চার খুনে অভিযুক্তদের পক্ষে লড়বেন না রংপুরের আইনজীবীরা
- প্রকাশের সময় : ০৫:৩৭:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 7
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেফতার অভিযুক্তদের পক্ষে মামলা পরিচালনা না করার ঘোষণা দিয়েছে রংপুর আইনজীবী সমিতি। একই ঘটনায় পুলিশের তদন্ত নিয়ে ১৯টি প্রশ্ন তুলে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি।
শনিবার রংপুর আইনজীবী সমিতি ভবনের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সমিতির পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই মামলার অভিযুক্তদের পক্ষে লড়ব না।’ পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত এক সপ্তাহ, এক মাস বা প্রয়োজন অনুযায়ী বহাল থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের বিষয়ে পুলিশের ওপর আইনজীবী সমিতির আস্থা রয়েছে। প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে তারা কাজ করবেন। মামলাটি উচ্চ আদালত বা আপিল বিভাগে গেলেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে রাজনীতি না করার আহ্বানও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. শাহেদ কামাল ইবনে খতিব, রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাড. মাহফুজ-উন-নবী ডন, মহানগর জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়াবিষয়ক সম্পাদক ও অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. কাওছার আলী, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড. হারুন-অর-রশিদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে ১৯টি প্রশ্ন তোলে। সংগঠনের সদস্য সচিব অ্যাড. পলাশ কান্তি নাগ বলেন, ‘সামগ্রিক ঘটনা প্রবাহ থেকে প্রতীয়মান হয়, হত্যাকাণ্ডটি ঠান্ডা মাথায় সুপরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধভাবে ঘটানো হয়েছে।’
তিনি প্রশ্ন তোলেন, মাত্র দুই কিশোর কীভাবে এত দ্রুত চারজনকে হত্যা করল, অস্ত্র ব্যবহার না হলে বাড়ির বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ কেন পাওয়া গেছে এবং হত্যাকাণ্ডের সময় কোনো চিৎকার প্রতিবেশীরা কেন শুনতে পাননি। লাশ উদ্ধারের পর বিভিন্ন আলামত, ময়নাতদন্ত, ডিএনএ ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার বিষয়েও প্রশ্ন তুলে পুলিশের তদন্ত নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
নাগরিক কমিটির দাবি, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি থেকে লুট হওয়া ১৫ হাজার টাকার মধ্যে গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাসের ভাগে সাড়ে ৩ হাজার টাকা এসেছে বলে পুলিশের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তাহলে বাকি টাকা কারা পেয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য নেই বলেও প্রশ্ন তোলেন সংগঠনের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোজাহার আলী, বিথী রানী দাসসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।



















