ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানে আগামী তিন মাস সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
- প্রকাশের সময় : ১০:৪৩:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 7
আগামী তিন মাসের মধ্যে ডেঙ্গু সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সম্মিলিতভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা গেলে ডেঙ্গু পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান–২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটা সবার। তাই দেশকে সুন্দর ও সুস্থ রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পরিবার, সমাজ ও দেশকে সুস্থ রাখতে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানস্থল থেকে অনলাইনে দেশের সব জেলার স্কাউটস, বিএনসিসি, গার্লস গাইড, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের লাখ লাখ তরুণের সঙ্গে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।
বক্তব্যের শুরুতে তরুণদের শক্তির পরিসংখ্যান তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে স্কাউটসের সদস্য প্রায় ২৩ লাখ এবং বিএনসিসির সদস্য ২২ হাজার। এ ছাড়া হাইস্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দেড় কোটি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে আড়াই কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। এত বিশালসংখ্যক মানুষ দেশ পুনর্গঠনে একযোগে কাজ করলে কেউ বাংলাদেশকে এগিয়ে যাওয়া থেকে ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।
তরুণ সমাজের পরিবর্তনের ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের এত বড় তরুণ সমাজ যদি দেশ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেই পরিবর্তন সম্ভব। তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন আনতে পারে, তা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তারা সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে। পরিবর্তনের সূচনা সেখান থেকেই হয়েছে।
দেশব্যাপী শুরু হওয়া পরিচ্ছন্নতা অভিযানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। হয়তো শতভাগ সফলতা অর্জন সম্ভব হবে না, তবে অন্তত ৮০ শতাংশ সফল হওয়া সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী মশা সাধারণত ভাঙাচোরা পাত্র, প্লাস্টিকের সামগ্রী কিংবা জমে থাকা পানিতে জন্ম নেয়। এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহে নিজের বাসা, স্কুল, কলেজ কিংবা প্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার করার জন্য অন্তত এক ঘণ্টা সময় দিলে দ্রুত পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। রাস্তাঘাটে যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলতেও সবাইকে সচেতন হতে হবে।
ময়লা-আবর্জনা থেকে রোগজীবাণু ছড়িয়ে নিজের পরিবারের সদস্য ও আপনজনরাই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শেষে ‘পরিচ্ছন্ন পরিবার, পরিচ্ছন্ন সমাজ এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে উপস্থিত তরুণদের পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ করার শপথ পাঠ করান তিনি।
























