Dhaka ১২:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালীগঞ্জে সার না পেয়ে ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও, বিক্ষোভ

একরামুল ইসলাম তুষার, কালীগঞ্জ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৪৪:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 10

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সার না পেয়ে ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। পরে কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় সেখানে মজুত থাকা সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তবে এ সময় সংশ্লিষ্ট ডিলার শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলার জামাল ইউনিয়নের দুধরাজপুর গ্রামের ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। শহিদুল ইসলাম ওই ইউনিয়নের নির্ধারিত সার ডিলার।

কৃষকদের দাবি, রোববার সার দেওয়া হবে বলে তাঁদের জানানো হয়েছিল। নির্ধারিত দিনে ডিলার পয়েন্টে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, শুক্রবার ও শনিবার সার বিতরণ করা হয়েছে, তাই রোববার আর সার দেওয়া হবে না। এতে কৃষকেরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে আরও কৃষক সেখানে উপস্থিত হলে ডিলার পক্ষের লোকজনের সহযোগিতায় গোডাউন খুলে ৬০ বস্তা সার দেখতে পান তাঁরা।

কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার শহিদুল ইসলাম বিভিন্ন মানুষের নাম রেজিস্টারে দেখিয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করেছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলার বলেন, তিনি যে সার উত্তোলন করেছিলেন, তা বিতরণ করা হয়েছে এবং এর রেজিস্টার রয়েছে। চাহিদার তুলনায় কম সার পাওয়া গেলে তাঁর কিছু করার নেই বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ডিলার পয়েন্টে থাকা সার বিতরণের রেজিস্টার পর্যালোচনা করে দেখতে পান, বিতরণ করা সারের তালিকায় মাত্র ৫ শতাংশ নামের পাশে ফোন নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। সেখান থেকে নয়জন কৃষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে একজন সার পাওয়ার কথা জানান। বাকি আটজনের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ডিলার শহিদুল ইসলামের চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ৬৪ টন সারের বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে প্রথম সপ্তাহে তিনি ৫৮ টন সার উত্তোলন করেছেন। এ পরিমাণ সারে প্রায় এক হাজার ২০০ বস্তা হয়।

ঘটনাস্থলে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত জামিল বলেন, ‘যে সার আছে, তা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় আরও সার আনা হচ্ছে। সেগুলোও কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। সার বিতরণের রেজিস্টারও পরীক্ষা করা হচ্ছে, কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা দেখা হবে।’

চলতি আমন মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। ইউরিয়ার পাশাপাশি টিএসপি ও ডিএপি সার নিয়েও তাঁদের ভোগান্তি বেড়েছে। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর সকালে জেলার শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ বাজারে সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা। ওই সময় ডিলার সার দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়াগঞ্জ-শৈলকুপা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করা হয়।

সম্প্রতি চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ার বিষয়টি সামনে এলেও জেলা কৃষি বিভাগ ও বাফার গোডাউন কর্তৃপক্ষের দাবি, জেলায় সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। প্রতিমাসের চাহিদার বিপরীতে ডিলাররা বরাদ্দ উত্তোলন করছেন। তবে কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার পয়েন্টে চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না; বেশি দাম দিলে খোলা বাজারে সার মিলছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

কালীগঞ্জে সার না পেয়ে ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও, বিক্ষোভ

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৪:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সার না পেয়ে ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। পরে কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় সেখানে মজুত থাকা সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তবে এ সময় সংশ্লিষ্ট ডিলার শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলার জামাল ইউনিয়নের দুধরাজপুর গ্রামের ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। শহিদুল ইসলাম ওই ইউনিয়নের নির্ধারিত সার ডিলার।

কৃষকদের দাবি, রোববার সার দেওয়া হবে বলে তাঁদের জানানো হয়েছিল। নির্ধারিত দিনে ডিলার পয়েন্টে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, শুক্রবার ও শনিবার সার বিতরণ করা হয়েছে, তাই রোববার আর সার দেওয়া হবে না। এতে কৃষকেরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে আরও কৃষক সেখানে উপস্থিত হলে ডিলার পক্ষের লোকজনের সহযোগিতায় গোডাউন খুলে ৬০ বস্তা সার দেখতে পান তাঁরা।

কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার শহিদুল ইসলাম বিভিন্ন মানুষের নাম রেজিস্টারে দেখিয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করেছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলার বলেন, তিনি যে সার উত্তোলন করেছিলেন, তা বিতরণ করা হয়েছে এবং এর রেজিস্টার রয়েছে। চাহিদার তুলনায় কম সার পাওয়া গেলে তাঁর কিছু করার নেই বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ডিলার পয়েন্টে থাকা সার বিতরণের রেজিস্টার পর্যালোচনা করে দেখতে পান, বিতরণ করা সারের তালিকায় মাত্র ৫ শতাংশ নামের পাশে ফোন নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। সেখান থেকে নয়জন কৃষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে একজন সার পাওয়ার কথা জানান। বাকি আটজনের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ডিলার শহিদুল ইসলামের চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ৬৪ টন সারের বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে প্রথম সপ্তাহে তিনি ৫৮ টন সার উত্তোলন করেছেন। এ পরিমাণ সারে প্রায় এক হাজার ২০০ বস্তা হয়।

ঘটনাস্থলে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত জামিল বলেন, ‘যে সার আছে, তা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় আরও সার আনা হচ্ছে। সেগুলোও কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। সার বিতরণের রেজিস্টারও পরীক্ষা করা হচ্ছে, কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা দেখা হবে।’

চলতি আমন মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। ইউরিয়ার পাশাপাশি টিএসপি ও ডিএপি সার নিয়েও তাঁদের ভোগান্তি বেড়েছে। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর সকালে জেলার শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ বাজারে সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা। ওই সময় ডিলার সার দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়াগঞ্জ-শৈলকুপা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করা হয়।

সম্প্রতি চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ার বিষয়টি সামনে এলেও জেলা কৃষি বিভাগ ও বাফার গোডাউন কর্তৃপক্ষের দাবি, জেলায় সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। প্রতিমাসের চাহিদার বিপরীতে ডিলাররা বরাদ্দ উত্তোলন করছেন। তবে কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার পয়েন্টে চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না; বেশি দাম দিলে খোলা বাজারে সার মিলছে।