জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল
- প্রকাশের সময় : ১০:১৩:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
- / 8
ইসলামের দৃষ্টিতে পবিত্র জুমার দিন ও জুমার রাতের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আল্লাহ তাআলা কোরআনে ‘জুমা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা নাজিল করেছেন। জুমার দিনে মুসলমানদের জন্য রয়েছে বিশেষ কিছু আমল, যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও সওয়াব লাভের সুযোগ রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে এগিয়ে যাও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে।’ (সূরা আল-জুমা: ৯)
জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে জুমার নামাজ আদায় করা। সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করে, সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে যায়, মুসল্লিদের মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না এবং ইমাম খুতবা শুরু করলে নীরবে মনোযোগ দিয়ে শোনে, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্তের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮৩)
জুমার দিন গোসল করা এবং দ্রুত মসজিদে যাওয়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। আউস ইবনে আউস সাকাফি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমভাবে গোসল করে দ্রুত মসজিদে যায়, ইমামের কাছাকাছি বসে মনোযোগসহ খুতবা শোনে, তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব রয়েছে। (আবু দাউদ, হাদিস: ৩৪৫)
জুমার দিন মসজিদে আগে যাওয়ারও বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রথমে মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট কোরবানি করল; এরপর যে যায়, সে যেন একটি গরু কোরবানি করল। এভাবে পর্যায়ক্রমে ছাগল, মুরগি ও ডিম সদকার সমপরিমাণ সওয়াবের কথা হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৪১)
জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। হাদিসে এ সময়টি অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে আসরের পর এ সময়ের সন্ধান করার কথা এসেছে। (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)
জুমার দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সূরা কাহাফ পাঠ করা। হাদিসে জুমার দিনে সূরা কাহাফ পাঠের বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। এটি এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ে আলোর কারণ হয় বলে বর্ণনা রয়েছে।
এ ছাড়া জুমার দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। … অতএব, তোমরা এই দিনে আমার ওপর বেশি পরিমাণ দরুদ পড়ো।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)
জুমার দিনের এসব আমলের পাশাপাশি মুসল্লিদের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা, নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা, বেশি বেশি দোয়া ও জিকির করা এবং গুনাহ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করা উচিত। জুমার দিনটি একজন মুমিনের জন্য ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের বিশেষ সুযোগ।






















