর্য সবটুকু ঘিরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নির্দেশনা। এই আদর্শের পথ ধরেই আমার এগিয়ে চলা। ২০১৬ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা জেলা পরিষদের নির্বাচনে আমাকে পছন্দ করে মনোনয়ন দেন এবং স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আমাকে বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করেন। আমার এই পথ চলার কিছু অর্জন আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই।

        রাজনৈতিক ভাবে আমার দায়িত্ব পালন ঃ

ক) ১৯৬৮ সালে বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলাম।

খ) ১৯৬৮ সালেই রাজবাড়ী সরকারি কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদের জি এস নির্বাচিত হয়েছিলাম।

গ) ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানে তৎকালীণ গোয়ালন্দ মহকুমার ছাত্রনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করি।

ঘ) ১৯৭০ সালে রাজবাড়ী সরকারি কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলাম।

ঙ) ১৯৭১ সালের মহান মুক্তি সংগ্রামে তৎকালীণ গোয়ালন্দ মহকুমার কেন্দ্রবিন্দু গোয়ালন্দ ঘাটের প্রতিরোধ যুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার হিসেবে পূর্ণ দায়িত্ব পালন করি এবং সেই যুদ্ধ ক্ষেত্রে আমার চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর মহিউদ্দিন শহীদ হন।

চ) মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় প্রশিক্ষণ পরবর্তী মুজিব বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি।

ছ) ১৯৭২ সালে বৃটিশ ভারতের ঐতিহ্যবাহী গোয়ালন্দ ঘাট থানা জাতীয় শ্রমিক লীগ এর সভাপতি নির্বাচিত হই।

জ) ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গোয়ালন্দ ঘাট থানা’র সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই।

ঝ) ১৯৮৬ সালে রাজবাড়ী জেলা কৃষক লীগ এর আহ্বায়ক ও কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হই।

ঞ) ১৯৯৪ – ২০০৪ সাল পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগ এর যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।

ট) ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের (১৫ই ফেব্রুয়ারী) একদলীয় প্রহসনের নির্বাচন প্রতিরোধ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যগণ শারীরিকভাবে আহত হই, বাড়ি ঘর লুট হয় এবং মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করি।

ঠ) ২০০৪ সাল থেকে অদ্যবধি জেলা আওয়ামী লীগ এর সহ-সভাপতি হিসেবে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছি।

এছাড়াও আওয়ামী লীগ’সহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল কর্মকান্ডে আমি সর্বদা সহযোগিতা করে থাকি। ব্যক্তি জীবনে আমি তৃণমূলের একজন কর্মী হিসেবে আওয়ামী লীগের কোন কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকি নাই এবং ভবিষ্যতেও থাকব না। ইনশাল্লাহ্।

        আমার সামাজিক ও মানবিক কর্মজজ্ঞ ঃ

মহান মুক্তিযুদ্ধ শেষে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে দেশ গড়ার কাজে আত্ম নিয়োগ করি। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথমে শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখতে গিয়ে ১৯৭৮ সালে একজন শিক্ষক হিসেবে গোয়ালন্দ মহকুমা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। ১৯৭২ সাল থেকে একে একে ২৭টি স্কুল কলেজ ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান সকলের সহযোগিতায় গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি। যার মধ্যে কলেজ-১টি, হাই স্কুল-২টি, প্রাইমারী স্কুল-৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণ। আমি নিজের প্রতিষ্ঠানসহ ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সার্বিক উন্নয়নে জড়িত আছি। প্রিয় সাথীরা, আমি একজন সমাজ কর্মী। সমাজ বিপ্লবের ধারায় নিজেকে জড়িয়ে আমি অধিকারহারা শিশু, নারী ও প্রান্তিক মানুষের জীবন ও দারিদ্র বিমোচনে সংগঠকের ভূমিকায় কাজ করে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল দেশমুক্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তির। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৫ সালে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কর্মজীবী কল্যাণ সংস্থা (কেকেএস) নামক স্বেচ্ছসেবী সংস্থা প্রতিষ্ঠা করি। আমার প্রচেষ্টায় এ জেলার শহ¯্রাধিক শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতে শরনার্থী ক্যাম্পে রেড ক্রিসেন্ট কার্যক্রম শুরু করি সেই থেকে বাংলাদেশ রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একজন বোর্ড মেম্বার’সহ বিভিন্ন সময় রাজবাড়ী ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি সোনালী স্বপ্ন দেখি। বর্তমান প্রজন্মকে সামাজিক অবক্ষয় থেকে মুক্ত করে সূর্যালোকের মত স্বপ্ন দেখাই।

প্রিয় সাথী ও বন্ধুগণ,

রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আমি সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক পদে একজন প্রার্থী। আমি মনে করি আমার বন্ধুগণ এবং আমার ¯েœহের প্রার্থীদের এ পদের জন্য অনেক যোগ্যতা আছে। সেই সাথে শতভাগ আত্মবিশ^াসের সহিত বলতে পারি রাজনৈতিক জীবনে আমার অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, সততা ও পরিশ্রমে আমি তাদের চেয়ে সবসময় এগিয়ে আছি। এ জেলার ৪২টি ইউনিয়ন, ৩টি পৌরসভা ও ৫টি উপজেলা সব জায়গাতে আমার রাজনৈতিক বিচরণ আছে। যে সকল সম্মানিত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ রাজবাড়ীতে আসেন এবং আসবেন তারা সকলেই রাজবাড়ী জেলার রাজনীতি ও সকল নেতা কর্মীদের সম্পর্কে ভালভাবে অবগত রয়েছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা রাজবাড়ীর রাজনীতি ও নেতা কর্মীদের সম্পর্কে আরও অনেক বেশী জানেন। দীর্ঘদিন পর আগামী সম্মেলনে কর্মীদের সঠিক মূল্যায়ন হবে বলে রাজবাড়ীবাসী মনে প্রাণে বিশ^াস করেন এবং এ ব্যাপারে জননেত্রী শেখ হাসিনা’র উপর আমাদের আত্মবিশ^াস ও ভরসা রয়েছে। তিনি আমাদের বাতিঘর। এ সম্মেলনে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে যে পদে দায়িত্ব দেবেন আমি পূর্বের ন্যায় সেখানে দায়িত্ব পালন করেছি এবং ভবিষ্যতেও দায়িত্ব পালন করবো। ইনশাল্লাহ্।

বঙ্গবন্ধু গণমুখী রাজনীতি চর্চার কথা বলেছেন। কিন্তু আমরা অনেকেই তা ভুলে গিয়ে অথবা নিজ স্বার্থে পদমুখী, লোক দেখানো, চাকচিক্য, সাজ-সজ্জা, ভোগবিলাসী, হাইব্রিড নেতা কর্মী নিয়ে রাজনীতি করছি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সুযোগ্য সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের বার বার এ উদ্ধৃতি দিয়ে কর্মীদের সর্তক করেছেন। আমরা ধ্বংস করছি যুব সমাজ। অবহেলিত হচ্ছে ত্যাগী, নবীন-প্রবীণ দলের নেতা কর্মীরা। ভুলে গেলে চলবে না সময় পরিবর্তনশীল এবং ক্ষমতা চিরস্থায়ী না। তখন জনগণ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমাদের অনুকূলে নাও থাকতে পারে। সুতরাং হাইব্রিড বিতাড়িত করতে হবে এবং এখনই উপযুক্ত সময়। উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আবারও রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়ন করে সারা বিশে^র বুকে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের এ দেশকে বিশে^র বুকে আরো সু-উচ্চে তুলে ধরবেন এ আমাদের প্রত্যাশা। সকলেই সুস্থ, সুখি ও সমৃদ্ধ জীবনের অধিকারী হবেন। আমিন ॥ জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। জয় হোক মেহনতি মানুষের।

সবিনয় নিবেদক আপনাদেরই –

বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বার

সহ-সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগ ও

চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ, রাজবাড়ী।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সামনে রেখে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বারের আহ্বান

প্রকাশের সময় : ০৪:৪৬:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অক্টোবর ২০২১

জনতার আদালত অনলাইন ॥ আগামী ১৬ অক্টোবর রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সহকর্মী ও জেলাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বার। আসন্ন সম্মেলনে  তিনি সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী। তার  আহ্বানটি নিম্নরূপ:

প্রিয় রাজনৈতিক সহকর্মীবৃন্দ ও আমার রাজবাড়ী জেলাবাসী

সালাম ও শুভেচ্ছা নিন। আপনারা সকলেই অবগত আছেন যে, আগামী ১৬ অক্টোবর ২০২১ ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগ এর “ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন-২০২১” অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকলেই এই মাহেন্দ্রক্ষণে আনন্দিত ও উদ্বেলিত। আশান্বিত এজন্য যে এই সম্মেলনের মাধ্যমেই আগামী দিনের জন্য রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। আমি বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের একজন সহ-সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক, সহ-সভাপতি হিসেবে প্রায় ২০ বছর যাবৎ নিষ্ঠা ও সততার সহিত দায়িত্ব পালন করে আসছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শে ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ার মধ্য দিয়ে স্কুল জীবনেই “পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র লীগ” এর ঐতিহ্যের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছিলাম। দীর্ঘ এই পথ পরিক্রমায় আমরা হারিয়েছি যেমন বাংলার কান্ডারী বিশ্ব সেরা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মানুষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরকে তেমনি তাঁরই হারানো জীবনের স্বপ্ন বিলাসে শক্তি সঞ্চয়ে পাশে পেয়েছি এ বাংলার দুঃখী জনতার আশার মানবতার মা বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’কে। আমার শৌর্য-বীর্য সবটুকু ঘিরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নির্দেশনা। এই আদর্শের পথ ধরেই আমার এগিয়ে চলা। ২০১৬ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা জেলা পরিষদের নির্বাচনে আমাকে পছন্দ করে মনোনয়ন দেন এবং স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আমাকে বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করেন। আমার এই পথ চলার কিছু অর্জন আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই।

        রাজনৈতিক ভাবে আমার দায়িত্ব পালন ঃ

ক) ১৯৬৮ সালে বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলাম।

খ) ১৯৬৮ সালেই রাজবাড়ী সরকারি কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদের জি এস নির্বাচিত হয়েছিলাম।

গ) ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানে তৎকালীণ গোয়ালন্দ মহকুমার ছাত্রনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করি।

ঘ) ১৯৭০ সালে রাজবাড়ী সরকারি কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলাম।

ঙ) ১৯৭১ সালের মহান মুক্তি সংগ্রামে তৎকালীণ গোয়ালন্দ মহকুমার কেন্দ্রবিন্দু গোয়ালন্দ ঘাটের প্রতিরোধ যুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার হিসেবে পূর্ণ দায়িত্ব পালন করি এবং সেই যুদ্ধ ক্ষেত্রে আমার চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর মহিউদ্দিন শহীদ হন।

চ) মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় প্রশিক্ষণ পরবর্তী মুজিব বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি।

ছ) ১৯৭২ সালে বৃটিশ ভারতের ঐতিহ্যবাহী গোয়ালন্দ ঘাট থানা জাতীয় শ্রমিক লীগ এর সভাপতি নির্বাচিত হই।

জ) ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গোয়ালন্দ ঘাট থানা’র সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই।

ঝ) ১৯৮৬ সালে রাজবাড়ী জেলা কৃষক লীগ এর আহ্বায়ক ও কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হই।

ঞ) ১৯৯৪ – ২০০৪ সাল পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগ এর যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।

ট) ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের (১৫ই ফেব্রুয়ারী) একদলীয় প্রহসনের নির্বাচন প্রতিরোধ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যগণ শারীরিকভাবে আহত হই, বাড়ি ঘর লুট হয় এবং মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করি।

ঠ) ২০০৪ সাল থেকে অদ্যবধি জেলা আওয়ামী লীগ এর সহ-সভাপতি হিসেবে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছি।

এছাড়াও আওয়ামী লীগ’সহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল কর্মকান্ডে আমি সর্বদা সহযোগিতা করে থাকি। ব্যক্তি জীবনে আমি তৃণমূলের একজন কর্মী হিসেবে আওয়ামী লীগের কোন কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকি নাই এবং ভবিষ্যতেও থাকব না। ইনশাল্লাহ্।

        আমার সামাজিক ও মানবিক কর্মজজ্ঞ ঃ

মহান মুক্তিযুদ্ধ শেষে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে দেশ গড়ার কাজে আত্ম নিয়োগ করি। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথমে শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখতে গিয়ে ১৯৭৮ সালে একজন শিক্ষক হিসেবে গোয়ালন্দ মহকুমা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। ১৯৭২ সাল থেকে একে একে ২৭টি স্কুল কলেজ ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান সকলের সহযোগিতায় গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি। যার মধ্যে কলেজ-১টি, হাই স্কুল-২টি, প্রাইমারী স্কুল-৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণ। আমি নিজের প্রতিষ্ঠানসহ ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সার্বিক উন্নয়নে জড়িত আছি। প্রিয় সাথীরা, আমি একজন সমাজ কর্মী। সমাজ বিপ্লবের ধারায় নিজেকে জড়িয়ে আমি অধিকারহারা শিশু, নারী ও প্রান্তিক মানুষের জীবন ও দারিদ্র বিমোচনে সংগঠকের ভূমিকায় কাজ করে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল দেশমুক্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তির। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৫ সালে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কর্মজীবী কল্যাণ সংস্থা (কেকেএস) নামক স্বেচ্ছসেবী সংস্থা প্রতিষ্ঠা করি। আমার প্রচেষ্টায় এ জেলার শহ¯্রাধিক শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতে শরনার্থী ক্যাম্পে রেড ক্রিসেন্ট কার্যক্রম শুরু করি সেই থেকে বাংলাদেশ রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একজন বোর্ড মেম্বার’সহ বিভিন্ন সময় রাজবাড়ী ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি সোনালী স্বপ্ন দেখি। বর্তমান প্রজন্মকে সামাজিক অবক্ষয় থেকে মুক্ত করে সূর্যালোকের মত স্বপ্ন দেখাই।

প্রিয় সাথী ও বন্ধুগণ,

রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আমি সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক পদে একজন প্রার্থী। আমি মনে করি আমার বন্ধুগণ এবং আমার ¯েœহের প্রার্থীদের এ পদের জন্য অনেক যোগ্যতা আছে। সেই সাথে শতভাগ আত্মবিশ^াসের সহিত বলতে পারি রাজনৈতিক জীবনে আমার অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, সততা ও পরিশ্রমে আমি তাদের চেয়ে সবসময় এগিয়ে আছি। এ জেলার ৪২টি ইউনিয়ন, ৩টি পৌরসভা ও ৫টি উপজেলা সব জায়গাতে আমার রাজনৈতিক বিচরণ আছে। যে সকল সম্মানিত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ রাজবাড়ীতে আসেন এবং আসবেন তারা সকলেই রাজবাড়ী জেলার রাজনীতি ও সকল নেতা কর্মীদের সম্পর্কে ভালভাবে অবগত রয়েছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা রাজবাড়ীর রাজনীতি ও নেতা কর্মীদের সম্পর্কে আরও অনেক বেশী জানেন। দীর্ঘদিন পর আগামী সম্মেলনে কর্মীদের সঠিক মূল্যায়ন হবে বলে রাজবাড়ীবাসী মনে প্রাণে বিশ^াস করেন এবং এ ব্যাপারে জননেত্রী শেখ হাসিনা’র উপর আমাদের আত্মবিশ^াস ও ভরসা রয়েছে। তিনি আমাদের বাতিঘর। এ সম্মেলনে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে যে পদে দায়িত্ব দেবেন আমি পূর্বের ন্যায় সেখানে দায়িত্ব পালন করেছি এবং ভবিষ্যতেও দায়িত্ব পালন করবো। ইনশাল্লাহ্।

বঙ্গবন্ধু গণমুখী রাজনীতি চর্চার কথা বলেছেন। কিন্তু আমরা অনেকেই তা ভুলে গিয়ে অথবা নিজ স্বার্থে পদমুখী, লোক দেখানো, চাকচিক্য, সাজ-সজ্জা, ভোগবিলাসী, হাইব্রিড নেতা কর্মী নিয়ে রাজনীতি করছি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সুযোগ্য সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের বার বার এ উদ্ধৃতি দিয়ে কর্মীদের সর্তক করেছেন। আমরা ধ্বংস করছি যুব সমাজ। অবহেলিত হচ্ছে ত্যাগী, নবীন-প্রবীণ দলের নেতা কর্মীরা। ভুলে গেলে চলবে না সময় পরিবর্তনশীল এবং ক্ষমতা চিরস্থায়ী না। তখন জনগণ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমাদের অনুকূলে নাও থাকতে পারে। সুতরাং হাইব্রিড বিতাড়িত করতে হবে এবং এখনই উপযুক্ত সময়। উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আবারও রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়ন করে সারা বিশে^র বুকে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের এ দেশকে বিশে^র বুকে আরো সু-উচ্চে তুলে ধরবেন এ আমাদের প্রত্যাশা। সকলেই সুস্থ, সুখি ও সমৃদ্ধ জীবনের অধিকারী হবেন। আমিন ॥ জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। জয় হোক মেহনতি মানুষের।

সবিনয় নিবেদক আপনাদেরই –

বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বার

সহ-সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগ ও

চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ, রাজবাড়ী।