Dhaka 2:31 am, Friday, 9 December 2022

কালুখালীতে দুর্গা মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : 06:50:15 pm, Monday, 15 October 2018
  • / 1720 জন সংবাদটি পড়েছেন

জনতার আদালত অনালাইন ॥ রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার সাওরাইল বিষয় সাওরাইল সার্বজনীন দুর্গাপূজা মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার মাঝরাতের কোনো এক সময়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোমবার সকালে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী, পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি, কালুখালী উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি অশোক বাগচী, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ্ত চক্রবর্তী কান্ত, কালুখালী পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তনয় চক্রবর্তী সম্ভু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
দুর্গাপূজা শুরুর প্রাক্কালে প্রতিমা ভাঙার ঘটনায় স্থানীয় সনাতন ধর্মালম্বীদের মাঝে পূজার আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য ডলি রানী দেবদাস জানান, দীর্ঘ ৭২ বছর ধরে এ মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ইতিপূর্বে কখনও এধরনের ঘটনা ঘটেনি। দুর্বৃত্তরা দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষী, গণেশ, কার্তিক, ওসুরসহ তাদের বাহন সিংহ, ময়ূরেরও প্রতিমা ভেঙে ফেলেছে। তিনি এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান।
বিষয় সাওরাইল সার্বজনীন দুর্গাপূজা মন্দির কমিটির সভাপতি তুষার কুমার দাস জানান, প্রতিমা শিল্পীরা রোববার প্রতিমার কাজ সম্পন্ন করে চলে গেছে। তিনি সহ মন্দির কমিটির কয়েক সদস্য আড়াইটা পর্যন্ত মন্ডপে ছিলেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন সবগুলো প্রতিমা ভেঙে গুড়ো করে দিয়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে পূজার আনন্দ। তিনি আরও জানান, গত কয়েকদিন ধরে তাদেরকে ভারতে পাঠিয়ে দেবে বলে হুমকি ধমকি দেয়া হতো। বিষয়টি তিনি পরিদর্শনে আসা সকলকে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি অশোক কুমার বাগচী বলেন, আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ একাজ করতে পারেনা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য এ ধরনের হীন কাজ করা হয়েছে। দ্রুত আমরা দোষী ব্যক্তিদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
কালুখালী থানার ওসি ফরহাদ হোসেন জানান, পুলিশের ডিউটি না থাকা সত্ত্বেও আড়াইটা পর্যন্ত এই মন্দিরে পাহারা দিয়ে গেছে। এরপর দুর্বৃত্তরা সুযোগ বুঝে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক তাদেরকে খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পূজাকে ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে যাতে কোনো আতঙ্ক না থাকে তারা যাতে নির্বিঘেœ পূজার উৎসবে সামিল হতে পারে এজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্দিরে অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে। এখানে হিন্দু মুসলিমের মধ্যে যথেষ্ট সম্প্রীতি রয়েছে। এর মধ্যে কারা ঘটনা ঘটালো সেটাই খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী বলেন, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। আমরা সকল পূজা কমিটিকে বলেছিলাম, যেহেতু সামনে ইলেকশন। তাই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। পূজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেন পালাক্রমে পাহারার ব্যবস্থা করে। তারা আড়াইহটা পর্যন্ত পাহারা দিয়েছে। আমাদের আনসার বাহিনী আজ থেকে পাহারায় যাবে। পূজার যাতে ব্যাঘাত না ঘটে এজন্য তাৎক্ষণিক পাল (প্রতিমা শিল্পী)কে ডেকে প্রতিমা মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পূজা কমিটিকে অতিরিক্ত আরও পাঁচশ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এব্যাপারে মন্দির কমিটিকে একটি জিডি করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

কালুখালীতে দুর্গা মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা

প্রকাশের সময় : 06:50:15 pm, Monday, 15 October 2018

জনতার আদালত অনালাইন ॥ রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার সাওরাইল বিষয় সাওরাইল সার্বজনীন দুর্গাপূজা মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার মাঝরাতের কোনো এক সময়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোমবার সকালে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী, পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি, কালুখালী উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি অশোক বাগচী, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ্ত চক্রবর্তী কান্ত, কালুখালী পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তনয় চক্রবর্তী সম্ভু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
দুর্গাপূজা শুরুর প্রাক্কালে প্রতিমা ভাঙার ঘটনায় স্থানীয় সনাতন ধর্মালম্বীদের মাঝে পূজার আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য ডলি রানী দেবদাস জানান, দীর্ঘ ৭২ বছর ধরে এ মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ইতিপূর্বে কখনও এধরনের ঘটনা ঘটেনি। দুর্বৃত্তরা দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষী, গণেশ, কার্তিক, ওসুরসহ তাদের বাহন সিংহ, ময়ূরেরও প্রতিমা ভেঙে ফেলেছে। তিনি এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান।
বিষয় সাওরাইল সার্বজনীন দুর্গাপূজা মন্দির কমিটির সভাপতি তুষার কুমার দাস জানান, প্রতিমা শিল্পীরা রোববার প্রতিমার কাজ সম্পন্ন করে চলে গেছে। তিনি সহ মন্দির কমিটির কয়েক সদস্য আড়াইটা পর্যন্ত মন্ডপে ছিলেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন সবগুলো প্রতিমা ভেঙে গুড়ো করে দিয়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে পূজার আনন্দ। তিনি আরও জানান, গত কয়েকদিন ধরে তাদেরকে ভারতে পাঠিয়ে দেবে বলে হুমকি ধমকি দেয়া হতো। বিষয়টি তিনি পরিদর্শনে আসা সকলকে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি অশোক কুমার বাগচী বলেন, আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ একাজ করতে পারেনা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য এ ধরনের হীন কাজ করা হয়েছে। দ্রুত আমরা দোষী ব্যক্তিদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
কালুখালী থানার ওসি ফরহাদ হোসেন জানান, পুলিশের ডিউটি না থাকা সত্ত্বেও আড়াইটা পর্যন্ত এই মন্দিরে পাহারা দিয়ে গেছে। এরপর দুর্বৃত্তরা সুযোগ বুঝে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক তাদেরকে খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পূজাকে ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে যাতে কোনো আতঙ্ক না থাকে তারা যাতে নির্বিঘেœ পূজার উৎসবে সামিল হতে পারে এজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্দিরে অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে। এখানে হিন্দু মুসলিমের মধ্যে যথেষ্ট সম্প্রীতি রয়েছে। এর মধ্যে কারা ঘটনা ঘটালো সেটাই খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী বলেন, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। আমরা সকল পূজা কমিটিকে বলেছিলাম, যেহেতু সামনে ইলেকশন। তাই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। পূজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেন পালাক্রমে পাহারার ব্যবস্থা করে। তারা আড়াইহটা পর্যন্ত পাহারা দিয়েছে। আমাদের আনসার বাহিনী আজ থেকে পাহারায় যাবে। পূজার যাতে ব্যাঘাত না ঘটে এজন্য তাৎক্ষণিক পাল (প্রতিমা শিল্পী)কে ডেকে প্রতিমা মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পূজা কমিটিকে অতিরিক্ত আরও পাঁচশ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এব্যাপারে মন্দির কমিটিকে একটি জিডি করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।