Dhaka ০৪:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বঙ্গভবন ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন নওগাঁয় মাদকবিরোধী অভিযানে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১ বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতেই মিলল বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে সব সুবিধা পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজকের ই-পেপার (২৬ জুলাই ২০২৬) কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তায় দায়িত্বে আনসার বাহিনী পোরশায় সারাইগাছি পুলিশ বক্স উদ্বোধন, সড়কে ছিনতাই-ডাকাতি নির্মূলে কঠোর বার্তা বনিবনা না হলে কবে আবার তিনিও জামায়াত থেকে বের হয়ে যান: রাশেদ খাঁন হাইতির এতিমখানা থেকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে বিস্ময়বালক ‘কিকি’ রামোস জানা গেল এসএসসির ফল প্রকাশের সাম্ভব্য তারিখ

খুবিতে সব ভবনের তালা খুলেছে, তবে ক্লাসে ফেরেননি শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০১:২৭:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • / 16

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনসহ সব ভবনের তালা খুলে দিয়েছেন। তবে তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। ফলে আজ রবিবার প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হলেও ক্লাস-পরীক্ষা আপাতত শুরু হয়নি।

গতকাল শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনের তালা খুলে দেওয়া হলেও মূল প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলতে পারেননি শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা জানান, চাবি খুঁজে না পাওয়ায় তালা খোলা সম্ভব হচ্ছে না।

আজ সকাল ৯টা থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল প্রশাসনিক ভবনের বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। পরে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীরা এসে তালা ভেঙে ভবনটি খুলে দিলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভেতরে প্রবেশ করেন।

গতকাল শনিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক এবং শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি শিক্ষক-প্রশাসনের সংহতি প্রকাশের পর রাত ১০টার দিকে তালা খুলে দেওয়া হয়। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সুষ্ঠু তদন্ত ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অন্যদিকে রাতে শিক্ষার্থীদের দেওয়া পৃথক এক বিবৃতিতে দাবি বাস্তবায়নের আগে ক্লাস-পরীক্ষায় না ফেরার ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২২ জুলাই রাতে বিজয় ’২৪ হলের একটি ঘটনার জেরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ সব ভবনে তালা দিয়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। পরে শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এর অংশ হিসেবে গতবার সব ডিসিপ্লিনের প্রধান নিজ নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ওই সভাগুলোয় যৌন অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের দাবির প্রতি শিক্ষকেরা একাত্মতা প্রকাশ করেন।

পরে বিকাল সাড়ে ৪টায় উপাচার্যের সভাপতিত্বে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সহ-উপাচার্য, ট্রেজারার, বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিনপ্রধান, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালকেরা শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানান।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন অধ্যাপক মো. আশরাফুল আলম ও ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক মো. নবীউল ইসলাম খান ২২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে সব ভবনের তালা খুলে দেন।

তবে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেননি শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত ‘টু টু’ ফেসবুক পেজে রাত ১০টার দিকে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’-এর প্যাডে একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন অব্যাহত থাকবে।

এর আগে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি এবং বিজয় ’২৪ হলের ক্যানটিনকর্মীর বিরুদ্ধে গোপনে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগ বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন। গত বৃহস্পতিবার তারা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোয় তালা ঝুলিয়ে দেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

খুবিতে সব ভবনের তালা খুলেছে, তবে ক্লাসে ফেরেননি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের সময় : ০১:২৭:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনসহ সব ভবনের তালা খুলে দিয়েছেন। তবে তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। ফলে আজ রবিবার প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হলেও ক্লাস-পরীক্ষা আপাতত শুরু হয়নি।

গতকাল শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনের তালা খুলে দেওয়া হলেও মূল প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলতে পারেননি শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা জানান, চাবি খুঁজে না পাওয়ায় তালা খোলা সম্ভব হচ্ছে না।

আজ সকাল ৯টা থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল প্রশাসনিক ভবনের বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। পরে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীরা এসে তালা ভেঙে ভবনটি খুলে দিলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভেতরে প্রবেশ করেন।

গতকাল শনিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক এবং শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি শিক্ষক-প্রশাসনের সংহতি প্রকাশের পর রাত ১০টার দিকে তালা খুলে দেওয়া হয়। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সুষ্ঠু তদন্ত ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অন্যদিকে রাতে শিক্ষার্থীদের দেওয়া পৃথক এক বিবৃতিতে দাবি বাস্তবায়নের আগে ক্লাস-পরীক্ষায় না ফেরার ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২২ জুলাই রাতে বিজয় ’২৪ হলের একটি ঘটনার জেরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ সব ভবনে তালা দিয়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। পরে শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এর অংশ হিসেবে গতবার সব ডিসিপ্লিনের প্রধান নিজ নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ওই সভাগুলোয় যৌন অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের দাবির প্রতি শিক্ষকেরা একাত্মতা প্রকাশ করেন।

পরে বিকাল সাড়ে ৪টায় উপাচার্যের সভাপতিত্বে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সহ-উপাচার্য, ট্রেজারার, বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিনপ্রধান, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালকেরা শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানান।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন অধ্যাপক মো. আশরাফুল আলম ও ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক মো. নবীউল ইসলাম খান ২২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে সব ভবনের তালা খুলে দেন।

তবে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেননি শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত ‘টু টু’ ফেসবুক পেজে রাত ১০টার দিকে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’-এর প্যাডে একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন অব্যাহত থাকবে।

এর আগে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি এবং বিজয় ’২৪ হলের ক্যানটিনকর্মীর বিরুদ্ধে গোপনে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগ বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন। গত বৃহস্পতিবার তারা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোয় তালা ঝুলিয়ে দেন।