Dhaka ০৭:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছেলে-নাতির বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, থানায় ৯০ বছরের বৃদ্ধা

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৩৪:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 4

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ছেলে, দুই নাতি ও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি, মারধর ও সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ করেছেন ৯০ বছর বয়সী কুলসুম বেগম। নিজের ও দুই নাতনির নিরাপত্তা চেয়ে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বালিয়াকান্দি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযুক্তরা হলেন কুলসুম বেগমের ছেলে ইমান আলী শেখ এবং নাতি মিলন শেখ ও ইমরান শেখ।

অভিযোগে কুলসুম বেগম বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে ছেলে ইমান আলী শেখের নির্যাতনের কারণে তিনি বাড়িতে বসবাস করতে না পেরে নিজের নামে জমি কিনে দুই নাতনী শান্তা ও ফারজানাকে নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন। তাঁর দাবি, ওই জমির এসএ ও বিএস খতিয়ান ৫৫৭-এ তাঁর নাম রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তাঁকে ভরণপোষণ দেন না। বরং চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেন। তাঁর দুই নাতনীর কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়। স্বামীর জীবদ্দশায় কষ্ট করে গড়ে তোলা সম্পত্তির অধিকাংশই অভিযুক্তরা বিক্রি করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বর্তমানে তাঁর ভোগদখলে থাকা বসতভিটায় প্রায় ৪৬ শতাংশ জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ শতাংশ জমি টাকা নিয়ে দুই নাতনী ফারজানা আক্তার ও শান্তার নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে।

কুলসুম বেগমের অভিযোগ, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নাতি মিলন শেখ মাদকের টাকা জোগাড়ের জন্য ফারজানা আক্তারের নামে থাকা জমিতে নির্মিত একটি বসতঘর বিক্রি করে দেন। তিনি ও তাঁর দুই নাতনী সেখানে গিয়ে ঘরটি বিক্রি না করার অনুরোধ করলে মিলন তাঁকে লাথি মেরে ফেলে দেন। পরে ইমরান শেখ ধারালো দা নিয়ে তাঁদের দিকে এগিয়ে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগেও হুমকি ও মারধরের ঘটনায় ২০১৬ সালে কুলসুম বেগম একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। সম্প্রতি তাঁর নামীয় সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে জাল কাগজপত্র তৈরি করে রেকর্ড সংশোধনের মামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এ মামলার নোটিশ গত ৮ সেপ্টেম্বর তাঁর ও দুই নাতনীর নামে এসেছে বলে জানান তিনি।

কুলসুম বেগম বলেন, গত দুই দিন ধরে মিলন তাঁর পুকুরে মাছ ধরছেন এবং ইমরানকে সেখানে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। প্রাণনাশের হুমকির কারণে নিজের সম্পত্তিতেও যেতে পারছেন না তিনি। তাঁর আশঙ্কা, সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে যেকোনো সময় তাঁর ওপর হামলা হতে পারে।

কুলসুম বেগমের নাতনী শান্তা খাতুন বলেন, ‘নানীর ভরণপোষণ আমরাই করি। তাঁর ছেলে বা নাতিরা কোনো ভরণপোষণ দেন না। উল্টো জমি আত্মসাতের চেষ্টা ও নানা অজুহাতে নানীর কাছ থেকে টাকা নেন। তাঁরা নিজেদের সব জমি বিক্রি করে এখন নানী ও আমাদের সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করছেন।’

অভিযোগের বিষয়ে কুলসুম বেগমের ছেলে ইমান আলী শেখ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাঁর ছেলে পরে ফোন দেবেন বলে জানান। তবে মিলন শেখের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রব তালুকদার বলেন, ‘বৃদ্ধার অভিযোগের বিষয়টি অবগত আছি। তিনি লিখিত অভিযোগ করেছেন। দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ছেলে-নাতির বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, থানায় ৯০ বছরের বৃদ্ধা

প্রকাশের সময় : ০৫:৩৪:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ছেলে, দুই নাতি ও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি, মারধর ও সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ করেছেন ৯০ বছর বয়সী কুলসুম বেগম। নিজের ও দুই নাতনির নিরাপত্তা চেয়ে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বালিয়াকান্দি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযুক্তরা হলেন কুলসুম বেগমের ছেলে ইমান আলী শেখ এবং নাতি মিলন শেখ ও ইমরান শেখ।

অভিযোগে কুলসুম বেগম বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে ছেলে ইমান আলী শেখের নির্যাতনের কারণে তিনি বাড়িতে বসবাস করতে না পেরে নিজের নামে জমি কিনে দুই নাতনী শান্তা ও ফারজানাকে নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন। তাঁর দাবি, ওই জমির এসএ ও বিএস খতিয়ান ৫৫৭-এ তাঁর নাম রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তাঁকে ভরণপোষণ দেন না। বরং চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেন। তাঁর দুই নাতনীর কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়। স্বামীর জীবদ্দশায় কষ্ট করে গড়ে তোলা সম্পত্তির অধিকাংশই অভিযুক্তরা বিক্রি করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বর্তমানে তাঁর ভোগদখলে থাকা বসতভিটায় প্রায় ৪৬ শতাংশ জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ শতাংশ জমি টাকা নিয়ে দুই নাতনী ফারজানা আক্তার ও শান্তার নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে।

কুলসুম বেগমের অভিযোগ, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নাতি মিলন শেখ মাদকের টাকা জোগাড়ের জন্য ফারজানা আক্তারের নামে থাকা জমিতে নির্মিত একটি বসতঘর বিক্রি করে দেন। তিনি ও তাঁর দুই নাতনী সেখানে গিয়ে ঘরটি বিক্রি না করার অনুরোধ করলে মিলন তাঁকে লাথি মেরে ফেলে দেন। পরে ইমরান শেখ ধারালো দা নিয়ে তাঁদের দিকে এগিয়ে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগেও হুমকি ও মারধরের ঘটনায় ২০১৬ সালে কুলসুম বেগম একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। সম্প্রতি তাঁর নামীয় সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে জাল কাগজপত্র তৈরি করে রেকর্ড সংশোধনের মামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এ মামলার নোটিশ গত ৮ সেপ্টেম্বর তাঁর ও দুই নাতনীর নামে এসেছে বলে জানান তিনি।

কুলসুম বেগম বলেন, গত দুই দিন ধরে মিলন তাঁর পুকুরে মাছ ধরছেন এবং ইমরানকে সেখানে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। প্রাণনাশের হুমকির কারণে নিজের সম্পত্তিতেও যেতে পারছেন না তিনি। তাঁর আশঙ্কা, সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে যেকোনো সময় তাঁর ওপর হামলা হতে পারে।

কুলসুম বেগমের নাতনী শান্তা খাতুন বলেন, ‘নানীর ভরণপোষণ আমরাই করি। তাঁর ছেলে বা নাতিরা কোনো ভরণপোষণ দেন না। উল্টো জমি আত্মসাতের চেষ্টা ও নানা অজুহাতে নানীর কাছ থেকে টাকা নেন। তাঁরা নিজেদের সব জমি বিক্রি করে এখন নানী ও আমাদের সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করছেন।’

অভিযোগের বিষয়ে কুলসুম বেগমের ছেলে ইমান আলী শেখ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাঁর ছেলে পরে ফোন দেবেন বলে জানান। তবে মিলন শেখের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রব তালুকদার বলেন, ‘বৃদ্ধার অভিযোগের বিষয়টি অবগত আছি। তিনি লিখিত অভিযোগ করেছেন। দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’