ইরানকে ঘিরে পরোক্ষ লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন?
- প্রকাশের সময় : ০৯:৩১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 4
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এর আড়ালে অর্থনীতি, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও জোরালো হচ্ছে। তবে দুই দেশ সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই।
আরব উইকলি ও এশিয়া টাইমস থেকে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার চীন। যুদ্ধের আগে চীনের মোট তেল আমদানির ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ আসত ইরান থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চীনা ক্রয় ইরানের রাজস্ব আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে কাজ করছে।
ইরানের তেল বাণিজ্য ও সংবেদনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চীনা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও পরিবহন নেটওয়ার্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। এ ছাড়া ইরানের পারমাণবিক গবেষণা ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে কাজে লাগতে পারে, এমন প্রযুক্তি সংগ্রহে চীন-সংশ্লিষ্ট কিছু নেটওয়ার্কের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চীনা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে ইরানে দ্বৈত ব্যবহারের উপযোগী যন্ত্রাংশ পাঠানোর বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে। এসব উপকরণ বেসামরিক কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি সামরিক ব্যবস্থায়ও কাজে লাগতে পারে। তবে ইরানে চীনের সরাসরি সামরিক সহায়তার বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত নয়। চীনও সংশ্লিষ্ট কিছু অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
জ্বালানি নিরাপত্তাও দুই দেশের হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে চীনের তেল সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই তেহরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা টিকে থাকুক, আবার উপসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতও না চলুক, এমন পরিস্থিতি চায় বেইজিং।
চীন ইরানকে কূটনৈতিক সমর্থন দিলেও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে তেহরানের প্রতি বেইজিংয়ের সমর্থনেরও সীমা আছে।
বিশ্লেষকের মতে, ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক শক্তির কার্যকারিতা এবং চীনের অর্থনৈতিক প্রভাবের সক্ষমতা, দুটিকেই পরীক্ষা করছে। এ সংঘাত ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও বিস্তৃত করতে পারে।
সূত্র: আরব উইকলি, এশিয়া টাইমস






















