Dhaka ১১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩৩ মরদেহ সাগরে ফেলার লোমহর্ষক বর্ণনা দেওয়া রফিকুলকে প্রাণনাশের হুমকি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী যে কারণে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে গোলাপি লবণের বাজার রাজধানীতে ক্যানসার হাসপাতালের উপপরিচালককে কুপিয়ে জখম বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তায় ১৬ বিজিবির মোতায়েন মনোনয়ন সংকট ও কৌশলগত ব্যর্থতায় ঝিনাইদহ-৪ আসন হারিয়েছে বিএনপি তীব্র হচ্ছে গরম, তাপমাত্রা নিয়ে সতর্কবার্তা লেবাননে যিশুর মূর্তি ভাঙচুর করেছে ইসরায়েলি সেনা, স্বীকার করলেন নেতানিয়াহু কালুখালীতে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু

মনোনয়ন সংকট ও কৌশলগত ব্যর্থতায় ঝিনাইদহ-৪ আসন হারিয়েছে বিএনপি

একরামুল ইসলাম তুষার, কালীগঞ্জ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:২৩:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 40

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিএনপির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঝিনাইদহ-৪ আসন হারানোর পেছনে মনোনয়ন সংকট, তৃণমূলের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা এবং কৌশলগত ব্যর্থতা বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। স্থানীয় নেতাদের মতে, এটি কেবল একটি নির্বাচনী পরাজয় নয়, বরং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক দুর্বলতার ফল।

সোমবার (২০ এপ্রিল) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় উপজেলা ও পৌর বিএনপি নেতারা বলেন, তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজকে মনোনয়ন না দেওয়ায় দল বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকিতে পড়ে। জোটগত সমীকরণকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে স্থানীয় বাস্তবতা উপেক্ষা করা হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

নেতারা আরও দাবি করেন, নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়া ছিল তৃণমূলের “নীরব প্রতিবাদ”। ওই প্রার্থীর প্রায় ২২ হাজার ভোট বেশি পাওয়া থেকে বোঝা যায়, দলীয় প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

সভায় বক্তারা সাংগঠনিক দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কথাও তুলে ধরেন। বহিষ্কার, কমিটি বিলুপ্তি এবং নেতৃত্ব সংকটের কারণে তৃণমূল পর্যায়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বহিষ্কার মাঠ পর্যায়ের শক্তিকে দুর্বল করেছে।

নেতারা বলেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন এবং তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও সংগঠন পুনর্গঠনের দাবি জানান তারা।

সভায় বিএনপির সিনিয়র নেতা ডা. নুরুল ইসলাম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এসময় বিএনপি নেতা ইলিয়াস রহমান মিঠু, সাইদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও তৃণমূল বাস্তবতার সমন্বয় করতে না পারাই এই আসনে বিএনপির পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মনোনয়ন সংকট ও কৌশলগত ব্যর্থতায় ঝিনাইদহ-৪ আসন হারিয়েছে বিএনপি

প্রকাশের সময় : ০৮:২৩:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিএনপির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঝিনাইদহ-৪ আসন হারানোর পেছনে মনোনয়ন সংকট, তৃণমূলের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা এবং কৌশলগত ব্যর্থতা বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। স্থানীয় নেতাদের মতে, এটি কেবল একটি নির্বাচনী পরাজয় নয়, বরং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক দুর্বলতার ফল।

সোমবার (২০ এপ্রিল) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় উপজেলা ও পৌর বিএনপি নেতারা বলেন, তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজকে মনোনয়ন না দেওয়ায় দল বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকিতে পড়ে। জোটগত সমীকরণকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে স্থানীয় বাস্তবতা উপেক্ষা করা হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

নেতারা আরও দাবি করেন, নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়া ছিল তৃণমূলের “নীরব প্রতিবাদ”। ওই প্রার্থীর প্রায় ২২ হাজার ভোট বেশি পাওয়া থেকে বোঝা যায়, দলীয় প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

সভায় বক্তারা সাংগঠনিক দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কথাও তুলে ধরেন। বহিষ্কার, কমিটি বিলুপ্তি এবং নেতৃত্ব সংকটের কারণে তৃণমূল পর্যায়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বহিষ্কার মাঠ পর্যায়ের শক্তিকে দুর্বল করেছে।

নেতারা বলেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন এবং তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও সংগঠন পুনর্গঠনের দাবি জানান তারা।

সভায় বিএনপির সিনিয়র নেতা ডা. নুরুল ইসলাম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এসময় বিএনপি নেতা ইলিয়াস রহমান মিঠু, সাইদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও তৃণমূল বাস্তবতার সমন্বয় করতে না পারাই এই আসনে বিএনপির পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ।