Dhaka ০৮:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

জাবিতে দোকান নিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ১৫

জাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৪১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 7

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দোকান বরাদ্দ ও মালিকানা নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র চত্বরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সাভারের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট দোকানগুলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের অধীনে পরিচালিত হতো। নজরুল হল নির্মাণের পর থেকে হলটির শিক্ষার্থীরা তাঁদের হলের সামনে থাকা দোকানগুলোর বরাদ্দ ও মালিকানা দাবি করে আসছেন। এ নিয়ে দুই হলের মধ্যে প্রায় নয় মাস ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

নজরুল হল সংসদের ভিপি রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘এটি প্রায় নয় মাসের পুরোনো ইস্যু। আমরা দুই দফায় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। গত ১ সেপ্টেম্বর ৩৫০ শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসহ স্মারকলিপি দিয়ে সাত দিনের মধ্যে দুই হলের প্রতিনিধিদের নিয়ে বসার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু ১৪ দিন পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘পরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্তে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দোকানগুলোর সামনে অবস্থান নিই। একপর্যায়ে রবীন্দ্র হলের শিক্ষার্থীরা এসে উসকানিমূলক আচরণ করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। আজকের ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করছি।’

অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল সংসদের জিএস মাহমুদুর রহমান ইমন বলেন, ‘নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা প্রায় এক বছর ধরে দোকানগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছে। আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং তাঁদের প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে বলেছি। এসব দোকানের আয় আমাদের হলের বিভিন্ন কাজে ব্যয় হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমরা হলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলাম। একপর্যায়ে নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে এলে আমরা আত্মরক্ষার চেষ্টা করি। এতে আমাদের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তবে আমরা দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে কোনো শিক্ষার্থীর গায়ে হাত দিইনি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের উপপ্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা রিজওয়ানুর রহমান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১৫ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সাভারের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন।’

নজরুল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেন, প্রশাসনের উদ্যোগে দুই হলের ওয়ার্ডেন, হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি ও ছাত্র প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা তাঁদের হলের দোকানগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে বসার কথা থাকলেও সংঘর্ষের কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল প্রশাসনের উদ্যোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের দোকান বরাদ্দ ও মালিকানা নিয়ে বিরোধের স্থায়ী সমাধান এখন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জাবিতে দোকান নিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ১৫

প্রকাশের সময় : ০৬:৪১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দোকান বরাদ্দ ও মালিকানা নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র চত্বরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সাভারের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট দোকানগুলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের অধীনে পরিচালিত হতো। নজরুল হল নির্মাণের পর থেকে হলটির শিক্ষার্থীরা তাঁদের হলের সামনে থাকা দোকানগুলোর বরাদ্দ ও মালিকানা দাবি করে আসছেন। এ নিয়ে দুই হলের মধ্যে প্রায় নয় মাস ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

নজরুল হল সংসদের ভিপি রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘এটি প্রায় নয় মাসের পুরোনো ইস্যু। আমরা দুই দফায় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। গত ১ সেপ্টেম্বর ৩৫০ শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসহ স্মারকলিপি দিয়ে সাত দিনের মধ্যে দুই হলের প্রতিনিধিদের নিয়ে বসার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু ১৪ দিন পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘পরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্তে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দোকানগুলোর সামনে অবস্থান নিই। একপর্যায়ে রবীন্দ্র হলের শিক্ষার্থীরা এসে উসকানিমূলক আচরণ করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। আজকের ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করছি।’

অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল সংসদের জিএস মাহমুদুর রহমান ইমন বলেন, ‘নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা প্রায় এক বছর ধরে দোকানগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছে। আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং তাঁদের প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে বলেছি। এসব দোকানের আয় আমাদের হলের বিভিন্ন কাজে ব্যয় হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমরা হলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলাম। একপর্যায়ে নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে এলে আমরা আত্মরক্ষার চেষ্টা করি। এতে আমাদের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তবে আমরা দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে কোনো শিক্ষার্থীর গায়ে হাত দিইনি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের উপপ্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা রিজওয়ানুর রহমান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১৫ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সাভারের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন।’

নজরুল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেন, প্রশাসনের উদ্যোগে দুই হলের ওয়ার্ডেন, হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি ও ছাত্র প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা তাঁদের হলের দোকানগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে বসার কথা থাকলেও সংঘর্ষের কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল প্রশাসনের উদ্যোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের দোকান বরাদ্দ ও মালিকানা নিয়ে বিরোধের স্থায়ী সমাধান এখন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।