সৌদিতে চাকরি দেওয়ার নামে নিয়েছিল টাকা, ফেরত চাওয়ায় মারধর
- প্রকাশের সময় : ০৭:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- / 7
সৌদি আরবে চাকরি দেওয়ার কথা বলে চার লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যশোরের শার্শা উপজেলার এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পরে টাকা ফেরত চাইতে গেলে প্রবাসীর বাবা, ছেলে ও এক স্বজনকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার সকালে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বসতপুর গ্রামের শাহাজান মোল্যা (৬০)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাহাজান মোল্যার ছেলে আবু রায়হান রিপনকে সৌদি আরবে চাকরি দেওয়ার কথা বলে একই গ্রামের শাহাজালালের সঙ্গে চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি চার লাখ ৭৫ হাজার টাকার চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী পুরো টাকা পরিশোধের পর ১৬ ফেব্রুয়ারি রিপনকে তিন মাসের টুরিস্ট ভিসায় সৌদি আরবে পাঠানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়, সৌদি আরবে যাওয়ার পর রিপনকে কোনো চাকরি দেওয়া হয়নি। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও কাজের ব্যবস্থা না হওয়ায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিভিন্ন সময় কাজ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও প্রায় ছয় মাসেও কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনেন তার বাবা।
পরে গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে চার লাখ ৭৫ হাজার টাকা ফেরত চাইতে গেলে শাহাজান মোল্যার সঙ্গে শাহাজালাল, আল আমিন, শাহাজালালের স্ত্রী হাসিনা খাতুন ও তাদের সঙ্গে থাকা কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকার হেফাজউদ্দিনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাহাজান মোল্যা, তার ছেলে রিপন ও সঙ্গে থাকা আলাউদ্দিনকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে রিপনকে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পাওনা টাকা ফেরত না দেওয়ার পাশাপাশি শাহাজান মোল্যাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শাহাজালাল বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমি তাকে সৌদি নিয়ে গেছি। কাজ না পেলে আমার করার কী আছে। তার ছেলে অপেক্ষা না করে বাড়ি ফিরে এসেছে। আমার পক্ষে টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়। তাদের কোনো মারধর করা হয়নি, কথা-কাটাকাটি হয়েছে।’
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, ‘অভিযোগটি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’























