শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
যুক্তরাষ্ট্রে কেমন আছেন একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাত্রি ভিনিসিয়ুসের জন্য আমি রিয়ালের ক্ষতি করতে পারি না: মরিনিও পরীমনির পাশে দাঁড়ালেন প্রভা, বললেন- ‘আমাকেও ব্যডটাচ করা হয়েছিল’ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ধ্বংস হয়ে গেল নাসার সুইফট স্পেস টেলিস্কোপ স্পর্শের অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিক রবিউল বললেন, পরীমনি তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়েছিলেন হাসানের ৬ উইকেটের দাপটে ৩৫৬ রানে অলআউট উইন্ডিজ নির্বাচনে ভরাডুবির পর আরেক ধাক্কা, ২৫০ ফুট ‘ট্রাম্প তোরণ’ নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা প্রথম ইনিংসে ব্যাট করার মতো অবস্থায় নেই সাদমান ২.৩ বিলিয়ন ডলারে বাংলাদেশি-আমেরিকান নিহাদের নেতৃত্বাধীন স্টার্টআপ কিনছে উবার আলী যাকেরের প্রথম চড়েই মাটিতে পড়ে যান ফারুক আহমেদ

হরমুজে অচলাবস্থা: ওমানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, একক নিয়ন্ত্রণ চায় ইরান

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৫০:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • / 87

 

কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এই রুটে জাহাজ চলাচলে ওমানের দেওয়া সমান ভাগাভাগির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। উল্টো পুরো প্রণালিতে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার কড়া শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান।

ওমান হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ ও বাধ্যতামূলক টোল আরোপ ঠেকাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থনে একটি যৌথ আঞ্চলিক কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছিল। গত শনিবার পরিকল্পনাটি তেহরানের কাছে পাঠানো হয়।

মূলত ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগর সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালির (ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের যৌথ পরিচালনা) আদলে এটি তৈরি করা হয়। প্রস্তাব ছিল, জাহাজগুলোর কাছ থেকে স্বেচ্ছায় টোল আদায় করে তা নিরাপদ নৌ চলাচল, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে ব্যয় করা হবে।

কিন্তু মঙ্গলবার ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাওয়াদি জানান, ওমানের প্রস্তাবটি তাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ মেটাতে পুরোপুরি ব্যর্থ। এর বদলে তেহরান চায়, একটি শিপিং লেন পুরোপুরি এবং দ্বিতীয়টির একাংশ সরাসরি ইরানের জলসীমা দিয়ে যাবে; যাতে আসা-যাওয়া করা সব জাহাজের ওপর তারা নিবিড় নজরদারি করতে পারে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে মাইন আতঙ্কে আন্তর্জাতিক ‘ট্রাফিক সেপারেশন স্কিম’ রুটটি অচল রয়েছে। গারিবাওয়াদি জানান, তারা রুটটিকে আর স্বীকৃতি দেন না এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তৃতীয় কোনো দেশকে সেখানে মাইন অপসারণ করতেও দেওয়া হবে না।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি-বাণিজ্যের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরান পথটি অবরুদ্ধ করে দেয়। গত মাসে দুপক্ষের সমঝোতায় এটি আংশিক চালু হলেও, ইরানি হামলার অজুহাতে চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালালে চুক্তিটি ভেস্তে যায়। টানা ১৩ দিন মার্কিন হামলার পর শুক্রবার থেকে তা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

এমন উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার ওমান ও সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি মার্কিন আগ্রাসনে সৃষ্ট নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী গারিবাওয়াদি জানান, যুক্তরাষ্ট্রই ওমানের মাধ্যমে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে এবং সামরিক হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছেন, আলোচনা ভালো এগোচ্ছে। তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা এড়াতে চান। তবে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেওয়া হবে না।

এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেই সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের ‘ইস্পাতকঠিন অবরোধ’ চলছে। ২৮ জুলাইয়ের পর থেকে তারা ১৮টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ বদলে দিয়েছে এবং চারটি আটক বা বিকল করেছে।

কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ মনে করেন, ওমানের প্রস্তাবটি গৃহীত হলে অবরুদ্ধ ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ কমত। প্রণালিটি বন্ধ থাকায় সাধারণ ইরানিরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তাই তারা চান এটি দ্রুত চালু হোক। কিন্তু ইরানের সরকারে থাকা কট্টরপন্থীদের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অনড় অবস্থানের কারণেই শান্তির এই ইতিবাচক উদ্যোগটি শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেল।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

হরমুজে অচলাবস্থা: ওমানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, একক নিয়ন্ত্রণ চায় ইরান

প্রকাশের সময় : ০৯:৫০:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

 

কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এই রুটে জাহাজ চলাচলে ওমানের দেওয়া সমান ভাগাভাগির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। উল্টো পুরো প্রণালিতে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার কড়া শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান।

ওমান হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ ও বাধ্যতামূলক টোল আরোপ ঠেকাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থনে একটি যৌথ আঞ্চলিক কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছিল। গত শনিবার পরিকল্পনাটি তেহরানের কাছে পাঠানো হয়।

মূলত ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগর সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালির (ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের যৌথ পরিচালনা) আদলে এটি তৈরি করা হয়। প্রস্তাব ছিল, জাহাজগুলোর কাছ থেকে স্বেচ্ছায় টোল আদায় করে তা নিরাপদ নৌ চলাচল, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে ব্যয় করা হবে।

কিন্তু মঙ্গলবার ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাওয়াদি জানান, ওমানের প্রস্তাবটি তাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ মেটাতে পুরোপুরি ব্যর্থ। এর বদলে তেহরান চায়, একটি শিপিং লেন পুরোপুরি এবং দ্বিতীয়টির একাংশ সরাসরি ইরানের জলসীমা দিয়ে যাবে; যাতে আসা-যাওয়া করা সব জাহাজের ওপর তারা নিবিড় নজরদারি করতে পারে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে মাইন আতঙ্কে আন্তর্জাতিক ‘ট্রাফিক সেপারেশন স্কিম’ রুটটি অচল রয়েছে। গারিবাওয়াদি জানান, তারা রুটটিকে আর স্বীকৃতি দেন না এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তৃতীয় কোনো দেশকে সেখানে মাইন অপসারণ করতেও দেওয়া হবে না।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি-বাণিজ্যের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরান পথটি অবরুদ্ধ করে দেয়। গত মাসে দুপক্ষের সমঝোতায় এটি আংশিক চালু হলেও, ইরানি হামলার অজুহাতে চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালালে চুক্তিটি ভেস্তে যায়। টানা ১৩ দিন মার্কিন হামলার পর শুক্রবার থেকে তা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

এমন উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার ওমান ও সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি মার্কিন আগ্রাসনে সৃষ্ট নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী গারিবাওয়াদি জানান, যুক্তরাষ্ট্রই ওমানের মাধ্যমে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে এবং সামরিক হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছেন, আলোচনা ভালো এগোচ্ছে। তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা এড়াতে চান। তবে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেওয়া হবে না।

এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেই সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের ‘ইস্পাতকঠিন অবরোধ’ চলছে। ২৮ জুলাইয়ের পর থেকে তারা ১৮টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ বদলে দিয়েছে এবং চারটি আটক বা বিকল করেছে।

কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ মনে করেন, ওমানের প্রস্তাবটি গৃহীত হলে অবরুদ্ধ ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ কমত। প্রণালিটি বন্ধ থাকায় সাধারণ ইরানিরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তাই তারা চান এটি দ্রুত চালু হোক। কিন্তু ইরানের সরকারে থাকা কট্টরপন্থীদের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অনড় অবস্থানের কারণেই শান্তির এই ইতিবাচক উদ্যোগটি শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেল।